হাদিস ২১৪
মুহাম্মদ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) ও মূসা’দ্দাদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক সালাত (নামায/নামাজ)-এর সময় উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতেন। আমি বললামঃ আপনারা কিরূপ করতেন? তিনি বললেনঃ হাদস (উযূ (ওজু/অজু/অযু) ভঙ্গের কারন) না হওয়া পর্যন্ত আমাদের (পূর্বের) উযূ (ওজু/অজু/অযু)ই যথেষ্ট হত।

হাদিস ২১৫
খালিদ ইবনু মাখলাদ (রহঃ) সুওয়ায়দ ইবনুু’ন-নু‘মান (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ খায়বার যুদ্ধের বছর আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে বের হলাম। সাহবা নামক স্থানে পৌঁছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিয়ে আসরের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। সালাত (নামায/নামাজ) শেষে তিনি খাবার আনতে বললেন। ছাতু ছাড়া আর কিছু আনা হল না। আমরা তা খেলাম এবং পান করলাম। তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাগরিবের জন্য দাঁড়িয়ে কুলি করলেন; তিনি (নতুন) উযূ (ওজু/অজু/অযু) করলেন না।

হাদিস ২১৬
উসমান (রহঃ) ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার মদিনা বা মক্কার কোন এক বাগানের কাছ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি এমন দু’ব্যাক্তির আওয়াজ পেলেন, যাদের কবরে আযাব হচ্ছিল। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এদের দু’জনকে আযাব দেওয়া হচ্ছে, অথচ কোন বড় গুনাহের জন্য এদের আযাব দেওয়া হচ্ছে না। তারপর তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, এদের একজন তার পেশাবের নাপাকি থেকে সতর্কতা অবলম্বন করত না। আর একজন চোগলখুরী করত। তারপর তিনি একটি খেজুরের ডাল আনালেন এবং তা ভেঙ্গে দু’খন্ড করে প্রত্যেকের কবরের উপর একখন্ড রাখলেন। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হল, ‘ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! এরূপ কেন করলেন?’ তিনি বললেনঃ হয়ত তাদের আযাব কিছুটা লাঘব করা হবে, যতদিন পর্যন্ত এ দু’টি না শুকায়।

হাদিস ২১৭
ইয়া’কুব ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রাকৃতিক প্রয়োজনে বের হলে আমি তাঁর কাছে পানি নিয়ে যেতাম। তিনি তা দিয়ে ইসতিন্জা করতেন।

হাদিস ২১৮
মুহাম্মদ ইবনুল মূসান্না (রহঃ) ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার দু’টি কররের কাছ দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় তিনি বললেনঃ এদের আযাব দেওয়া হচ্ছে, কোন কঠিন পাপের জন্য তাদের আযাব হচ্ছে না। তাদের একজন পেশাব থেকে সতর্ক থাকত না। আর অপরজন চোগলখুরী করে বেড়াত। তারপর তিনি একখানি কাঁচা খেজুরের ডাল নিয়ে ভেঙ্গে দু’ভাগ করলেন এবং প্রত্যেক কবরের ওপর একখানি পুঁতে দিলেন। সাহাবায়ে কিরাম (রাঃ) জিজ্ঞাসা করলেন, ‘ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! এরূপ কেন করলেন?’ তিনি বললেনঃ হয়তো তাদের থেকে (আযাব) কিছুটা লাঘব করা হবে, যতদিন পর্যন্ত এ’টি না শুকাবে। ইবনুল মূসান্না (রহঃ)-আ’মাশ (রহঃ) বলেনঃ আমি মুজাহিদ (রহঃ) থেকে অনুরূপ শুনেছি।

হাদিস ২১৯
মূসা ইবনু ইসমা’ঈল (রহঃ) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক বেদুঈনকে মসজিদে পেশাব করতে দেখলেন। তখন তিনি বললেনঃ ‘ওকে ছেড়ে দাও। ’ সে পেশাব শেষ করলে পানি আনিয়ে সেখানে পানি ঢেলে দিলেন।

