হাদিস ৪২১
ইসমা’ঈল ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমরা এসব আযাবপ্রাপ্ত সম্প্রদায়ের লোকালয়ে ক্রন্দনরত অবস্থা ব্যতীত প্রবেশ করবে না। কান্না না আসিলে সেখানে প্রবেশ করো না, যেন তোমাদের প্রতিও এমন আযাব না আসে যা তাদের উপর আপতিত হয়েছিল।

হাদিস ৪২২
মুহাম্মদ ইবনু সালাম (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, উম্মে সালমা (রাঃ) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাছে তাঁর হাবশায় দেখা মারিয়া নামক একটা গির্জার কথা উল্লেখ করলেন। তিনি সেখানে যে সব প্রতিচ্ছবি দেখে ছিলেন, সেগুলোর বর্ণনা দিলেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন এরা এমন সম্প্রদায় যে, এদের মধ্যে কোন সৎ বান্দা অথবা বলেছেন কোন সৎ লোক মারা গেলে তার কবরের উপর তারা মসজিদ বানিয়ে নিত। আর তাতে ঐ সব ব্যাক্তির প্রতিচ্ছবি স্থাপন করতো। এরা আল্লাহর কাছে নিকৃষ্ট সৃষ্টি।

হাদিস ৪২৩
আবূল ইয়ামান (রহঃ) উবায়দুল্লাহ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু উতবা (রহঃ) থেকে বর্ণিত, আয়িশা ও আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেছেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওফাত নিকটবর্তী হলে তিনি তাঁর একটা চাঁদরে নিজ মুখমণ্ডল আবৃত করতে লাগলেন। যখন শ্বাস বন্ধ হওয়ার উপক্রম হল, তখন মুখ থেকে চাঁদর সরিয়ে দিলেন। এমতাবস্থায় তিনি বললেনঃ ইয়াহূদী ও নাসারাদের প্রতি আল্লাহর অভিশাপ, তারা তাদের নাবীদের কবরকে মসজিদে পরিণত করেছে। (এ বলে) তারা যে (বিদ’আতী) কার্যকলাপ করত তা থেকে তিনি সতর্ক করলেন।

হাদিস ৪২৪
আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামা (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: আল্লাহ তা’য়ালা ইয়াহূদীদের ধ্বংস করুন। তারা তাদের নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দের কবরকে মসজিদে পরিণত করেছে।

হাদিস ৪২৫
মুহাম্মদ ইবনু সিনান (রহঃ) জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: আমাকে এমন পাঁচটি বিষয় প্রদান করা হয়েছে, যা আমার আগে কোন নাবী কে দেয়া হয়নি। ১। আমাকে এমন প্রভাব দিয়ে সাহায্য করা হয়েছে যা একমাসের দূরত্ব পর্যন্ত অনুভূত হয়। ২। সমস্ত জমিন আমার জন্য সালাত (নামায/নামাজ) আদায়ের স্থান ও পবিত্রতা অর্জনের উপায় করা হয়েছে। কাজেই আমার উম্মতের যে কেউ যেখানে সালাত (নামায/নামাজ)-এর ওয়াক্ত হয় (সেখানেই) যেন সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে নেয়। ৩। আমার জন্য গণীমত হালাল করা হয়েছে। ৪। অন্যান্য নাবী নিজেদের বিশেষ গোত্রের প্রতি প্রেরিত হতেন আর আমাকে সকল মানবের প্রতি প্রেরণ করা হয়েছে। ৫। আমাকে (ব্যাপক) শাফা’য়াতের অধিকার প্রদান করা হয়েছে।

