মেহেদী সম্রাট এর অণুগল্প - শান্ত - সেরা-সংগ্রহ.কম
X

Monday, April 18, 2016

মেহেদী সম্রাট এর অণুগল্প - শান্ত

শান্ত

মেহেদী সম্রাট



'
.
আজ শান্ত'র জন্মদিন। ওর বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন, পরিচিতজনরা এদিনে অনেকেই ওকে দেখতে যায়। কারো হাতে থাকে রজনীগন্ধা, কারো হাতে গোলাপ। আজো এর ব্যাতিক্রম হবে না। পরিচিতজনদের প্রায় সকলেই আজ জন্মদিনে শান্তকে শুভেচ্ছা জানাতে যাবে।
.
'শান্ত' এখন বাংলা সাহিত্যের পরিচিত একটা নাম। এরজন্য শান্তকে অনেক স্ট্রাগল করতে হয়েছে। প্রথম দিকে যখন লিখতো, নিত্য উপহাস তখন ওর সঙ্গী ছিলো। সে হোক বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন, পরিবার, প্রেমিকা কিংবা পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদক। কেউ বলতো পাগল, কেউ নিষ্কর্মার ঢেঁকি আরও নানান কিছু বলতো মানুষ। বড় বড় পত্রিকার সম্পাদকরা কখনো কখনো ওর লেখা না পড়েই ছুড়ে ফেলতো। তখন শান্ত'র বুকের ভিতরটা হু হু করে উঠতো। শান্ত ভাবতো, তার সৃষ্টিকে তারই সামনে ছুড়ে না ফেললেই কি এমন ক্ষতি হতো সম্পাদক সাহেবের...!!
.
শান্ত'র প্রেমিকা। সেই একমাত্র নিভৃত পাঠক ছিলো তার লেখার। শান্ত যখনি কোন নতুন লেখার জন্ম দিতো, তখনি ছুটে যেত প্রেমিকার সাথে দেখা করতে। কখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন গাছতলে। কখনো পার্কের বেঞ্চিতে। কখনো সড়ক বাতির নিয়ন আলোয় রোড আইলেন এর উপর বসে। শান্ত আপন মনে তার লেখা পাঠ করতো। তার প্রেমিকা সব শুনতো। এরপর শান্ত'র লেখা পাঠ যখন শেষ হতো, তখন প্রতেকবারের মতো ধীরস্থীর ভাবে শান্তর চুলে হাত বুলাতে বুলাতে বলতো, ''কি হবে এসব লিখে-টিখে..?? ক'জন মানুষইবা পড়বে এসব..? ক'জনই বা চিনবে তোমাকে..?? তার থেকে বলি কি, এসব ছেড়েছুড়ে দিয়ে একটু ভবিষ্যতের দিকে মনযোগী হও। কিছু একটা করো। এভাবে আর কতদিন।" শান্ত মিটিমিটি হাসতো প্রেমিকার কথা শুনে। শেষের দিকে এ কথাগুলো প্রায় ওর মুখস্তই হয়ে গেছিলো.!!
.
এর বেশ কয়েক বছর পর শান্ত বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠলো। তার লেখা নিয়ে পাঠকদের সেকি উল্লাস.! বইমেলায় তার গোটা দুয়েক বইও বেরিয়েছিলো। দুটোই বেস্টসেলার। দেশের সব বড়বড় পত্রিকায় ওর লেখা নিয়মিত প্রকাশ হতে লাগলো। তখন অনেকেই একনামে চেনে শান্তকে। শান্তকে নিয়ে গর্বও করে কেউ কেউ। ওর প্রেমিকাও। নিয়মিত লেখার জন্য শান্তকে বেশ তাগিদও দিতো তখন সে।
এরই মধ্যে হঠাৎ একদিন প্রচণ্ড অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলো শান্ত। ওর ডাক্তার বন্ধু অশ্রুসিক্ত চোখে জানালো ওর ক্যান্সার ধরা পরেছে। মুচকি হাসলো শান্ত। অস্ফুট স্বরে বললো, 'পৃথিবীও আজ উপহাস করছে আমার সঙ্গে..!' সে কাউকে জানতে দিলো না তার ক্যান্সার এর কথা। ওদিকে ওর ক্যান্সার তখন গ্রেড থ্রি তে পৌঁছে গেল। ও বুঝতে পারলো আর কয়েকটা দিন বাঁচবে মাত্র। শান্তর ধরণা ঠিকই ছিলো।
.
আজ ওর জন্মদিন। অনেকেই তাকে শ্রদ্ধা জানাতে আসছে। শান্ত'র কবরের বেদিতে আজ ফুলের স্তুপ। বেশ কিছু মরণোত্তর পুরুষ্কারও সে পেয়েছে। আজ তার প্রেমিকাও আসবে প্রতিবারের মতো। সঙ্গে থাকবে স্বামী আর ফুটফুটে সন্তান। কবরের উপর ফুল রেখে বেশ কিছুক্ষন অঝোরে কাঁদবে। তারপর একসময় ফিরে যাবে ।
এসব ঘটনার সাথে শান্ত এবং তার কবরটা বেশ পরিচিত হয়ে গেছে আজকাল....