মেহেদী সম্রাট এর গল্পাণুঃ চোর - সেরা-সংগ্রহ.কম
X

Thursday, February 25, 2016

মেহেদী সম্রাট এর গল্পাণুঃ চোর

মেহেদী সম্রাট এর গল্পাণুঃ

চোর...




চারদিক স্তব্ধ । সুনসান নিরবতা ।সবাই উন্মুখ হয়ে আছে বিচারের রায় শোনার জন্য। বিচার হচ্ছে চুরির। আরাম কেদারায় আয়েশি ভঙ্গিতে বসে আছে বিচারক সালামত মেম্বার । ঠিক তার পায়ের কাছেই মাটিতে বসে আছে মন্টু চোরা । গত রাতেই সে ধরা পড়েছে।

উত্তর পাড়ার মকবুল মহাজনের ঘর থেকে পুরো এক বস্তা চাল নিয়ে পালাচ্ছিল সে । পালাবার সময় মাথা ঘুরে পড়ে গেছে বলেই তাকে ধরা গেছে। একেবারে বস্তার নিচে চাপা পড়ে ছিলো । আর তখনি লোকজন দেখতে পেয়ে ধরলো তাকে । তারপর একচোট বেদম উত্তম মাধ্যম তো হলোই ।

মকবুল মহাজনের ভাষায়,--
"শালা একটা নিমক হারামের বাচ্চা । আমার জমি বরগা চষে খায়, আর আমার ঘরেই চুরি করে । প্রতি বছর মোট ফসলের পাঁচের এক অংশ দেই বলেই তো খেয়ে পরে বেঁচে আছে । তবুও বলে কিনা তাকে তিনের এক দিতে হবে...!! এমনকি এও বলে যে, সে চাষ করে বলে তার অর্ধেক ফসল প্রাপ্য..!! শালা কত বড় নিমক হারাম । আমি জমি না দিলে তো না খেতে পেয়ে মরতি । তবুও শোকর নাই । ফকিন্নির বাচ্চাদের এই এক সমস্যা । এদের মন ভরে না । শুধু আরো চাই, আরো চাই ।"

মন্টু চোরার কঠিন শাস্তি দাবি করে তাকে মেম্বারের হাতে তুলে দিয়েছে মহাজনের লোকজন । মন্টু কে দেখেই বোঝা যাচ্ছে যে কি পরিমান মারের ধকল তার উপর দিয়ে গেছে । একেবারে বিপর্যস্ত অবস্থা । মন্টু একবার ভাবে সবাইকে খুলে বলে যে, সে এবং তার পরিবার গত কয়েকদিন ধরেই উপোস । কাল বিকেলে তার ছোট মেয়েটা প্রচন্ড ক্ষুধা সইতে না পেরে অজ্ঞান হয়ে যায় । তবু সে একমুঠো চাল যোগাড় করতে পারেনি । এমনকি কেউ ধার পর্যন্ত দিতে চায়নি তাকে ।

 পুরো বছর কষ্ট করে সে মহাজনের জমি চষে । বছর শেষে সব ফসল মহাজনের গোলায় ওঠে । তাকে যেটুকু দেয়া হয়, তা তিন মাসেই শেষ । এরপরের দিনগুলো তার এবং তার পরিবারের জন্য হয়ে ওঠে দুর্বিষহ। তাই সে বাধ্য হয়েই চুরি করতে গিয়েছিলো মহাজনে বাড়িতে । করেও ছিল সে। কাকপক্ষীও টের পায়নি । কিন্তু কয়েকদিনের উপোসী দেহে সে ঐ বস্তার ভার বইতে পারেনি । আচমকা মাথা ঘুরে পড়ে গেছে।

এরপরের ঘটনা তো সবাই জানে । পরক্ষনেই মন্টু ভাবে এদের বলে কোন লাভ নেই । এরা কেউ তার কথা বিশ্বাস করবে না । কারণ এরা সবাই উদর পূর্তি করে এসেছে । তাই সালামত মেম্বারের পায়ের কাছে বসা মন্টু মিয়াও সকলের মত স্তব্ধ হয়ে অপেক্ষা করছে রায় শোনার জন্য । সে মনে মনে প্রত্যাশা করছে তাকে যেন মৃত্যুদণ্ডই দেয়া হয়..!

Post Top Ad


Download

click to begin

6.0MB .pdf