হাদিস ২২০
আবূল ইয়ামান (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ এক বেদুঈন দাঁড়িয়ে মসজিদে পেশাব করে দিল। তখন লোকজন তাকে বাধা দিতে যাচ্ছিল। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বললেনঃ ওকে ছেড়ে দাও এবং ওর পেশাবের উপর এক বালতি পানি ঢেলে দাও। কারন তোমাদের সহজ ও বিনমর আচরণ করার জন্য পাঠানো হয়েছে, কঠোর আচরণের জন্য পাঠানো হয়নি।

হাদিস ২২১
আবদান (রহঃ) ও খালিদ ইবনু মাখলাদ (রহঃ) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ একবার এক বেদুঈন এসে মসজিদের এক কোণে পেশাব করে দিল। তা দেখে লোকজন তাকে ধমকাতে লাগল। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের নিষেধ করলেন। তার পেশাব শেষ হলে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম 'র আদেশে এর উপর এক বালতি পানি ঢেলে দেওয়া হল।

হাদিস ২২২
আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) উম্মুল মু’মিনীন আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে একটি শিশুকে আনা হল। শিশুটি তাঁর কাপড়ে পেশাব করে দিল। তিনি পানি আনালেন এবং এর ওপর ঢেলে দিলেন।

হাদিস ২২৩
আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) উম্মু কায়স বিনত মিহসান (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি তার এক ছোট ছেলেকে, যে তখনো খাবার খেতে শিখেনি, নিয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে এলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিশুটিকে তাঁর কোলে বসালেন। তখন সে তাঁর কাপড়ে পেশাব করে দিল। তিনি পানি আনিয়ে এর উপর ছিটিয়ে দিলেন এবং তা (ভাল করে) ধুইলেন না।

হাদিস ২২৪
আদম (রহঃ) হুযায়ফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার কওমের আবর্জনা ফেলার স্থানে এলেন। তিনি সেখানে দাঁড়িয়ে পেশাব করলেন। তারপর পানি চাইলেন। আমি তাঁকে পানি নিয়ে দিলাম। তিনি উযূ (ওজু/অজু/অযু) করলেন।

হাদিস ২২৫
উসমান ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) হুযায়ফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমার স্মরণ আছে যে, একবার আমিও নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক সাথে চলছিলাম। তিনি দেয়ালের পেছনে মহল্লার একটি আবর্জনা ফেলার জায়গায় এলেন। তারপর তোমাদের কেউ যেভাবে দাঁড়ায় সেভাবে দাঁড়িয়ে তিনি পেশাব করলেন। এ সময় আমি তাঁর কাছ থেকে সরে যাচ্ছিলাম কিন্তু তিনি আমাকে ইশারা করলেন। আমি এসে তাঁর পেশাব করা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁর পিছনে দাঁড়িয়ে থাকলাম।

হাদিস ২২৬
মুহাম্মদ ইবনু ‘আর ‘আরা (রহঃ) আবূ ওয়াইল (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আবূ মূসা (রাঃ) পেশাবের ব্যাপারে খুব কড়াকড়ি করতেন এবং বলতেনঃ বনী ইসরাঈলের কারো কাপড়ে (পেশাব) লাগলে তা কেটে ফেলত। হুযায়ফা (রাঃ) বললেন, আবূ মূসা (রাঃ) যদি এ থেকে বিরত থাকতেন (তবে ভাল হত)। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহল্লার আবর্জনা ফেলার স্থানে দাঁড়িয়ে পেশাব করেছেন।

হাদিস ২২৭
মুহাম্মদ ইবনুল মূসান্না (রহঃ) আসমা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক মহিলা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বললেনঃ (ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম!)বলুন, আমাদের কারো কাপড়ে হায়েযের রক্ত লেগে গেলে সে কি করবে? তিনি বললেনঃ সে তা ঘষে ফেলবে, তারপর পানি দিয়ে রগড়াবে এবং ভাল করে ধুয়ে ফেলবে। এরপর সেই কাপড়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করবে।

হাদিস ২২৮
মুহাম্মদ (রহঃ) ‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ ফাতিমা বিনত আবূ হুবায়শ (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বললেন ‘ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমার এত বেশি রক্তস্রাব হয় যে, আর পবিত্র হই না। এমতাবস্থায় আমি কি সালাত (নামায/নামাজ) ছেড়ে দেব? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ না, এ তো ধমনি নির্গত রক্ত, হায়েয় নয়। তাই যখন তোমার হায়েয আসবে তখন সালাত (নামায/নামাজ) ছেড়ে দিও। আর যখন তা বন্ধ হবে তখন রক্ত ধুয়ে ফেলবে, তারপর সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করবে। বর্ণনাকারী বলেন, আমার পিতা বলেছেনঃ তারপর এভাবে আরেক হায়েয না আসা পর্যন্ত প্রত্যেক সালাত (নামায/নামাজ)-এর জন্য উযূ (ওজু/অজু/অযু) করবে।