হাদিস ৪২৬
উবাইদ ইবনু ইসমা’ঈল (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, কোন আরব গোত্রের একটি কাল দাসী ছিল। তারা তাকে আযাদ করে দিল। সে তাদেরই সাথে থেকে গেল। সে বলেছে যে, তাদের একটি মেয়ে গলায় লাল চামড়ার ওপর মূল্যবান পাথর খচিত হার পরে বাইরে গেল। দাসী বলেছে, সে হারটা হয়তো নিজে কোথাও রেখে দিয়েছিল, অথবা কোথায় পড়ে গিয়েছিল। তখন চিল তা পড়ে থাকা অবস্থায় গোশতের টুকরা মনে করে ছোঁ মেরে নিয়ে গেল। দাসী বলেছে: তারপর গোত্রের লোকেরা বেশ খোঁজাখুঁজি করতে লাগলো। কিন্তু তারা তা পেল না। তখন তারা আমার উপর এর দোষ চাপাল। সে বলেছে: তারা আমার উপর তল্লাশী শুরু করলো, এমন কি আমার লজ্জা-স্থানেও তল্লাশী চালাল। দাসীটি বলেছে: আল্লাহর কসম! আমি তাদের সাথে সে অবস্থায় দাঁড়ানো ছিলাম, এমন সময় চিলটি উড়ে যেতে যেতে হারটি ফেলে দিল। সে বলেছে তাদের সামনেই তা পড়লো। তখন আমি বললাম: তোমরা তো এর জন্যই আমার উপর দোষ চাপিয়ে ছিলে! তোমরা আমার উপর সন্দেহ করেছিলে অথচ আমি এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ নির্দোষ। এই তো সেই হার! সে বলেছে: তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে ইসলাম গ্রহণ করলো। আয়িশা (রাঃ) বলেন: তাঁর জন্য মসজিদে (নববীতে) একটা তাঁবু অথবা ছাপড়া করে দেয়া হয়েছিল। আয়িশা (রাঃ) বলেন (দাসীটি) আমার কাছে আসতো আর মার সঙ্গে কথা বার্তা বলতো। সে আমার কাছে যখনই বসত তখনই বলতো: “সেই হারের দিনটি আমার রবের আশ্চর্য ঘটনা বিশেষ। যেনে রাখুন সে ঘটনাটি আমাকে কুফরের শহর থেকে মুক্তি দিয়েছে”। আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমি তাকে বললাম: কি ব্যাপার, তুমি আমার কাছে বসলেই যে এ কথাটা বলে থাক? আয়িশা (রাঃ) বলেন: সে তখন আমার কাছে উক্ত ঘটনা বর্ণনা করল।

হাদিস ৪২৭
মূসা’দ্দাদ (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি মসজিদে নববীতে ঘুমাতেন। তিনি ছিলেন অবিবাহিত। তাঁর কোন পরিবার-পরিজন ছিল না।

হাদিস ৪২৮
কুতায়বা ইবনু সা’ঈদ (রহঃ) সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফাতিমা (রাঃ) এর ঘরে এলেন, কিন্তু আলী (রাঃ) কে ঘরে পেলেন না। তিনি ফাতিমা (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করলেন: তোমার চাচাতো ভাই কোথায়? তিনি বললেনঃ আমার ও তাঁর মধ্যে কিছু ঘটেছে। তিনি আমার সাথে রাগ করে বাইরে চলে গেছেন। আমার কাছে দুপুরের বিশ্রামও করেন নি। তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যাক্তিকে বললেনঃ দেখ তো সে কোথায়? সে ব্যাক্তি খোঁজে এসে বললোঃ ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি মসজিদে শুয়ে আছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এলেন, তখন আলী (রাঃ) কাত হয়ে শুয়ে ছিলেন। তাঁর শরীরের এক পাশের চাঁদর পড়ে গিয়েছে এবং তাঁর শরীরে মাটি লেগেছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর শরীরের মাটি ঝেড়ে দিতে দিতে বললেনঃ উঠ, হে আবূ তুরাব! উঠ, হে আবূ তুরাব!

