সালাতের ওয়াক্তসমূহ ১ (৪৯৭-৫৩৭)

হাদিস ৪৯৭
আবদুল্লাহ্ ইবনু মাসলামা (রহঃ) ইবনু শিহাব (রহঃ) থেকে বর্ণিত, উমর ইবনু আবদুল আযীয (রাঃ) একদিন কোন এক সালাত (নামায/নামাজ) আদায়ে বিলম্ব করলেন। তখন উরওয়া ইবনু যুবাইর (রাঃ) তাঁর কাছে গেলেন এবং তাঁর কাছে বর্ণনা করলেন যে, ইরাকে অবস্থানকালে মুগীরা ইবনু শু’বা (রাঃ) একদিন এক সালাত (নামায/নামাজ) আদায়ে বিলম্ব করেছিলেন। ফলে আবূ মাসঊন আনসারী (রাঃ) তাঁর নিকট গিয়ে বললেন, হে মুগীরা! একি? তুমি কি অবগত নও যে, জিবরাঈল (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অবতরন করে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন, আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। আবার তিনি সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। পুনরায় তিনি সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। আবার তিনি সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। পুনরায় তিনি সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। তারপর জিবরাঈল (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এরই জন্য আমি আদিষ্ট হয়েছি। উমর ইবনু আবদুল আযীয) (রহঃ) উরওয়া (রহঃ)- কে বললেন, “তুমি যা রিওয়ায়াত করছ তা একটু ভেবে দেখ। জিবরাঈলই (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য সালাত (নামায/নামাজ)-এর ওয়াক্ত নিধারন করে দিয়েছিলেন?” উরওয়া (রহঃ) বললেন, বাশীর ইবনু আবূ মাসউদ (রহঃ) তার পিতা থেকে এরূপই বর্ণনা করতেন। উরওয়া (রহঃ) বলেনঃ অবশ্য আয়িশা (রাঃ) আমার কাছে বর্ননা করেছেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন মুহূর্তে আসরের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন যে, সূর্যেরশ্মি তখনও তাঁর হুজরার মধ্যে বিরাজমান থাকত। তবে তা উপরের দিকে উঠে যাওয়ার আগেই।

হাদিস ৪৯৮
কুতাইবা ইবনু সায়ীদ (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার আবদুল কায়স গোত্রের একটি প্রতিনিধি দল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম – এর দরবারে এসে বলল, আপনার ও আমাদের মাঝে সে ‘রাবীআ’ গোত্র থাকায় শাহ্রে হারাম (নিষিদ্ধ মাসসমূহ) ছাড়া অন্য কোন সময় আমরা আপনার নিকট আসতে পারি না। কাজেই আপনি আমাদের এমন কিছু নির্দেশ দিন যা আমরা নিজেরাও গ্রহণ করব এবং যারা পিছনে রয়ে গেছে তাদের প্রতিও আহবান জানাব। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি তোমাদের চারটি বিষয়ে নির্দেশ দিচ্ছি, আর চারটি বিষয় থেকে তোমাদের নিষেধ করছি। নির্দেশিত বিষয়ের মাঝে একটি হল ‘ঈমান বিল্লাহ্’ (আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা)। তারপর তিনি তাদেরকে ব্যাখ্যা করে বুঝালেন যে, ‘ঈমান বিল্লাহ্’ অর্থ হল, এ কথার সাক্ষ্য দেওয়া যে, এক আল্লাহ্ ব্যাতিত অন্য কোন ইলাহ্ নেই আর আমি আল্লাহর রাসূল, সালাত (নামায/নামাজ) কায়েম করা, য়াকাত দেওয়া, আর গনীমতের মালের এক-পঞ্চমাংশ দান করা। আর তোমাদের নিষেধ করছি কদুর পাত্র, সবুজ রঙের মাটির পাত্র, বিশেষ ধরনের তৈলাক্ত পাত্র ও গাছের গুড়ি খোদাই করে তৈরী পাত্র ব্যবহার করতে।

হাদিস ৪৯৯
মুহাম্মাদ ইবনুল মুছান্না (রহঃ) জারীর ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম – এর নিকট সালাত (নামায/নামাজ) আদায়, যাকাত প্রদান এবং প্রত্যেক মুসলমানকে নসীহত করার বায়আত গ্রহন করেছি।

