মহাশিবরাত্রি ব্রত কি? ব্রত পালনের গুরুত্ব এবং উপবাসের পদ্ধতি - সেরা-সংগ্রহ.কম
X

Tuesday, July 16, 2013

মহাশিবরাত্রি ব্রত কি? ব্রত পালনের গুরুত্ব এবং উপবাসের পদ্ধতি

মহা শিবরাত্রিঃ গুরুত্ব ও উপবাসের পদ্ধতি




শিবভক্তদের কাছে মহা শিবরাত্রির গুরুত্ব অপরিসীম। শিব পুরান অনুসারে ভক্তিভরে সব আচার-অনুষ্ঠান মেনে শিবরাত্রির ব্রত পালন করলে মহাদেব সবচেয়ে বেশি সন্তুষ্ট হন। প্রতি বছর হাজার হাজার পূণ্যার্থী ভক্তি ও নিষ্ঠার সঙ্গে শিবরাত্রি ব্রত পালন করে থাকেন। অনেকে সারাদিন ফল ও দুধ খেয়ে থাকেন, অনেকে আবার পুরো ২৪ ঘণ্টা খাবার তো দূরের কথা, এক ফোঁটা জলও মুখে দেন না।


হিন্দু পুরাণ অনুসারে ভক্তি ও নিষ্ঠার সঙ্গে শিবরাত্রি পালন করলে রজোঃগুণ ও তমঃগুণ নিয়ন্ত্রণে থাকে। যখন একজন পূণ্যার্থী সারা দিন ভগবান শিবের চরণতলে বসে তাঁর নামগান করে কাটান, তখন তাঁর মন থেকে সমস্ত রাগ, হিংসা, পাপ মুছে গিয়ে মন নির্মল হয়ে ওঠে। আর যখন সারা রাত শিবের পূজার্চনা করে কাটান, তখন তমঃগুণের সমস্ত খারাপ প্রভাবকে জয় করতে সক্ষম হন তিনি। এদিন প্রতি তিন ঘণ্টা অন্তর শিব পুজো করলে শিবরাত্রির ব্রত সম্পূর্ণ হয়। শিবভক্তদের কাছে মহা শিবরাত্রির উপবাস অত্যন্ত পবিত্র। এমনকি অশ্বমেধ যজ্ঞ করলে যে পূণ্য অর্জন হয়, ভক্তি ও নিষ্ঠার সঙ্গে শিবরাত্রির ব্রত পালন করলে তার থেকে বেশি পূণ্য অর্জন হয় বলে হিন্দু ধর্মের বিশ্বাস। শিবরাত্রির সমস্ত নিয়ম-আচার পালন করে যিনি ভক্তিভরে শিবের নাম (ওম নমঃ শিবায়) নেবেন, তাঁর সারা জীবন সুখ ও শান্তিতে কাটবে। তিনি জন্ম-মৃত্যর চক্র থেকেও মুক্তি পাবেন।



প্রথা অনুযায়ী, মহা শিবরাত্রিতে একজন শিবভক্ত কালো তিলের সঙ্গে ফোটানো জলে স্নান করে নতুন বস্ত্র পরিধান করবেন। তারপর শিব মন্দিরে গিয়ে দুধ ও মধু দিয়ে শিবলিঙ্গকে ধৌত করবেন। তার সঙ্গে তাঁর মনের সমস্ত পাপ ও অন্ধকার দূর করে তাঁকে জ্ঞানের স্রোতে স্নান করানোর আবেদন রাখবেন মহাদেবের কাছে। এরপর শিবলিঙ্গের গায়ে হলুদ-কুমকুমের প্রলেপ লাগাতে হবে। লিঙ্গে চারপাশে জড়িয়ে দিতে হবে সাদা ও গোলাপী পদ্মের মালা। শিবলিঙ্গের মাথায় তাকবে বেলপাতা। শিবের বন্দনায় আরতি ও ভজন করতে হবে এবং যুক্তকরে মহাদেবের আশীর্বাদ প্রার্থনা করতে হবে। কোমল হৃদয় মহাদেবের অনুকম্পা লাভ করতে মন্দিরে ধূপকাঠি জ্বালিয়ে ঘণ্টা বাজাতে হবে।

অন্য বেশিরভাগ পুজোতে পুজো সাঙ্গ হওয়ার পর খাওয়া-দাওয়ার একটা পর্ব থাকে। শিবরাত্রি ব্রততে উপবাস চলে সারা দিন ও সারা রাত। মহাদেবের নামে ভজন-সাধনা করে সারা রাত জাগতে হবে পূণ্যার্থীকে। রাতেরও প্রতি তিন ঘণ্টা অন্তর শিবলিঙ্গকে সকালের মতো একই ভাবে ধৌত করতে হবে। পরের দিন সকালে প্রসাদ খেয়ে উপবাস ভঙ্গ করতে পারবেন পূণ্যার্থী।