হাদিস ২২৯
আবদান (রহঃ) ‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাপড় থেকে জানবাতেরচিহ্ন ধুয়ে দিতাম এবং কাপড়ে ভিজা চিহ্ন নিয়ে তিনি সালাতে (নামাযে) বের হতেন।

হাদিস ২৩০
কুতয়বা ও মূসা’দ্দাদ (রহঃ) সুলায়মান ইবনু ইয়াসর (রহঃ) থেবে বর্ণিত, ‘আমি ‘আয়িশা (রাঃ)-কে কাপড়ে লাগা বীর্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। ’ তিনি বললেনঃ আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাপড় থেকে তা ধুয়ে ফেলতাম। তিনি কাপড় ধোয়ার ভিজা দাগ নিয়ে সালাতে (নামাযে) বের হতেন।

হাদিস ২৩১
মূসা ইবনু ইসমা’ঈল (রহঃ) আমর ইবনু মায়মুনা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ কাপড়ে জানবাতেরনাপাকী লাগা সম্পর্কে আমি সুলায়মান ইবনু ইয়াসার (রহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেনঃ ‘আয়িশা (রাঃ) বলেছেনঃ আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাপড় থেকে তা ধুয়ে ফেলতাম। এরপর তিনি সালাতে (নামাযে) বেরিয়ে যেতেন আর তাতে পানি দিয়ে ধোয়ার চিহ্ন থাকত।

হাদিস ২৩২
আমর ইবনু খালিদ (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাপড় থেকে বীর্য ধুয়ে ফেলতেন। আয়িশা (রাঃ) বলেনঃ তারপর আমি তাতে পানির একটি বা কয়েকটি দাগ দেখতে পেতাম।

হাদিস ২৩৩
সুলায়মান ইবনু হারব (রহঃ) আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ উকল বা উরায়না গোত্রের কিছু লোক (ইসলাম গ্রহণের জন্য) মদিনায় এলে তারা পীড়িত হয়ে পড়ল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের (সদকার) উটের কাছে যাবার এবং ওর পেশাব ও দুধ পান করার নির্দেশ দিলেন। তারা সেখানে চলে গেল। তারপর তারা সুস্থ হয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রাখালকে হত্যা করে ফেলল এবং উটগুলি হাঁকিয়ে নিয়ে গেল। এ খবর দিনের প্রথম ভাগেই এসে পৌঁছল। তিনি তাদের পেছনে লোক পাঠালেন। বেলা বেড়ে উঠলে তাদেরকে (গ্রেফতার করে) আনা হল। তারপর তাঁর আদেশে তাদের হাত পা কেটে দেওয়া হল। উত্তপ্ত শলাকা দিয়ে তাদের চোখ ফুঁড়ে দেওয়া হল এবং গরম পাথুরে ভূমিতে তাদের নিক্ষেপ করা হল। তারা পানি চাইছিল, কিন্তু দেওয়া হয়নি। আবূ কিলাবা (রহঃ) বলেন, এরা চুরি করেছিল, হত্যা করেছিল, ঈমান আনার পর কুফরী করেছিল এবং আল্লাহ্ ও তার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল।

হাদিস ২৩৪
আদম (রহঃ) আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদ নির্মিত হবার পূর্বে বকরীর খোয়াড়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন।

হাদিস ২৩৫
ইসমা‘ঈল (রহঃ) মায়মূনা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে ‘ঘি’র মধ্যে ইঁদুর পড়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হল। তিনি বললেনঃ ইঁদুরটি এবং তার আশপাশ থেকে ফেলে দাও এবং তোমাদের ঘি ব্যবহার কর।