হাদিস ৫০০
মূসা’দ্দাদ (রহঃ) হুযাইফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমরা উমর (রাঃ) – এর কাছে বসা ছিলাম। তখন তিনি বললেন, ফিতনা সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম – এর বক্তব্য তোমাদের মধ্যে কে স্মরণ রেখেছ? হযরত হুযাইফা (রাঃ) বললেন, ‘যেমনি তিনি বলেছিলেন হুবহু তেমনই আমি মনে রেখেছি’। উমর (রাঃ) বললেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম – এর বাণী স্মরণ রাখার ব্যপারে তুমি খুব দৃঢ়তার পরিচয় দিচ্ছ। আমি বললাম, (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন) মানুষ নিজের পরিবার-পরিজন, ধন-সম্পদ, সন্তান-সন্ততি, পাড়া-প্রতিবেশীদের ব্যাপারে যে ফেতনায় পতিত হয় -সালাত (নামায/নামাজ), সিয়াম, সাদাকা, (ন্যায়ের) আদেশ ও (অন্যায়ের) নিষেধ তা দূরীভূত করে দেয়। হযরত উমর (রাঃ) বললেন, তা আমার উদ্দেশ্যে নয়। বরং আমি সেই ফিতনার কথা বলছি, যা সমুদ্র তরঙের ন্যায় ভয়াল হবে। হুযাইফা (রাঃ) বললেন, হে আমীরুল মু’মিনীন! সে ব্যাপারে আপনার ভয়ের কোন কারন নেই। কেননা, আপনার ও সে ফিতনার মাঝখানে একটি বন্ধ দরজা রয়েছে। হযরত উমর (রাঃ) জিজ্ঞাসা করলেন, সে দরজাটি ভেঙ্গে ফেলা হবে, না খুলে দেওয়া হবে? হুযাইফা (রাঃ) বললেন, ভেঙ্গে ফেলা হবে। উমর (রাঃ) বললেন, তাহলে তো আর কোন দিন তা বন্ধ করা যাবে না। [হুযাইফা (রাঃ) – এর ছাত্র শাকীক (রহঃ) বললেন], আমরা জিজ্ঞাসা করলাম, হজরত উমর (রাঃ) কি সে দরজাটি সম্পর্কে জানতেন? হুযাইফা (রাঃ) বললেন, হ্যাঁ, দিনের পূর্বে রাতের আগমন যেমন সুনিশ্চিত, তেমনি নিশ্চিতভাবে তিনি জানতেন। কেননা আমি তার কাছে এমন একটি হাদিস বর্ণনা করেছি, যা মোটেও ভুল নয়। (দারজাটি কী) এ বিষয়ে হুযাইফা (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করতে আমরা ভয় পাছিলাম। তাই, আমরা মাসরূক (রহঃ) – কে বললাম এবং তিনি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেন, দরজাটি উমর (রাঃ) নিজেই।

হাদিস ৫০১
কুতাইবা (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যাক্তি জনৈক মহিলাকে চুম্বন করে বসে। পরে সে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - এর আছে এসে বিষয়টি তাঁর গোচরীভূত করে। তখন আল্লাহ্তা’আলা আয়াত নাযিল করেনঃ “দিনের দু’প্রান্তে-সকাল ও সন্ধ্যায় এবং রাতের প্রথম অংশে সালাত (নামায/নামাজ) কায়েম কর। নিশ্চয়ই ভাল কাজ পাপাচারকে মিটিয়ে দেয়”। লোকটি জিজ্ঞাস করল, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! এ কি শুধু আমার বেলায়? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার সকল উম্মাতের জন্যই।

হাদিস ৫০২
আবূল ওয়ালীদ হিশাম ইবনু আবদুল মালেক (রহঃ) আবূ আমর শায়বানী (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ)- এর বাড়ীর দিকে ইশারা করে বলেন, এ বাড়ীর মালিক আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - কে জিজ্ঞাসা করলাম, কোন্ আমল আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয়? তিনি বললেন, ‘যথাসময়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করা। ইবনু মাসঊদ (রা পুনরায় জিজ্ঞাসা করলেন, এরপর কোনটি? তিনি বললেন, এরপর পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার। ইবনু মাসঊদ (রাঃ) আবার জিজ্ঞাসা করলেন, এরপর কোনটি? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এরপর জিহাদ ফী সাবীলিল্লাহ্ (আল্লাহর পথে জিহাদ)। ইবনু মাসঊদ (রাঃ) বলেন, এগুলো তো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেনই, যদি আমি আরও বেশী জানতে চাইতাম, তাহলে তিনি আরও বলতেন।

