হাদিস ০৮১
মুসাদ্দাদ (র) …….. আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি তোমাদের এমন একটি হাদীস বর্ণনা করব যা আমার পর তোমাদের কাছে আর কেউ বর্ণনা করবেন না। আমি রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ)কে বলতে শুনেছি যে, কিয়ামতের কিছু নিদর্শন হলঃ ইলম কমে যাবে, অজ্ঞতার প্রসার ঘটবে, ব্যভিচার ছড়িয়ে পড়বে, স্ত্রীলোকের সংখ্যা বেড়ে যাবে এবং পুরুষের সংখ্যা কমে যাবে, এমনকি প্রতি পঞ্চাশজন স্ত্রীলোকের জন্য মাত্র একজন পুরুষ হবে তত্ত্বাবধায়ক।

হাদিস ০৮২
সা‘ঈদ ইব্ন ‘উফায়র (র) …….. ইব্ন ‘উমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ)কে বলতে শুনেছি, একবার আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। তখন (স্বপ্নে) আমার কাছে এক পিয়ালা দুধ আনা হল। আমি তা পান করলাম (তার পরিতৃপ্তি আমার সর্বাঙ্গে ছড়িয়ে পড়ল।) এমনকি আমার মনে হতে লাগল যে, সে তৃপ্তি আমার নখ দিয়ে বের হচ্ছে। এরপর যেটুকু অবশিষ্ট ছিল, তা আমি ‘উমর ইব্নুল খাত্তাবকে দিলাম। সাহাবায়ে কিরাম জানতে চাইলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ্! আপনি এ স্বপ্নের কী তা’বীর করেন? তিনি জওয়াবে বললেনঃ তা হল ‘ইলম।

হাদিস ৮৩
ইসমা‘ঈল (র) …….. ‘আবদুল্লাহ্ ইব্ন ‘আমর ইব্ন ‘আস (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বিদায় হজ্জের দিনে মিনায় মানুষের (প্রশ্নের উত্তর দানের) জন্য (বাহনের উপর) বসা ছিলেন। লোকে তাঁর কাছে বিভিন্ন মাসআলা জিজ্ঞাসা করছিল। এক ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে বলল, আমি ভুলবশত কুরবানী করার আগেই মাথা মুড়িয়ে ফেলেছি। তিনি বললেনঃ যবেহ কর, কোন ক্ষতি নেই। আর এক ব্যক্তি এসে বলল, আমি ভুলবশত কঙ্কর নিক্ষপের আগেই কুরবাণী করে ফেলেছি। তিনি বললেনঃ কঙ্কর ছুঁড়ো, কোন অসুবিধা নেই। ‘আবদুল্লাহ্ ইব্ন ‘আমর (র) বলেন, ‘নবী (সাঃ)কে সে দিন আগে বা পরে করা যে কাজ সম্পর্কেই জিজ্ঞাসা করা হচ্ছিল, তিনি একথাই বলছিলেনঃ কর, কোন ক্ষতি নেই।

হাদিস ০৮৪
মূসা ইব্ন ইসমা‘ঈল (র) ……… ইব্ন ‘আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, হজ্জের সময় নবী (সাঃ)কে (নানা বিষয়ে) জিজ্ঞাসা করা হল। কোন একজন বললঃ আমি কঙ্কর নিক্ষেপের পূর্বেই যবেহ করে ফেলেছি। ইব্ন ‘আব্বাস (রা) বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) হাত দিয়ে ইশারা করে বললেনঃ কোন অসুবিধা নেই। আর এক ব্যক্তি বললঃ আমি যবেহ করার পূর্বে মাথা মুড়িয়ে ফেলেছি। তিনি হাত দিয়ে ইশারা করলেনঃ কোন অসুবিধা নেই (যেহেতু ভুলবশতঃ করা হয়েছে)।

হাদিস ৮৫
মাক্বী ইব্ন ইবরাহীম (র) …….. আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সাঃ) বলেনঃ (শেষ যামানায়) ‘ইলম তুলে নেওয়া হবে, অজ্ঞতা ও ফিতনার প্রসার ঘটবে এবং ‘হারাজ’ বেড়ে যাবে। জিজ্ঞাসা করা হল, ইয়া রাসূলুল্লাহ্! ‘হারাজ’ কি? তিনি হাত দিয়ে ইশারা করে বললেনঃ ‘এ রকম।’ যেন তিনি এর দ্বারা ‘হত্যা’ বুঝিয়েছিলেন।