হাদিস ৪২৯
ইউসুফ ইবনু ঈসা (রহঃ) আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি সত্তরজন আসহাবে সুফফাকে দেখেছি, তাঁদের কারো গায়ে বড় চাঁদর ছিল না। হয়ত ছিল কেবল তহবন্দ কিংবা ছোট চাঁদর, যা তাঁরা ঘাড়ে বেঁধে রাখতেন। (নীচের দিকে) কারো নিসফে সাক বা অর্ধ হাঁটু পর্যন্ত আর কারো টাখনু পর্যন্ত ছিল। তাঁরা লজ্জা-স্থান দেখা যাওয়ার ভয়ে কাপড় হাতে ধরে একত্র করে রাখতেন।

হাদিস ৪৩০
খাল্লাদ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আসলাম। তিনি তখন মসজিদে ছিলেন। তখন মিস’আর (রহঃ) বলেন: আমার মনে পড়ে রাবী মুহারিব (রহঃ) চাশতের সময়ের কথা বলেছেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি দু’রাকাত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় কর। জাবির বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আমার কিছু পাওনা ছিল। তিনি তা দিয়ে দিলেন এবং কিছু বেশীও দিলেন।

হাদিস ৪৩১
আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) আবূ কাতাদা সালামী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করলে সে যেন দু’রাকাত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে নেয়।

হাদিস ৪৩২
আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন তোমাদের কেউ মসজিদে সালাত (নামায/নামাজ)-এর পর হাদাসের পূর্ব পর্যন্ত যেখানে সে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেছ সেখানে যতক্ষণ বসে থাকে ততক্ষণ ফিরিশতারা তার জন্য দোয়া করতে থাকেন। তাঁরা বলেন: হে আল্লাহ! তাকে ক্ষমা করুন! হে আল্লাহ! তার প্রতি রহম করুন।

হাদিস ৪৩৩
আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময় এর সময়ে মসজিদ তৈরী হয় কাঁচা ইট দিয়ে, তার ছাদ ছিল খেজুরের ডালের, খুঁটি ছিল খেজুর গাছের। আবূ বকর (রাঃ) এতে কিছু বাড়ান নি। অবশ্য উমর (রাঃ) বাড়িয়েছেন। আর তার ভিত্তি তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে যে ভিত্তি ছিল তার উপর কাঁচা ইট ও খেজুরের ডাল দিয়ে নির্মাণ করেন এবং তিনি খুঁটিগুলো পরিবর্তন করে কাঠের (খুঁটি) লাগান। তারপর উসমান (রাঃ) তাতে পরিবর্তন সাধন করেন এবং অনেক বৃদ্ধি করেন। তিনি দেয়াল তৈরী করেন নকশী পাথর ও চুন-সুরকি দিয়ে। খুঁটিও দেন নকশা করা পাথরের, ছাদ বানান সেগুন কাঠ দিয়ে।

হাদিস ৪৩৪
মূসা’দ্দাদ (রহঃ) ইকরিমা (রহঃ) বর্ণিত, তিনি বলেনঃ ইবনু আব্বাস (রাঃ) আমাকে ও তার ছেলে আলী (রাঃ) কে বললেনঃ তোমরা উভয়ই আবূ সা’ঈদ (রাঃ) কাছে যাও এবং তাঁর থেকে হদীস শুনে আস। আমরা গেলাম। তখন তিনি এক বাগানে কাজ করছেন। তিনি আমাদেরকে দেখে চাঁদরে হাঁটু মুড়ি দিয়ে বসলেন এবং পরে হাদিস বর্ণনা শুরু করলেন। শেষ পর্যায়ে তিনি মসজিদে নববী নির্মাণ আলোচনায় আসলেন। তিনি বললেনঃ আমরা একটা একটা করে কাঁচা ইট বহন করছিলাম আর আম্মার (রাঃ) দুটো দুটো করে কাঁচা ইট বহন করছিলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা দেখে তাঁর দেহ থেকে মাটি ঝাড়তে লাগলেন এবং বলতে লাগলেনঃ আম্মারের জন্য আফসোস, তাকে বিদ্রোহী দল হত্যা করবে। সে তাদেরকে আহবান করবে জান্নাতের দিকে আর তারা আহবান করবে জাহান্নামের দিকে। আবূ সা’ঈদ (রাঃ) বলেন: তখন আম্মার (রাঃ) বললেনঃ আমি ফিতনা থেকে আল্লাহর কাছে পানাহ চাই।