হাদিস ৫০৩
ইব্রাহীম ইবনু হামযা (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম – কে বলতে শুনেছেন, “বলত যদি তোমাদের কারো বাড়ীর সামনে একটি নদী থাকে, আর সে তাতে প্রত্যহ পাঁচবার গোসল করে, তাহলে কি তার দেহে কোন ময়লা থাকবে?” তারা বললেন, তার দেহে কোনরূপ ময়লা বাকী থাকবে না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এ হল পাঁচ ওয়াক্ত সালাত (নামায/নামাজ)-এর উদাহরণ। এর মাধ্যমে আল্লাহ তা’আলা (বান্দার) গুনাহসমূহ মিটিয়ে দেন।

হাদিস ৫০৪
মূসা ইবনু ইসমায়ীল (রহঃ) আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আজকাল কোন জিনিসই সে অবস্থায় পাই না, যেমন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম – এর যুগে ছিল। প্রশ্ন করা হল, সালাত (নামায/নামাজ)ও কি? তিনি বললেন, সে ক্ষেত্রেও যা হক নষ্ট করার তা-কি তোমরা করনি?

হাদিস ৫০৫
আমর্ ইবনু যুরারা (রহঃ) যুহরী (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি দামেশ্কে আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হলাম, তিনি তখন কাঁদছিলেন। আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি কাঁদছেন কেন? তিনি বললেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর যুগে যা কিছু পেয়েছি তার মধ্যে কেবলমাত্র সালাত (নামায/নামাজ) ছাড়া আর কিছুই বহাল নেই। কিন্তু সালাত (নামায/নামাজ)কেও নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। বাকর (রহঃ) বলেন, আমার কাছে মুহাম্মাদ ইবনু বকর বুরসানী (রহঃ) উসমান ইবনুু্ আবূ রাওওয়াদ (রহঃ) সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

হাদিস ৫০৬
মুসলিম ইবনুু্ ইবরাহিম (রহঃ) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন সালাত (নামায/নামাজ) দাঁড়ায়, তখন সে তার প্রতিপালকের সঙ্গে গোপনে কথা বলে। কাজেই, সে যেন ডানদিকে থুথু না ফেলে, তবে (প্রয়োজনে) বাম পায়ের নীচে ফেলতে পারে। আর শু'বা (রহঃ) বলেন, সে জেন কিবলার দিকে অথবা ডান দিকে থুথু না ফেলে, কিন্তু বামদিকে অথবা পায়ের তলায় ফেলতে পারে।

হাদিস ৫০৭
হাফ্স ইবনু উমর (রহঃ) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা সিজদায় মধ্যপন্থা অবলম্বন কর। তোমাদের কেউ যেন তার বাহুদ্বয় বিছিয়ে না দেয় কুকুরের মত। আর যদি থুথু ফেলতে হয়, তাহলে সে যেন সামনে বা ডানে না ফেলে। কেননা, সে তখন তার প্রতিপালকের সঙ্গে গোপন কথায় লিপ্ত থাকে।

হাদিস ৫০৮
আয়্যূব ইবনু সুলাইমান (রহঃ) আবূ হুরায়রা ও আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন গরমের প্রচণ্ডতা বৃদ্ধি পায়, তখন গরম কমলে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করবে। কেননা, গরমের প্রচণ্ডতা জাহান্নামের নিঃশ্বাসের অংশ।

হাদিস ৫০৯
মুহাম্মদ ইবনু বাশ্শার (রহঃ) আবূ যার্র (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম – এর মুয়াজ্জ্বীন আযান দিলে তিনি বললেনঃ ঠান্ডা হতে দাও। অথবা তিনি বললেন, অপেক্ষা কর, অপেক্ষা কর। তিনি আরও বলেন, গরমের প্রচণ্ডতা জাহান্নামের নিঃশ্বাসের ফলেই সৃষ্টি হয়। কাজেই গরম যখন বেড়ে যায় তখন গরম কমলেই সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করবে। এমনকি (বিলম্ব করতে করতে বেলা এতটুকু গড়িয়ে গিয়েছিল যে) আমরা টিলাগুলোর ছায়া দেখতে পেলাম।