হাদিস ৮৬

মূসা ইব্ন ইসমা’ঈল (র) …….. আসমা (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি আয়িশা (রা) এর কাছে এলাম, তিনি তখন সালাত আদায় করছিলেন। আমি বললাম, ‘মানুষের কি হয়েছে?’ তিনি আকাশের দিকে ইঙ্গিত করলেন (দেখ, সূর্য গ্রহণ লেগেছে)। তখন সকল লোক (সালাতে কুসূফ আদায়ের জন্য) দাঁড়িয়ে রয়েছে। আয়িশা (রা) বললেন, সুবহানাল্লাহ্! আমি বললাম, এটা কি কোন নিদর্শন? তিনি মাথা ইশারা করলেন, ‘হাঁ’। এরপর আমি (সালাতে) দাঁড়িয়ে গেলাম। এমনকি (সালাত এত দীর্ঘ ছিল যে,) আমার বেহুঁশ হয়ে পড়ার উপক্রম হল। তাই আমি মাথায় পানি ঢালতে লাগলাম। পরে (সালাত শেষে) নবী (সাঃ) আল্লাহর হাম্দ ও সানা বর্ণনা করলেন। এরপর বললেনঃ যা কিছু আমাকে ইতিপূর্বে দেখানো হয়নি, তা আমি আমার এ স্থানেই দেখতে পেয়েছি। এমনকি জান্নাত এবং জাহান্নামও দেখেছি। এরপর আল্লাহ তা’আলা আমার কাছে ওহী প্রেরণ করলেন, ‘তামাদেরকে কবরের মধ্যে পরীক্ষা করা হবে দাজ্জালের ন্যায় (কঠিন) পরীক্ষা অথবা তার কাছাকাছি।’


ফাতিমা (রা) বলেন, আসমা (রা) —- (অনুরূপ) শব্দ বলেছিলেন, না —– (কাছাকাছি) শব্দ, তা ঠিক আমার মনে নেই। (কবরের মধ্যে) বলা হবে, ‘এ ব্যক্তি সম্পর্কে তুমি কি জান?’ তখন মু’মিন ব্যক্তি বা মু’কিন (বিশ্বাসী) ব্যক্তি [ফাতিমা (রা) বলেন] আসমা (রা) এর কোন্ শব্দটি বলেছিলেন ঠিক আমার মনে নেই, বলবে ‘তিনি মুহাম্মদ (সাঃ), তিনি আল্লাহর রসূল। আমাদের কাছে মু’জিযা ও হিদায়ত নিয়ে এসেছিলেন। আমরা তা গ্রহণ করেছিলাম এবং তাঁর অনুসরণ করেছিলাম। তিনি মুহাম্মদ।’ তিনবার এরূপ বলবে। তখন তাকে বলা হবে, আরামে ঘুমাও, আমরা জানতে পারলাম যে, তুমি (দুনিয়ায়) তাঁর ওপর বিশ্বাসী ছিলে। আর মুনাফিক অথবা মুরতাব (সন্দেহ পোষণকারী) ফাতিমা বলেন, আসমা কোন্টি বলেছিলেন, আমি ঠিক মনে করতে পারছি না- বলবে, আমি কিছুই জানি না। মানুষকে (তাঁর সম্পর্কে) কি যেন বলতে শুনেছি, তাই আমিও তাই বলেছি।