হাদিস ৪৩৫
কুতায়বা ইবনু সা’ঈদ (রহঃ) সাহল (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক মহিলার নিকট লোক পাঠিয়ে বললেনঃ তুমি তোমার গোলাম কাঠমিস্ত্রীকে বল, সে যেন আমার বসার জন্য কাঠের মিম্বর তৈরী করে দেয়।

হাদিস ৪৩৬
খাল্লাদ (রহঃ) ইবনু ইয়াহইয়া জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, এক মহিলা বললেনঃ ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমি কি আপনার বসার জন্য কিছু তৈরী করে দিব? আমার এক কাঠমিস্ত্রী গোলাম আছে। তিনি বললেনঃ যদি তোমার ইচ্ছা হয়। তারপর তিনি একটি মিম্বর তৈরী করিয়ে দিলেন।

হাদিস ৪৩৭
ইয়াহইয়া ইবনু সুলায়মান (রহঃ) উবায়দুল্লাহ খাওলানী (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি উসমান ইবনু আফফান (রাঃ) কে বলতে শুনেছেন, তিনি যখন মসজিদে নববী নির্মাণ করেছিলেন তখন লোকজনের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বলেছিলেন: তোমরা আমার উপর অনেক বাড়াবাড়ি করছ অথচ আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যাক্তি মসজিদ নির্মাণ করে, বুকায়র (রহঃ) বলেন: আমার মনে হয় রাবী ‘আসিম’ (রহঃ) তাঁর বর্ণনায় উল্লেখ করছেন, আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে, আল্লাহ তা’য়ালা তার জন্য জান্নাতে অনুরূপ ঘর তৈরী করবেন।

হাদিস ৪৩৮
কুতায়বা ইবনু সা’ঈদ (রহঃ) জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: এক ব্যাক্তি তীর সাথে করে মসজিদে নববী অতিক্রম করছিল। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ এর ফলকগুলো হাতে ধরে রাখ।

হাদিস ৪৩৯
মূসা ইবনু ইসমা’ঈল (রহঃ) আবূ বুরদা (রহঃ) এর পিতা আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যাক্তি তীর নিয়ে আমাদের মসজিদ অথবা বাজার দিয়ে চলে সে যেন তার ফলক হাতে ধরে রাখে, যাতে করে তার হাতে কোন মুসলমান আঘাত না পায়।

হাদিস ৪৪০
আবূল ইয়ামান (রহঃ) আবূ সালমা ইবনু আবদুর রহমান ইবনু আওফ (রহঃ) থেকে বর্ণিত, হাসসান ইবনু সাবিত আনসারী (রাঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) আল্লাহর কসম দিয়ে এ কথার সাক্ষ্য চেয়ে বলেন: আপনি কি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে একথা বলতে শুনেছেন, হে হসসান! রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পক্ষ থেকে (কবিতার মাধ্যমে মুশরিকদের) জওয়াব দাও। হে আল্লাহ! হাসসানকে রূহুল কুদুস (জিবরাঈল আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দ্বারা সাহায্য করুন। আবূ হুরায়রা (রাঃ) জওয়াবে বললেনঃ হাঁ।

হাদিস ৪৪১
আবদুল আযীয ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: একদিন আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে আমার ঘরের দরজায় দেখলাম। তখন হাবশার লোকেরা মসজিদে (বর্শা দ্বারা) অনুশীলন করছিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চাঁদর দিয়ে আমাকে আড়াল করে রাখছিলেন। আমি ওদের অনুশীলন দেখছিলাম। ইবরাহীম ইবনু মুনযির (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে অতিরিক্ত বর্ণনা করেন যে। তিনি বলেছেন: আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখলাম এমতাবস্থায় হাবশীরাা তাদের বর্শা নিয়ে অনুশীলন করছিল।