হাদিস ৫১০
আলী ইবনু আবদুল্লাহ মাদ্বীনী (রহঃ) আবূ হূরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন গরম বৃদ্ধি পায় তখন তোমরা তা কমে এলে (যুহরের) সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করো। কেননা, গরমের প্রচন্ডতা জাহান্নামের উত্তাপের অংশ। (তারপর তিনি বলেন), জাহান্নাম তার প্রতিপালকের কাছে এ বলে নালিশ করেছিল, হে আমার প্রতিপালক! (দহনের প্রচণ্ডতায়) আমার এক অংশ আরেক অংশকে গ্রাস করে ফেলেছে। ফলে আল্লাহ্তা’আলা তাকে দু’টি শ্বাস ফেলার অনুমতি দিলেন, একটি শীতকালে আর একটি গ্রীষ্মকালে। আর সে দু’টি হল, তোমরা গ্রীষ্মকালে যে প্রচণ্ঠ উত্তাপ এবং শীতকালে যে প্রচণ্ড ঠান্ডা অনুভব কর তাই।

হাদিস ৫১১
উমর ইবনু হাফ্স (রহঃ) আবূ সায়ীদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যুহরের সালাত (নামায/নামাজ) গরম কমলে আদায় কর। কেননা, গরমের প্রচন্ডতা জাহান্নামের উত্তাপ থেকে। সুফিয়ান, ইয়াহ্ইয়া এবং আবূ আওয়ানা (রহঃ) আ’মাশ (রহঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

হাদিস ৫১২
আদম ইবনু আবূ ইয়াস (রহঃ) আবূ যার্র (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক সফরে আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - এর সঙ্গে ছিলাম। এক সময় মুয়াজ্জ্বীন যুহরের আযান দিতে চেয়েছিল। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ গরম কমতে দাও। কিছুক্ষন পর আবার মুয়াজ্জ্বীন আযান দিতে চাইলে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (পুনরায়) বললেনঃ গরম কমতে দাও। এভাবে তিনি (সালাত (নামায/নামাজ) আদায়ে) এত বিলম্ব করলেন যে, আমার টিলাগুলোর ছায়া দেখতে পেলাম। তারপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ গরমের প্রচন্ডতা জাহান্নামের উত্তাপ থেকে। কাজেই গরম প্রচন্ড হলে উত্তাপ কমার পর সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করো। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, হাদীসে -- শব্দটি -- ঝুঁকে পড়া, গড়িয়ে পড়ার অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

হাদিস ৫১৩
আবূল ইয়ামান (রহঃ) আনাস ইবনুু্ মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন সূয ঢলে পড়লে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেরিয়ে এলেন এবং যুহরের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। তারপর মিম্বরে দাঁড়িয়ে কিয়ামত সম্বন্ধে আলোচনা করেন এবং বলেন যে, কিয়ামতে বহু ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটবে। এরপর তিনি বলেন, আমাকে কেউ কোন বিষয়ে প্রশ্ন করতে চাইলে করতে পারে। আমি যতক্ষন এ বৈঠকে আছি, এর মধ্যে তোমরা আমাকে যা কিছু জিজ্ঞাসা করবে আমি তা জানিয়ে দিব। এ শুনে লোকেরা খুব কাঁদতে শুরু করল। আর তিনি বলতে থাকলেনঃ আমাকে প্রশ্ন কর, আমাকে প্রশ্ন কর। এ সময় আবদুল্লাহ্ ইবনু হুযাইফা সাহমী (রাঃ) দাঁড়িয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, আমার পিতা কে? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার পিতা ‘হুযাইফা’। এরপর তিনি অনেকবার বললেনঃ আমাকে প্রশ্ন কর। তখন হযরত উমর (রাঃ) নতজানোু হয়ে বসে বললেন, “আমরা আল্লাহ্ কে প্রতিপালক হিসাবে, ইসলামকে দ্বীন হিসাবে এবং মুহাম্মদ – কে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিসাবে গ্রহণ করে সন্তুষ্ট। এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নীরব থাকলেন। কিছুক্ষণ পর বললেনঃ এক্ষুনি এ দেওয়ালের পাশে জান্নাত ও জাহান্নাম আমার সামনে তুলে ধরা হয়েছিল; এত উত্তম ও এত নিকৃষ্টের মত কিছু আমি আর দেখিনি।