হাদিস ৮৭
‘মুহাম্মদ ইব্ন বাশ্শার (র) …….. আবূ জামরা (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ইব্ন আব্বাস (রা) ও লোকদের মধ্যে দোভাষীর কাজ করতাম। একদিন ইব্ন আব্বাস (রা) বললেন, আবদুল কায়স গোত্রের প্রতিনিধি দল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এলে, তিনি বললেনঃ তোমরা কোন্ প্রতিনিধি দল? অথবা বললেনঃ তোমরা কোন্ গোত্রের? তারা বলল, ‘রাবী’আ গোত্রের। তিনি বললেনঃ ‘মারহাবা। এ গোত্রের প্রতি অথবা এ প্রতিনিধি দলের প্রতি, এরা কোনরূপ অপদস্থ না হয়েই এসেছে। তারা বলল, ‘আমরা বহু দূর থেকে আপনার কাছে এসেছি। আর আমাদের ও আপনার মাঝে রয়েছে কাফিরদের এই ‘মুযার’ গোত্রের বাস। আমরা শাহ্র-ই হারাম ছাড়া আপনার কাছে আসতে সক্ষম নই। সুতরাং আমাদের এমন কিছু নির্দেশ দিন, যা আমাদের পশ্চাতে যারা রয়েছে তাদের কাছে পৌঁছাতে এবং তার ওসীলায় আমরা জান্নতে দাখিল হতে পারি।’ তখন তিনি তাদের চারটি কাজের নির্দেশ দিলেন এবং চারটি কাজ থেকে নিষেধ করলেন। তাদের এক আল্লাহর উপর ঈমান আনার নির্দেশ দিলেন। তিনি বললেনঃ এক আল্লাহর উপর ঈমান আনা কিরূপে হয় জান? তারা বললঃ ‘আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভাল জানেন।’ তিনি বললেনঃ ‘তা হল এ সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ (সাঃ) আল্লাহর রাসূল, সালাত কায়েম করা, যাকাত দেওয়া এবং রমযান এর সিয়াম পালন করা আর তোমাদের গনীমাতের মাল থেকে এক-পঞ্চমাংশ দান করবে।’ আর তাদের নিষেধ করলেন শুকনো লাউয়ের খোল, সবুজ কলস এবং আলকাতরার পালিশকৃত পাত্র ব্যবহার করতে। শু’বা বলেন, কখনও (আবূ জামরা) খেজুর গাছ থেকে তৈরী পাত্রের কথাও বলেছেন আবার তিনি কখনও (—– ) এর স্থলে (—–) বলেছেন। রাসূল (সাঃ) বললেনঃ তোমরা এগুলো মনোযোগ সহকারে স্মরণ রাখ এবং তোমাদের পশ্চাতে যারা রয়েছে তাদের পৌঁছে দাও।

হাদিস ০৮৭
‘মুহাম্মদ ইব্ন বাশ্শার (র) …….. আবূ জামরা (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ইব্ন আব্বাস (রা) ও লোকদের মধ্যে দোভাষীর কাজ করতাম। একদিন ইব্ন আব্বাস (রা) বললেন, আবদুল কায়স গোত্রের প্রতিনিধি দল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এলে, তিনি বললেনঃ তোমরা কোন্ প্রতিনিধি দল? অথবা বললেনঃ তোমরা কোন্ গোত্রের? তারা বলল, ‘রাবী’আ গোত্রের। তিনি বললেনঃ ‘মারহাবা। এ গোত্রের প্রতি অথবা এ প্রতিনিধি দলের প্রতি, এরা কোনরূপ অপদস্থ না হয়েই এসেছে। তারা বলল, ‘আমরা বহু দূর থেকে আপনার কাছে এসেছি। আর আমাদের ও আপনার মাঝে রয়েছে কাফিরদের এই ‘মুযার’ গোত্রের বাস। আমরা শাহ্র-ই হারাম ছাড়া আপনার কাছে আসতে সক্ষম নই। সুতরাং আমাদের এমন কিছু নির্দেশ দিন, যা আমাদের পশ্চাতে যারা রয়েছে তাদের কাছে পৌঁছাতে এবং তার ওসীলায় আমরা জান্নতে দাখিল হতে পারি।’ তখন তিনি তাদের চারটি কাজের নির্দেশ দিলেন এবং চারটি কাজ থেকে নিষেধ করলেন। তাদের এক আল্লাহর উপর ঈমান আনার নির্দেশ দিলেন। তিনি বললেনঃ এক আল্লাহর উপর ঈমান আনা কিরূপে হয় জান? তারা বললঃ ‘আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভাল জানেন।’ তিনি বললেনঃ ‘তা হল এ সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ (সাঃ) আল্লাহর রাসূল, সালাত কায়েম করা, যাকাত দেওয়া এবং রমযান এর সিয়াম পালন করা আর তোমাদের গনীমাতের মাল থেকে এক-পঞ্চমাংশ দান করবে।’ আর তাদের নিষেধ করলেন শুকনো লাউয়ের খোল, সবুজ কলস এবং আলকাতরার পালিশকৃত পাত্র ব্যবহার করতে। শু’বা বলেন, কখনও (আবূ জামরা) খেজুর গাছ থেকে তৈরী পাত্রের কথাও বলেছেন আবার তিনি কখনও (—– ) এর স্থলে (—–) বলেছেন। রাসূল (সাঃ) বললেনঃ তোমরা এগুলো মনোযোগ সহকারে স্মরণ রাখ এবং তোমাদের পশ্চাতে যারা রয়েছে তাদের পৌঁছে দাও।