হাদিস ৪৪২
আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বারীরা (রাঃ) তাঁর কাছে এসে কিতাবের দেনা শোধের জন্য সাহায্য চাইলেন। তখন তিনি বললেনঃ তুমি চাইলে আমি (তোমার মূল্য) তোমার মালিককে দিয়ে দিব এ শর্তে যে, উত্তরাধিকার-স্বত্ব থাকবে আমার। তাঁর মালিক আয়িশা (রাঃ) কে বললোঃ আপনি চাইলে বাকী মূল্য বারীরাকে দিতে পারেন। রাবী সুফিয়ান (রহঃ) আর একবার বলেছেন: আপনি চাইলে তাকে আযাদ করতে পারেন, তবে উত্তরাধিকার-স্বত্ব থাকবে আমাদের। যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসলেন তখন আমি তাঁর কাছে ব্যাপারটি বললাম। তিনি বললেনঃ তুমি তাকে ক্রয় করে আযাদ করে দাও। কারণ উত্তরাধিকার-স্বত্ব থাকেই তারই, যে আযাদ করে। তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বরের উপর দাঁড়ালেন। সুফিয়ান (রহঃ) আর একবার বলেন: এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বরে আরোহণ করে বললেনঃ লোকদের কি হল? তারা এমন সব শর্ত করে যা আল্লাহর কিতাবে নেই। কেউ যদি এমন শর্ত আরোপ করে যা আল্লাহর কিতাবে নেই, তাঁর সে শর্তের কোন মূল্য নেই। এমনকি এরূপ শর্ত একশবার আরোপ করলেও। মালিক (রহঃ) আমরা (রহঃ) থেকে রাবী’য়া (রাঃ) এর ঘটনা বর্ণনা করেছেন। , তবে মিম্বরে আরোহণের কথা উল্লেখ করেন নি। আলী (রাঃ) আমরা (রহঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। জাফর ইবনু আওন (রহঃ) ইয়াহইয়া (রহঃ) এর মাধ্যমে আমরা (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, আমি আয়িশা (রাঃ) থেকে শুনেছি।

হাদিস ৪৪৩
আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) কা’ব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি মসজিদের ভিতরে ইবনু আবূ হাদরাদ (রাঃ) এর কাছে তাঁর পাওনা ঋণের তাগাদা করলেন। দু’জনের মধ্যে এ নিয়ে বেশ উচ্চস্বরে কথাবার্তা হল। এমনকি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ঘর থেকেই তাদের কথার আওয়াজ শুনলেন এবং তিন পর্দা সরিয়ে তাদের কাছে বেরিয়ে গেলেন। আর ডাক দিয়ে বললেনঃ হে কা’ব! কা’ব (রাঃ) উত্তর দিলেন, লাব্বাইক ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমর পাওনা ঋণ থেকে এতটুকু ছেড়ে দাও। আর হাতে ইশারা করে বোঝালেন, অর্থাৎ অর্ধেক পরিমাণ। তখন কা’ব (রাঃ) বললেনঃ আমি তাই করলাম ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! তখন তিনি ইবনু আবূ হাদরাদকে বললেনঃ উঠ আর বাকীটা দিয়ে দাও।

হাদিস ৪৪৪
সুলায়মান ইবনু হারব (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, একজন কালো বর্ণের পুরুষ অথবা বলেছেন কাল বর্ণের মহিলা মসজিদ ঝাড়ু দিত। সে ইন্তেকাল করল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। সাহাবীগণ বললেন, সে ইন্তেকাল করেছে। তিনি বললেনঃ তোমরা আমাকে খবর দিলে না কেন? আমাকে তার কবরটা দেখিয়ে দাও। তারপর তিনি তার কবরের কাছে গেলেন এবং তার জানাযার সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন।

হাদিস ৪৪৫
আবদান (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: মদ সম্পর্কীয় সূরা বাকারার আয়াতসমূহ নাযিল হলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে গিয়ে সে সব আয়াত সাহাবীগণকে পাঠ করে শোনালেন। তারপর তিনি মদের ব্যবসা হারাম ঘোষনা করলেন।

হাদিস ৪৪৬
আহমদ ইবনু ওয়াফিদ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, একজন পুরুষ অথবা বলেছেন একজন মহিলা মসজিদ ঝাড়ু দিতেন। [রাবী সাবিত (রহঃ) বলেন:] আমার মনে হয় তিনি বলেছেন একজন মহিলা। তারপর তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হদীস বর্ণনা করে বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কবরে জানাযার সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেছেন।