হাদিস ৫১৪
হাফ্সা ইবনু উমর (রহঃ) আবূ বারযা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন সময় ফজরের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন, যখন আমাদের একজন তার পার্শ্ববর্তী আপরজনকে চিনতে পারত। আর এ সালাত (নামায/নামাজ) তিনি ষাট থেকে একশ আয়াত তিলাওয়াত করতেন এবং যুহরের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন যখন সূর্য পশিম দিকে ঢলে পড়ত। তিনি আসরের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন এমন সময় যে, আমাদের কেউ মদিনার শেষ প্রান্তে পৌছে আবার ফিরে আসতে পারত, তখনও সূর্য সতেজ থাকত। রাবী বলেন, মাগরিব সম্পর্কে তিনি [ আবূ বারযা (রা ] কী বলেছিলেন, আমি তা ভুলে গেছি। আর ইশার সালাত (নামায/নামাজ) রাতের এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত পিছিয়ে নিতে তিনি কোনরূপ দ্বিধাবোধ করতেন না। তারপর রাবী বলেন, রাতের অর্ধাংশ পর্যন্ত পিছিয়ে নিতে অসুবিধা বোধ করতেন না। আর মু’আয (রহঃ) বর্ণনা করেন যে, শু’বা (রহঃ) বলেছেন, পরে আবূল মিনহালের (রহঃ) সংগে সাক্ষাত হয়েছিল, সে সময় তিনি বলেছেন, রাতের এক তৃতীয়াংশ পর্যন্ত বিলম্ব করতে অসুবিধা বোধ করতেন না।

হাদিস ৫১৫
মুহাম্মদ ইবনু মুকাতিল (রহঃ) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম – এর পিছনে গরমের সময় সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতাম, তখন উত্তাপ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য কাপড়ের উপর সিজ্দা করতাম।

হাদিস ৫১৬
আবূ নু’মান (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনা অবস্থানকালে (একবার) যুহর ও আসরের আট রাকাআত এবং মাগরিব ও ইশার সাত রাকাআত একত্রে মিলিয়ে আদায় করেন। আয়্যূব (রহঃ) বলেন, সম্ভবত এটা বৃষ্টির রাতে হয়েছিল। জাবির (রহঃ) বললেন, সম্ভবত তাই।

হাদিস ৫১৭
ইবরাহিম ইবনু মুনযির (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন সময় আসরের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন যে, তখনো সূর্যেরশ্মি ঘরের বাইরে যায়নি।

হাদিস ৫১৮
কুতাইবা (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন সময় আসরের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেছেন যে, সূর্যেরশ্মি তখনো তাঁর ঘরের মধ্যে ছিল, আর ছায়া তখনো তাঁর ঘর থেকে বেরিয়ে পড়েনি।

হাদিস ৫১৯
আবূ নু’আইম (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসরের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন, আর সূর্যকিরণ তখনো আমার ঘরে থাকত। সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করার পরও পশ্চিমের ছায়া ঘরে দৃষ্টিগোচর হত না। আবূ আবদুল্লাহ [ইমাম বুখারী (রহঃ)] বলেন, ইমাম মালিক, ইয়াহ্ইয়া ইবনু সাঈদ, শুআইব ও ইবনু আবূ হাফস্ (রহঃ) উক্ত সনদে এ হাদীসটির বর্ণনায় সূর্যেরশ্মি আমার ঘরের ভিতরে থাকত, ঘরের মেঝে ছায়া নেমে আসেনি’ এরূপ বলেছেন।