হাদিস ৮৮
মুহাম্মদ ইব্ন মুকাতিল আবুল হাসান (র) ……….. উকবা ইব্নুল হারিস (রা) বর্ণনা করেন, তিনি আবূ ইহাব ইব্ন আযীয (র)-এর কন্যাকে বিবাহ করলে তাঁর কাছে একজন স্ত্রীলোক এসে বলল, আমি উকবা (রা)-কে এবং সে যাকে বিয়ে করেছে তাকে (আবূ ইহাবের কন্যাকে) দুধ পান করিয়েছি। উকবা (রা) তাকে বললেনঃ আমি জানি না যে, তুমি আমাকে দুধ পান করিয়েছ। আর (ইতিপূর্বে) তুমি আমাকে একথা জানাও নি। এরপর তিনি মদীনায় রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে গেলেন এবং তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন। রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বললেনঃ এ কথার পর তুমি কিভাবে তার সঙ্গে সংসার করবে? এরপর উকবা তাঁর স্ত্রীকে আলাদা করে দিলেন এবং সে মহিলা অন্য স্বামীর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হল।

হাদিস ৮৯
‘আবুল ইয়ামান (র) ও ইব্ন ওহব (র) …….উমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি ও আমার এক আনসারী প্রতিবেশী বনি উমায়্যা ইব্ন যায়দের মহল্লায় বাস করতাম। এ মহল্লাহটি ছিল মদীনার ঊঁচু এলাকায় অবস্থিত। আমরা দু’জনে পালাক্রমে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খিদমতে হাযির হাতম। তিনি একদিন আসতেন আর আমি একদিন আসতাম। আমি যেদিন আসতাম, সেদিনের ওহী প্রভৃতির খবর নিয়ে তাঁকে পৌঁছে দিতাম। আর তিনি যেদিন আসতেন সেদিন তিনি অনুরূপ করতেন। এরপর একদিন আমার আনসারী সঙ্গী তাঁর পালার দিন এলেন এবং (সেখান থেকে ফিরে) আমার দরজায় খুব জোরে করাঘাত করতে লাগলেন। (আমার নাম নিয়ে) বলতে লাগলেন, তিনি কি এখানে আছেন? আমি ঘাবড়ে গিয়ে তাঁর দিকে গেলাম। তিনি বললেন, এক বিরাট ঘটনা ঘটে গেছে [রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) তাঁর স্ত্রীগণকে তালাক দিয়েছেন]। আমি তখনি (আমার কন্যা) হাফসা (রা)-এর কাছে গেলাম। তিনি তখন কাঁদছিলেন। আমি বললাম, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) কি তোমাদের তালাক দিয়ে দিয়েছেন? তিনি বললেন, ‘আমি জানি না।’ এরপর আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে গেলাম এবং দাঁড়িয়ে থেকেই বললামঃ আপনি কি আপনার স্ত্রীদের তালাক দিয়েছেন? জবাবে তিনি বললেনঃ ‘না।’ আমি তখন ‘আল্লাহু আকবার’ বলে উঠলাম।

হাদিস ০৯০
মুহাম্মদ ইব্ন কাসীর (র) …….. আবূ মাস‘উদ আনসরী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার এক ব্যক্তি বলল, ‘ইয়া রাসূলুল্লাহ্! আমি সালাতে (জামাতে) শামিল হতে পারি না। কারন অমুক ব্যক্তি আমাদের নিয়ে খুব লম্বা করে সালাত আদায় করেন। [আবূ মাস‘উদ (রা) বলেন,] আমি নবী (সাঃ)কে কোন ওয়াযের মজলিসে সেদিনের তুলনায় বেশি রাগান্বিত হতে দেখিনি। (রাগত স্বরে) তিনি বললেনঃ হে লোক সকল! তোমরা মানুষের মধ্যে বিরক্তির সৃষ্টি কর। অতএব যে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করবে সে যেন সংক্ষেপ করে। কারন তাদের মধ্যে রোগী, দুর্বল ও কর্মব্যস্ত লোক থাকে।