হাদিস ৪৪৭
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন; গত রাতে একটা অবাধ্য জ্বীন হঠাৎ করে আমার সামনে প্রকাশ পেল। রাবী বলেন, অথবা তিনি অনুরূপ কোন কথা বলেছেন, যেন সে আমার সালাত (নামায/নামাজ) বাধা সৃষ্টি করতে করে। কিন্তু আল্লাহ আমাকে তার উপর ক্ষমতা দিলেন। আমি ইচ্ছা করে করেছিলাম যে, তাকে মসজিদের খুঁটির সাথে বেঁধে রাখি, যাতে ভোরবেলা তোমরা সবাই তাকে দেখতে পাও। কিন্তু তখন আমার ভাই সুলায়মান (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর উক্তি আমার স্মরণ হল, “হে রব! আমাকে দান কর এমন রাজত্ব যার অধিকারী আমার পরে কেউ না হয়। ”(৩৮:৩৫) (বর্ণনাকারী) রাওহ (রহঃ) বলেন; নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই শয়তানটিকে অপমানিত অবস্থায় তাড়িয়ে দিলেন।

হাদিস ৪৪৮
আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কয়েকজন অশ্বারোহী মুজাহিদকে নজদের দিকে পাঠালেন। তারা বানূ হানীফা গোত্রের সুমামা ইবনু উসালা নামক এক ব্যাক্তিকে নিয়ে এসে তাকে মসজিদের খুঁটির সাথে বেঁধে রাখলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছে গেলেন এবং বললেনঃ সুমামাকে ছেড়ে দাও। (ছাড়া পেয়ে) তিনি মসজিদে নববী নিকটে এক খেজুর বাগানে গিয়ে সেখানে গোসল করলেন, এরপর মসজিদে প্রবেশ করে বললেনঃ “আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল ”।

হাদিস ৪৪৯
যাকারিয়্যা ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: খন্দকের যুদ্ধে সা’দ (রাঃ) এর হাতের শিরা যখম হয়েছিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে (তাঁর জন্য) একটা তাঁবু স্থাপন করলেন। যাতে কাছে থেকে তাঁর দেখাশোনা করতে পারেন। মসজিদে বানূ গিফারেরও একটা তাঁবু ছিল। সা’দ (রাঃ) এর প্রচুর রক্ত তাদের দিকে প্রবাহিত হওয়ায় তারা ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন: হে তাঁবুর লোকেরা! তোমাদের তাঁবু থেকে আমাদের দিকে কি প্রবাহিত হচ্ছে? তখন দেখা গেল যে, সা’দের যখম থেকে প্রচুর রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে। অবশেষে এতেই তিনি ইন্তেকাল করলেন।

হাদিস ৪৫০
আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) উম্মে সালমা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে (বিদায় হাজ্জে (হজ্জ)) আমার অসুস্থতার কথা জানালাম। তিনি বললেনঃ সওয়ার হয়ে লোকদের হতে বাইরে থেকে তওয়াফ করে নাও। তখন আমি (সেভাবে) তাওয়াফ করলাম। আর আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বায়তুল্লাহর পাশে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করছিলেন, তিনি “সূরা ওয়াত-তুরি ওয়া কিতাবিম-মাসতূর” তিলাওয়াত করছিলেন।

হাদিস ৪৫১
মুহাম্মদ ইবনুল মূসান্না (রহঃ) আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দু’জন সাহাবী রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট থেকে অন্ধকার রাতে বের হলেন। তাঁদের একজন আব্বাদ ইবনু বিশর (রাঃ) আর সাহাবী দ্বিতীয় জন সম্পর্কে আমার ধারণা যে, তিনি ছিলেন উসাইদ ইবনু হুযাইর (রাঃ), আর উভয়ের সাথে চেরাগ সদৃশ কিছু ছিল, যা তাঁদের সামনের দিকটাকে আলোকিত করছিল। তাঁরা উভয়ে যখন পৃথক হয়ে গেলেন, তখন প্রত্যেকের সাথে একটা করে রয়ে গেল। অবশেষে এভাবে তাঁরা নিজেদের বাড়ীতে পৌছলেন।