হাদিস ৫২০
মুহাম্মদ ইবনু মুকাতিল (রহঃ) সায়্যার ইবনু সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার আমি ও আমার পিতা আবূ বারযা আসলামী (রাঃ) – কাছে গেলাম। আমার পিতা তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফরয সালাত (নামায/নামাজ)সমূহ কিভাবে আদায় করতেন? তিনি বললেন, আল-হাজীর, যাকে তোমরা আল-উলা বা যুহর বলে থাক, তা তিনি আদায় করতেন যখন সূর্য পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়ত। আর আসরের সালাত (নামায/নামাজ) এমন সময় আদায় করতেন যে, তারপর আমাদের কেউ মদিনার শেষ প্রান্তে তার ঘরে ফিরে যেতো সূর্য তখনও সতেজ থাকতো। মাগরিব সম্পর্কে তিনি কি বলেছিলেন তা আমি ভুলে গেছি। আর ইশার সালাত (নামায/নামাজ) যাকে তোমরা ‘আতামা’ বলে থাক, তা তিনি বিলম্বে আদায় করা পছন্দ করতেন। আর তিনি ইশার সালাত (নামায/নামাজ)-এর আগে নিদ্রা যাওয়া এবং পরে কথাবার্তা বলা অপছন্দ করতেন। তিনি ফজরের সালাত (নামায/নামাজ) এমন সময় সমাপ্ত করতেন যখন প্রত্যেকে তার পাশ্ববর্তী ব্যাক্তিকে চিনতে পারত। এ সালাত (নামায/নামাজ) তিনি ষাট থেকে একশ’ আয়াত তেলাওয়াত করতেন।

হাদিস ৫২১
আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামা (রহঃ) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - এর সঙ্গে আসরের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতাম। সালাত (নামায/নামাজ)-এর পর লোকেরা আওফ গোত্রের মহল্লায় গিয়ে তাদেরকে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করা অবস্থায় পেত।

হাদিস ৫২২
মুহাম্মদ ইবনু মুকাতিল (রহঃ) আবূ উমামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার আমরা উমর ইবনু আযীয (রহঃ)-এর সঙ্গে যুহরের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলাম। তারপর সেখান থেকে বেরিয়ে আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)- এর কাছে গেলাম। আমরা গিয়ে তাঁকে আসরের সালাত (নামায/নামাজ) আদায়ে রত পেলাম। আমি তাঁকে বললাম চাচা! এ কোন সালাত (নামায/নামাজ) যা আপনি আদায় করলেন? তিনি বললেন, আসরের সালাত (নামায/নামাজ) আর এ হল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সালাত (নামায/নামাজ), যা আমরা তাঁর সাথে আদায় করতাম।

হাদিস ৫২৩
আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা আসরের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতাম, তারপর আমাদের কোন গমনকারী কুবার দিকে যেত এবং সূর্য যথেষ্ট উপরে থাকতেই সে তাদের কাছে পৌঁছে যেত।

হাদিস ৫২৪
আবূল ইয়ামান (রহঃ) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসরের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন, আর সূর্য তখনও যথেষ্ট উপরে উজ্জ্বল অবস্থায় বিরাজমান থাকত। - এই বাংলা ট্রান্সেলেশনটি শুদ্ধ নয় (সাইট অ্যাডমিন)

হাদিস ৫২৫
আব্দুল্ললাহ্ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি কোন ব্যাক্তির আসরের সালাত (নামায/নামাজ) ছুটে যায়, তাহলে যেন তার পরিবার-পরিজন ও মাল-সম্পদ সব কিছুই ধ্বংস হয়ে গেল। আবূ আবদুল্লাহ (ইমাম বুখারী (রহঃ) বলেন, (আরবী পরিভাষায়) বাক্যটি ব্যবহার করা হয় যখন কেউ কাউকে হত্যা করে অথবা মাল-সম্পদ ছিনিয়ে নেয়।

হাদিস ৫২৬
মুসলিম ইবনু ইব্রাহীম (রহঃ) আবূ মালীহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক যুদ্ধে আমরা হযরত বুরাইদা (রাঃ) – এর সঙ্গে ছিলাম। দিনটি ছিল মেঘাচ্ছন্ন। তাই বুরাইদা (রাঃ) বলেন, শীঘ্র আসরের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে নাও। কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি আসরের সালাত (নামায/নামাজ) ছেড়ে দেয় তার আমল বিনষ্ট হয়ে যায়।

হাদিস ৫২৭
হুমাইদী (রহঃ) জরীর ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম – এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তিনি রাতে (পূর্ণিমার) চাঁদের দিকে তাকিয়ে বললেনঃ ঐ চাঁদকে তোমরা যেমন দেখছ, ঠিক তেমনি অচিরেই তোমাদের প্রতিপালককে তোমরা দেখতে পাবে। তাঁকে দেখতে তোমরা কোন ভীড়ের সম্মুখীন হবে না। কাজেই সূর্য উদয়ের এবং অস্ত যাওয়ার আগের সালাত (নামায/নামাজ) (শয়তানের প্রভাবমুক্ত হয়ে) আদায় করতে পারলে তোমরা তাই করবে। তারপর তিনি নিম্নোক্ত আয়াত পাঠ করলেন, “কাজেই তোমার প্রতিপালকের প্রশ্নংসার তাসবীহ্ পাঠ কর সূর্য উদয়ের আগে ও অস্ত যওয়ার আগে। ” ইসমাঈল (রহঃ) বলেন, এর অর্থ হল – এমনভাবে আদায় করার চেষ্টা করবে যেন কখনো ছুটে না যায়।