হাদিস ২৩৬
আলী ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রহঃ) মায়মূনা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে ‘ঘি’র মধ্যে ইঁদুর পড়ে যাওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হল। তিনি বললেনঃ ইঁদুরটি এবং তার আশপাশ থেকে ফেলে দাও। মা’ন (রহঃ) বলেন, মালিক (রহঃ) আমার কাছে বহুবার এভাবে বর্ণনা করেছেনঃ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে এবং ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) মায়মূনা (রাঃ) থেকেও।

হাদিস ২৩৭
আহমদ ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাস্তায় মুসলমানদের যে যখম হয়, কিয়ামতের দিন তার প্রতিটি যখম আঘাতকালীন সময়ে যে অবস্থায় ছিল তদ্রুপ হবে। রক্ত ছুটে বের হতে থাকবে। তার রং হবে রক্তের রং কিন্তু গন্ধ হবে মিশকের ন্যায়।

হাদিস ২৩৮
আবূল ইয়ামান (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেন যে, আমরা শেষে আগমনকারী এবং (কিয়ামত দিবসে) অগ্রগামী। এ সনদেই তিনি বলেনঃ তোমাদের কেউ যেন স্থির- যা প্রবাহিত নয় এমন পানিতে কখনো পেশাব না করে। (সম্ভবত) পরে সে আবার তাতে গোসল করবে।

হাদিস ২৩৯
আবদান (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু মাস’উদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদারত অবস্থায় ছিলেন। অন্য সূত্রে আহমদ ইবনু ‘উসমান (রহঃ) ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস্’উদ (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার বায়তুল্লাহর পাশে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করছিলেন এবং সেখানে আবূ জাহল ও আর সঙ্গীরা বসা ছিল। এমন সময় তাদের একজন অন্যজনকে বলে উঠল, ‘তোমাদের মধ্যে কে অমুক গোত্রের উটনীর নাড়ীভুঁড়ি এনে মুহাম্মদ যখন সিজদা করেন তখন তার পিঠের উপর রাকতে পারে?’ তখন কওমের বড় পাষন্ড (‘উকবা) তাড়াতাড়ি গিয়ে তা নিয়ে এল এবং তাঁর প্রতি নজর রাখল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সিজদায় গেলেন, তখন সে তাঁর পিঠের উপর দুই কাঁধের মাঝখানে তা রেখে দিল। ইবনু মাস’উদ (রাঃ) বলেন, আমি (এ দৃশ্য) দেখেছিলাম কিন্তু আমার কিছু করার ছিল না। হায়! আমার যদি কিছু প্রতিরোধ শক্তি থাকত! তিনি বলেন, তারা হাসতে লাগল এবং একে অন্যের উপর লুটিয়ে পড়তে লাগল। আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন সিজদায় থাকলেন, মাথা উঠালেন না। অবশেষে হযরত ফাতিমা (রাঃ) এলেন এবং সেটি তাঁর পিঠের উপর থেকে ফেলে দিলেন। তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাথা উঠিয়ে বললেনঃ ইয়া আল্লাহ্! আপনি কুরায়শকে ধ্বংস করুন। এরূপ তিনবার বললেন। তিনি যখন তাদের বদ দু’আ করেন তখন তা তাদের অন্তরে ভীতির সঞ্চার করল। বর্ণনাকারী বলেন, তারা জনত যে, এ শহরে দু’আ কবূল হয়। এরপর তিনি নাম ধরে বললেনঃ ইয়া আল্লাহ্! আবূ জাহলকে ধ্বংস করুন। এবং ‘উতবা ইবনু রাবী’আ, শায়বা ইবনু রবী’আ, ওয়ালীদ ইবনু ‘উতবা, উময়্যা ইবনু খালাফ ও ‘উকবা ইবনু মু’আইতকে ধ্বংস করুন। রাবী বলেন, তিনি সপ্তম ব্যাক্তির নামও বলেছিলেন কিন্তু তিনি স্মরণ রাখতে পারেন নি। ইবনু মাস’উদ (রাঃ) বলেনঃ সেই সত্তার কসম! যার হাতে আমার জানো, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাদের নাম উচ্চারণ করেছিলেন, তাদের আমি বদরের কূপের মধ্যে নিহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেছি।

হাদিস ২৪০
মুহাম্মদ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার তাঁর কাপড়ে থুথু ফেললেন। ইমাম বুখারী (রহঃ) বলেন যে, ইবনু মারয়াম এই হাদীসটি বিস্তারিতরূপে বর্ণনা করেছেন।