হাদিস ৪৫২
মুহাম্মদ ইবনু সিনান (রহঃ) আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ভাষণে বললেনঃ আল্লাহ তা’য়ালা তাঁর বান্দাকে দুনিয়া ও আল্লাহর কাছে যা আছে-এ দুয়ের মধ্যে একটি গ্রহণের ইখতিয়ার দিলেন। তিনি আল্লাহর কাছে যা আছে, তা গ্রহণ করলেন। তখন আবূ বকর (রাঃ) কাঁদতে লাগলেন। আমি মনে মনে ভাবলাম, এই বৃদ্ধ কাঁদছেন কেন? আল্লাহ তাঁর এক বান্দাকে দুনিয়া ও আল্লাহর কাছে রয়েছে, এ দুয়ের একটা গ্রহণ করার এখতিয়ার দিলে তিনি আল্লাহর কাছে যা আছে তা গ্রহণ করেছেন (এতে কাঁধার কি আছে?)। মূলত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -ই ছিলেন সেই বান্দা। আবূ বকর (রাঃ) ছিলেন আমাদের মাঝে সর্বাধিক জ্ঞানী। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: হে আবূ বকর, তুমি কাঁধবে না। নিজের সাহচর্য ও সম্পদ দিয়ে আমাকে যিনি সবচাইতে বেশী ইহসান করেছেন তিনি আবূ বকর। আমার কোন উম্মতকে যদি আমি খলীল (অন্তরঙ্গ বন্ধু) রূপে গ্রহণ করতাম, তবে তিনি হতেন আবূ বকর। কিন্তু তাঁর সাথে রয়েছে ইসলামের ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্য। আবূ বকরের দরজা ব্যতীত মসজিদের কোন দরজাই রাখা হবে না, সবই বন্ধ করা হবে।

হাদিস ৪৫৩
আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ জু’ফী (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্তিম রোগের সময় এক টুকরা কাপড় মাথায় পেঁচিয়ে বাইরে এসে মিম্বরে বসলেন। আল্লাহর প্রশংসা ও সানা সিফাত বর্ণনার পর বললেনঃ জানো-মাল দিয়ে আবূ বকর ইবনু আবূ কুহাফার চাইতে অধিক কেউ আমার প্রতি ইহসান করেনি। আমি কাউকেও অন্তরঙ্গ বন্ধুরূপে গ্রহণ করলে অবশ্যই আবূ বকরকে গ্রহণ করতাম। তবে ইসলামের বন্ধুত্বই উত্তম। আবূ বকরের দরজা ব্যতীত এই মসজিদের সকল দরজা বন্ধ করে দাও।

হাদিস ৪৫৪
আবূ নু’মান ও কুতায়বা (রহঃ) ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মক্কায় আসেন তখন উসমান ইবনু তালহা (রাঃ) কে ডাকলেন। তিনি দরজা খুলে দিলে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম , বিলাল, উসামা ইবনু যায়েদ ও উসমান ইবনু তালহা (রাঃ) ভিতরে গেলেন। তারপর দরজা বন্ধ করে দেয়া হল। তিনি সেখানে কিছুক্ষণ থাকলেন। তারপর সবাই বের হলেন। ইবনু উমর (রাঃ) বলেন: আমি তাড়াতাড়ি গিয়ে বিলাল (রাঃ) কে (সালাত (নামায/নামাজ)-এর কথা) জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভিতরে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেছেন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম: কোন স্থানে? তিনি বলেন: দুই স্তম্ভের মাঝামাঝি। ইবনু উমর (রাঃ) বলেন: কয় রাকা’আত আদায় করেছেন তা জিজ্ঞাসা করতে আমি ভুলে গিয়েছিলাম।

হাদিস ৪৫৫
কুতায়বা (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কতিপয় অশ্বারোহী সৈন্য নজদ অভিমুখে পাঠালেন। তারা বানূ হানীফা গোত্রের সুমামা ইবনু উসাল নামক এক ব্যাক্তিকে নিয়ে এলেন। তারপর তাকে মসজিদের একটি খুঁটির সাথে বেঁধে রাখলেন।

