মেহেদী সম্রাট এর অণুগল্প - নষ্টভ্রুন - সেরা-সংগ্রহ.কম
X

Monday, March 21, 2016

মেহেদী সম্রাট এর অণুগল্প - নষ্টভ্রুন

'নষ্টভ্রুণ'

- মেহেদী সম্রাট





প্রচন্ড ভয় পেয়ে ঘুম থেকে ধড়ফড়িয়ে উঠে বসলো বুলেট। রাত তখন ২টা ৭ মিনিট। বিছানার পাশে টেবিলে রাখা জগ থেকে এক নিঃশ্বাসে প্রায় এক লিটার পানি খেয়ে নিলো। দরদর করে ঘামছে সে। কোন ভাবেই হিসেব মিলছে না তার। এসব কি হচ্ছে তার সাথে..!!

ক'দিন ধরেই অদ্ভুত ভয়ঙ্কর স্বপ্নটা দেখছে বুলেট। স্বপ্নে প্রচন্ড অন্ধকারের মধ্য থেকে বেরিয়ে আসে একটা আলোকিত বস্তু। অদ্ভুত সেই বস্তুটা। উজ্জল আলোকরশ্মি নির্গত হয় সেটার শরীর থেকে। ঠিক যেন মানুষের ছোট বাচ্চা। তবে শরীরটা যেন গড়ে ওঠেনি এখনো পুর্ণাঙ্গভাবে। অগঠিত মানব শিশুর শরীরের আকৃতির একটা মাংসপিণ্ড বলা যায় সেটাকে..! সেটা এগিয়ে আসে বুলেটের দিকে। তখনি রক্তক্ষরণ শুরুহয় মাংসপিণ্ডটা থেকে। আর ভয়ঙ্কর আর্তনাদ করতে থাকে ওটা। তারপর চেপে বসে বুলেটের বুকের উপর।
ওটার রক্তে প্রায় ভেসে যেতে থাকে বুলেটের শরীর। ক্ষুদ্র ঐ মাংসপিণ্ডটার প্রচণ্ড শক্তির কাছে পুরোপুরি পরাস্থ হয় বুলেট। নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসে তার। বুঝতে পারে নিশ্চিত মারা যাচ্ছে। আর ঠিক তখনই ঘুম ভেঙে ধড়ফড়িয়ে উঠে বসে বুলেট। প্রায় প্রতিরাতেই অদ্ভুত ভয়ঙ্কর এই স্বপ্নটা তারা করে ফিরছে তাকে।

বালিশের নিচ থেকে সিগারেটের প্যাকেটটা নিয়ে বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ালো। একে একে বেশ কয়েকটি সিগারেট ধরালো পরপর। এখনো ঘামছে সে। বারান্দার গ্রীলের ভেতর দিয়ে তাকায় দূর আকাশের দিকে। স্মৃতির পাতা হাতড়ে ফিরে যায় চার বছর আগের কোন একটা সময়ে...

মহল্লার উঠতি সন্ত্রাসী হিসেবে তখন সবেমাত্র পরিচিত হয়ে উঠেছে বুলেট। একটা মেয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্ক ছিলো তার। নাম সুমি। পাগলের মত ভালোবাসতো মেয়েটা তাকে। তাকে ফিরিয়ে নিতে চাইতো সন্ত্রাসের জগৎ থেকে। তবে পাত্তা দিতো না বুলেট। সে চাইতো মহল্লার মানুষ তার নাম শুনলে ভয় পাক। তবুও হাল ছাড়েনি সুমি। তার বিশ্বাস ছিলো সে পারবেই বুলেটকে সন্ত্রাসের পথ থেকে ফিরিয়ে আনতে। কিন্তু বুলেট ফন্দি আটলো। সে ভোগ করতে চাইলো নিষ্পাপ সুমির কোমল শরীরটাকে!

তাই সে সুমিকে ব্লাকমেইল করলো। সন্ত্রাস থেকে ফিরে আসার বিনিময়ে সে সুমির শরীর চাইলো । সহজ
সরল সুমিও ভালোবাসার মানুষটার কাছে সঁপে দিলো
নিজেকে। তারপরও ফিরে আসেনি বুলেট। সন্ত্রাস ছাড়েনি। এমনকি বিয়ের প্রলোভনে বারবার মেয়েটাকে ধর্ষণ করলো। এবং একসময় ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা সুমিকে খুন করে ফেলে দিলো বুড়িগঙ্গায়..! 

কেউ জানলো না তার সম্পর্কে। এরপরে কয়েকটা বছর নির্বিঘ্নেই পেরিয়ে গেলো । আগে বছরে দু'একবার দেখতো স্বপ্নটা। কিন্তু এখন প্রতিনিয়ত দেখেছে। তার কেন জানি মনে হচ্ছে, ওটা সুমির গর্ভের সেই ভ্রুণ । তারই ঔরসজাত। সে ই পৃথিবীতে আসতে দেয়নি ওটাকে। মায়ের পেটের মধ্যে থাকতেই খুন করে দিয়েছে। নষ্ট করে দিয়েছে ভ্রুণ টাকে।

শেষ সিগারেট টা ধরায় বুলেট। তার মনে হতে থাকে মৃত্যুর খুব সন্নিকটে এসে পরেছে সে!! বুলেট ঠিকই বুঝতে পারছে স্বপ্নের ঐ নষ্টভ্রুণ এর হাতেই মৃত্যু নিশ্চিত তার। কারণ 'পাপ যে বাপকেও ছাড়ে না'।

Post Top Ad


Download

click to begin

6.0MB .pdf