হাদিস ২৪১
আলী ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রহঃ) ‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে সকল পানীয় নেশা সৃষ্টি করে, তা হারাম।

হাদিস ২৪২
মুহাম্মদ (রহঃ) আবূ হাযিম বলেন, যখন আমার এবং সাহল ইবনু সা’দ আস-সা’ইদী (রাঃ)-এর মাঝখানে কেউ ছিল না, তখন লোকে প্রশ্ন করলঃ (উহুদ যুদ্ধে) কী দিয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যখমের চিকিৎসা করা হয়েছিল? তখন তিনি বললেনঃ এ ব্যাপারে আমার চেয়ে ভাল একজন জানে এমন কেউ জীবিত নেই। ‘আলী (রাঃ) তাঁর ঢালে করে পানি আনছিলেন আর ফাতিমা (রাঃ) তাঁর মুখমন্ডল থেকে রক্ত ধুইয়ে দিলেন। অবশেষে চাটাই পুড়িয়ে (তার ছাই) তাঁর ক্ষতস্থানে দেওয়া হল।

হাদিস ২৪৩
আবূ’ন-নু’মান (রহঃ) আবূ বুরদা (রহঃ)-এর পিতা [ আবূ মূসা (রাঃ)] থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ একবার আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এলাম। তখন তাঁকে দেখলাম তিনি মিসওয়াক করছেন এবং মিসওয়াক মুখে দিয়ে তিনি উ’, উ’ শব্দ করছেন যেন তিনি বমি করছেন।

হাদিস ২৪৪
উসমান ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) হুযায়ফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন রাতে (সালাত (নামায/নামাজ)-এর জন্য) উঠতেন তখন মিসওয়াক দিয়ে মুখ পরিষ্কার করতেন। ‘আফফান (রহঃ) ইবনু ‘উমর (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমি (স্বপ্নে) দেখলাম যে, আমি মিসওযাক করছি। আমার কাছে দুই ব্যাক্তি এলেন। একজন অপরজন থেকে বয়সে বড়। তারপর আমি তাদের মধ্যে কনিষ্ঠ ব্যাক্তিকে মিসওয়াক দিতে গেলাম। তখন আমাকে বলা হল, ‘বড়কে দাও। ’ তখন আমি তাদের মধ্যে বয়সে বড় ব্যাক্তিকে দিলাম। আবূ ‘আবদুল্লাহ বলেন, নু’আয়ম, ইবনুল মুবারক সূত্রে ইবনু ‘উমর (রাঃ) থেকে হাদীসটি সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন।

হাদিস ২৪৫
মুহাম্মদ ইবনু মুকতিল (রহঃ) বারা ইবনু ‘আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন তুমি বিছানায় যাবে তখন সালাত (নামায/নামাজ)-এর উযূ (ওজু/অজু/অযু)র মতো উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে নেবে। তারপর ডান পার্শ্বে শুয়ে বলবেঃ “হে আল্লাহ্! আমার জীবন আপনার কাছে সমর্পণ করলাম। আমার সকল কাজ আপনার কাছে সোপর্দ করলাম এবং আমি আপনার আশ্রয় গ্রহণ করলাম, আপনার প্রতি আগ্রহ ও ভয় নিয়ে। আপনি ছাড়া কোন আশ্রয়স্থল ও নাজাতের স্থান নেই। হে আল্লাহ্! আমি ঈমান আনলাম আপনার নাযিলকৃত কিতাবের উপর এবং আপনার প্রেরিত নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম র উপর। ” তারপর যদি সে রাতেই তোমার মৃত্যু হয় তবে ফিতরাতে ইসলামের উপর তোমার মৃত্যু হবে। এ কথাগুলি তোমার শেষ কথা বনিয়ে নাও। তিনি বললেন, ‘আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এ কথাগুলি পুনরায় শোনালাম। যখন আল্লাহুম্মা আমান্তু বিকিতাবিকাল্লাজি আনজালতা পর্যন্ত পৌঁছে ওয়া রাসুলিকা বললাম, তখন তিনি বললেনঃ না; বরং ওয়ানাবিকাজী আরসালাত (নামায/নামাজ) বল।