হাদিস ৪৫৬
আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) সায়িব ইবনু ইয়াযীদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি মসজিদে নববীতে দাঁড়িয়ে ছিলাম। এমন সময় একজন লোক আমার দিকে একটা কাঁকর নিক্ষেপ করলো। আমি তাঁর দিকে তাকিয়ে দেখলাম যে, তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)। তিনি বললেনঃ যাও, এ দু’জনকে আমার কাছে নিয়ে এস। আমি তাদের নিয়ে তাঁর কাছে এলাম। তিনি বললেনঃ তোমরা কারা? অথবা তিনি বললেনঃ তোমরা কোন স্থানের লোক? তারা বললোঃ আমরা তায়েফের অধিবাসী। তিনি বললেনঃ তোমরা যদি মদিনার লোক হতে, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের কঠোর শাস্তি দিতাম। তোমরা দু’জনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মসজিদে উচ্চৈঃস্বরে কথা বলছ!

হাদিস ৪৫৭
আহমদ ইবনু সালিহ (রহঃ) কা’ব ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে তিনি ইবনু আবূ হাদরাদের কাছে তাঁর প্রাপ্য সম্পর্কে মসজিদে নববীতে তাগাদা করেন। এতে উভয়ের আওয়াজ উঁচু হয়ে গেল। এমন কি সে আওয়াজ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ঘর থেকে শুনতে পেলেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ঘরের পর্দা সরিয়ে তাদের দিকে বের হয়ে এলেন এবং কা’ব ইবনু মালিককে ডেকে বললেনঃ হে কা’ব! উত্তরে কা’ব বললেনঃ লাব্বায়কা ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাতে ইশারা করলেন যে, তোমার প্রাপ্য থেকে অর্ধেক ছেড়ে দাও। কা’ব (রাঃ) বললেন ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমি তাই করলাম। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইবনু আবূ হাদরাদ (রাঃ) কে বললেনঃ উঠ এবার (বাকী) ঋণ পরিশোধ কর।

হাদিস ৪৫৮
মূসা’দ্দাদ (রহঃ) ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একজন সাহাবী রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে প্রশ্ন করলেন, তখন তিনি মিম্বরে ছিলেন: আপনি রাতের সালাত (নামায/নামাজ) কিভাবে আদায় করতে বলেন? তিনি বললেনঃ দু-দু’রাকা’আত করে আদায় করবে। যখন তোমাদের কারো ভোর হয়ে যাওয়ার আশংকা হয় তখন সে আরো এক রাকা’আত আদায় করে নিবে। আর এইটি তার পূর্ববর্তী সালাত (নামায/নামাজ)কে বিতর করে দেবে। [ নাফি (রহঃ) বলেন] ইবনু উমর (রাঃ) বলতেন: তোমরা বিতরকে রাতের শেষ সালাত (নামায/নামাজ) হিসাবে আদায় কর। কেননা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই নির্দেশ দিয়েছেন।

হাদিস ৪৫৯
আবূ নু’মান (রহঃ) ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, এক সাহাবী রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এমন সময় আসলেন যখন তিনি খুতবা দিচ্ছিলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: রাতের সালাত (নামায/নামাজ) কিভাবে আদায় করতে হয়? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ দু’রাকা’আত দু’রাকা’আত করে আদায় করবে। আর যখন ভোর হওয়ার আশংকা করবে, তখন আরো এক রাকা’আত আদায় করে নিবে। সে সালাত (নামায/নামাজ) তোমার আগের সালাত (নামায/নামাজ)কে বিতর করে দিবে। ওয়ালীদ ইবনু কাসীর (রহঃ) বলেন: উবায়দুল্লাহ ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) আমার কাছে বলেছেন যে, ইবনু উমর (রাঃ) তাঁদের বলেছেন: এক সাহাবী নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সম্বোধন করে বললেন, তখন তিনি মসজিদে ছিলেন।