হাদিস ৫২৮
আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ফেরেশতাগণ পেলা বদল করে তোমাদের মাঝে আগমন করেন; একদল দিনে, একদল রাতে। আসর ও ফজরের সালাত (নামায/নামাজ) উভয় দল একত্র হন। তারপর তোমাদের মাঝে রাত যাপনকারী দলটি উঠে যান। তখন তাদের প্রতিপালক তাদের জিজ্ঞাসা করেন, আমার বান্দাদের কোন্ অবস্থায় রেখে আসলে? অবশ্য তিনি নিজেই তাদের ব্যাপারে সর্বাধিক পরিজ্ঞাত। উত্তরে তাঁরা বলেন; আমরা তাদের সালাত (নামায/নামাজ) রেখে এসেছি, আর আমরা যখন তাদের কাছে গিয়েছিলাম তখনও তারা সালাত (নামায/নামাজ) রত ছিলেন।

হাদিস ৫২৯
আবূ ন’আইম (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যদি সূর্য অস্ত যাওয়ার আগে আসরের সালাত (নামায/নামাজ)-এর এক সিজদা পায়, তাহলে সে যেন সালাত (নামায/নামাজ) পূর্ণ করে নেয়। আর যদি সূর্য উদিত হওয়ার আগে ফজরের সালাত (নামায/নামাজ)-এর এক সিজদা পায়, তাহলে সে যেন সালাত (নামায/নামাজ) পূর্ণ করে নেয়।

হাদিস ৫৩০
আবদুল আযীয ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) সালিম ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম – কে বলতে শুনেছেন যে, পুর্বেকার উম্মাতের স্থায়িত্বের তুলনায় তোমাদের স্থায়িত্ব হল আসর থেকে নিয়ে সূর্য অস্ত যাওয়ার মধ্যবর্তী সময়ের অনুরূপ। তাওরাত অনুসারীদেরকে তাওরাত দেওয়া হয়েছিল। তারা তদনুসারে কাজ করতে লাগল; যখন দুপুর হল, তখন তারা অপারগ হয়ে পড়ল। তাদের এক এক ‘কীরাত’ করে পারিশ্রমিক প্রদান করা হয়। তারপর ইনজীল অনুসারীদেরকে ইনজীল দেওয়া হল। তারা আসরের সালাত (নামায/নামাজ) পর্যন্ত কাজ করে অপারগ হয়ে পড়ল। তাদেরকে এক এক ‘কীরাত’ করে পারিশ্রমিক দেওয়া হল। তারপর আমাদেরকে কুরাআন দেওয়া হল। আমরা সূর্যাস্ত পর্যন্ত কাজ করলাম। আমদের দুই দুই ‘কীরাত’ করে দেওয়া হল। এতে উভয় কিতাবী সম্প্রদায় বলল, হে আমাদের প্রতিপালক! তাদের দুই দুই ‘কীরাত’ করে দান করেছেন, আর আমাদেরকে দিয়েছেন এক এক কীরাত করে; অথচ আমলের দিক দিয়ে আমরাই বেশী। আল্লাহ তা’আলা বললেনঃ তোমাদের পারিশ্রমিকের ব্যাপারে আমি কি তোমাদের প্রতি কোনরূপ যুলুম করেছি? তারা বলল, না। তখন আল্লাহ্ তা’আলা বললেনঃ এ হল, আমার অনুগ্রহ যাকে ইচ্ছা তাকে দেই।

হাদিস ৫৩১
আবূ কুরাইব (রহঃ) আবূ মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মুসলিম, ইয়াহূদী ও নাসারাদের উদাহারণ হল এরূপ, এক ব্যাক্তি একদল লোককে কাজে নিয়োগ করল, তারা তার জন্য রাত পর্যন্ত কাজ করবে। কিন্তু অর্ধদিবস পর্যন্ত কাজ করার পর তারা বলল, আপনার পারিশ্রমিকের আমাদের কোন প্রয়োজন নেই। সে ব্যাক্তি অন্য আরেক দল লোককে কাজে নিয়োগ করল এবং বলল, তোমরা দিনের বাকী অংশ কাজ কর, তোমরা আমার নির্ধারিত পারিশ্রমিক পাবে। তারা কাজ করতে শুরু করলে। যখন আসরের সালাত (নামায/নামাজ)-এর সময় হল, তখন তারা বলল, আমরা যা কাজ করেছি তা আপনার জন্য রেখে গেলাম। তারপর সে ব্যাক্তি আরেক দল লোককে কাজে নিয়োগ করল। তারা সূর্যাস্ত পর্যন্ত দিনের বাকী অংশ কাজ করল এবং সে দুই দলের পূর্ণ পারিশ্রমিক হাসিল করে নিল।

হাদিস ৫৩২
মুহাম্মদ ইবনু মিহারান (রহঃ) রাফি’ ইবনু খাদীজ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম – এর সঙ্গে মাগরিবের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে এমন সময় ফিরে আসতাম যে, আমাদের কেউ (তীর নিক্ষেপ করলে) নিক্ষিপ্ত তীর পতিত হওয়ার স্থান দেখতে পেত।

হাদিস ৫৩৩
মুহাম্মদ ইবনু বাশ্শার (রহঃ) মুহাম্মদ ইবনু আমর ইবনু হাসান ইবনু আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, মুহাম্মদ ইবনু আমর (রহঃ) বলেন, হাজ্জাজ ইবনু ইউসুফ) (মদিনা শরীফে) এলে আমরা জাবির ইবনু আবদুল্লাহ্ (রাঃ)-কে সালাত (নামায/নামাজ)-এর ওয়াক্ত সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলাম, (কেননা, হাজ্জাজ ইবনু ইউসুফ বিলম্ব করে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন)। তিনি বললেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের সালাত (নামায/নামাজ) প্রচন্ড গরমের সময় আদায় করতেন। আর আসরের সালাত (নামায/নামাজ) সূর্য উজ্জল থাকতে আদায় করতেন, মাগরিবের সালাত (নামায/নামাজ) সূর্য অস্ত যেতেই আর ইশার সালাত (নামায/নামাজ) বিভিন্ন সময়ে আদায় করতেন। যদি দেখতেন, সবাই সমবেত হয়েছেন, তাহলে সকাল সকাল আদায় করতেন। আর যদি দেখতেন, লোকজন আসতে দেরী করছে, তাহলে বিলম্বে আদায় করতেন। আর ফজরের সালাত (নামায/নামাজ) তাঁরা কিংবা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্ধকার থাকতে আদায় করতেন।

হাদিস ৫৩৪
মাক্কী ইবনু ইবরাহিম (রহঃ) সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সূর্য পর্দার আড়ালে ঢাকা পড়ে যাওয়ার সাথে সাথেই আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম – এর সঙ্গে মাগরিবের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতাম।

হাদিস ৫৩৫
আদম (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মাগরিব ও ইশার) সাত রাকআত ও (যুহর ও আসরের) আট রাকাআত একসাথে আদায় করেছেন।

হাদিস ৫৩৬
আবূ মা’মার আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রহঃ) আবদুল্লাহ মুযানী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বেদুঈনরা মাগরিবের সালাত (নামায/নামাজ)-এর নামের ব্যাপারে তোমাদের উপর যেন প্রভাব বিস্তার না করে। রাবী (আবদুল্লাহ মুযানী (রাঃ) বলেন, বেদুঈনরা মাগরিবকে ইশা বলে থাকে।

হাদিস ৫৩৭
আবদান (রহঃ) আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক রাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিয়ে ইশার সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেন, যে সালাত (নামায/নামাজ)কে লোকেরা ‘আতামা’ বলে থাকে। তারপর তিনি ফিরে আমাদের দিকে মুখ করে বললেন, আজকের এ রাত সম্পর্কে তোমরা জানো কি? এ রাত থেকে নিয়ে একশ’ বছরের শেষ মাথায় আজ যারা ভূপৃষ্ঠে আছে তাদের কেউ অবশিষ্ট থাকবে না।