হাদিস ০৯১
আবদুল্লাহ্ ইব্ন মুহাম্মদ (র) ……….. যায়েদ ইব্ন খালিদ আল-জুহানী (রা) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি নবী করীম (সাঃ)কে হারানো বস্তু প্রাপ্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল। তিনি বললেনঃ তার বাঁধনের রশি অথবা বললেন, থলে-ঝুলি ভাল করে চিনে রাখ। এরপর এক বছর পর্যন্ত তার ঘোষণা দিতে থাক। তারপর (মালিক পাওয়া না গেলে) তুমি তা ব্যবহার কর। এরপর যদি এর মালিক আসে তবে তাকে তা দিয়ে দেবে। সে বলল, ‘হারানো উট পাওয়া গেলে?’ এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) এমন রেগে গেলেন যে, তাঁর চেহারা মুবারক লাল হয়ে গেল। অথবা বর্ণনাকারী বলেন, তাঁর মুখমন্ডল লাল হয়ে গেল। তিনি বললেনঃ ‘উট নিয়ে তোমার কি হয়েছে? তার তো আছে পানির মশক ও শক্ত পা। পানির কাছে যেতে পারে এবং গাছের লতা-পাতা খেতে পারে। তাই তাকে ছেড়ে দাও, যাতে মালিক তাকে পেয়ে যায়।’ সে বলল, ‘হারানো বকরী পাওয়া গেলে?’ তিনি বললেন, ‘সেটি তোমার, নয়ত তোমার ভাইয়ের, নয়ত বাঘের।’

হাদিস ০৯২
মুহাম্মদ ইব্নুল ‘আলা (র) …….. আবূ মূসা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার নবী করীম (সাঃ)কে কয়েকটি অপছন্দনীয় বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হল। প্রশ্নের সংখ্যা যখন বেশি হয়ে গেল, তখন তিনি রেগে গিয়ে লোকদের বললেনঃ ‘তোমরা আমার কাছে যা ইচ্ছা প্রশ্ন কর।’ এক ব্যক্তি বলল, ‘আমার পিতা কে?’ তিনি বললেনঃ ‘তোমার পিতা হুযাফা।’ আর এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল, ‘ইয়া রাসূলুল্লাহ্! আমার পিতা কে?’ তিনি বললেনঃ তোমার পিতা হল শায়বার মাওলা (আযাদকৃত গোলাম) সালিম।’ তখন হযরত ‘উমর (রা) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেহারার অবস্থা দেখে বললেনঃ ‘ইয়া রাসূলুল্লাহ্! আমরা মহান আল্লাহ তা’আলার কাছে তওবা করছি।’

হাদিস ০৯৩
আবুল ইয়ামান (র) ……… আনাস ইব্ন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, একবার রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বের হলেন। তখন আবদুল্লাহ্ ইব্ন হুযাফা দাঁড়িয়ে বললেন, ‘আমার পিতা কে?’ তিনি বললেনঃ ‘তোমার পিতা হুযাফা।’ এরপর তিনি বাবার বলতে লাগলেন, ‘তোমরা আমার কাছে প্রশ্ন কর।’ ‘উমর (রা) তখন হাঁটু গেড়ে বসে বললেনঃ ‘আমরা আহল্লাহ্কে রব হিসাবে, ইসরামকে দীন হিসাবে এবং মুহাম্মদ(সাঃ)কে নবী হিসেবে সন্তুষ্ট চিত্তে গ্রহণ করে নিয়েছি।’ তিনি এ কথা তিনবার বললেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) নীরব হলেন।

হাদিস ০৯৪
‘আবদা (র) …….. আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সাঃ) যখন সালাম করতেন, তনিবার সালাম করতেন। আর যখন কোন কথা বলতেন তা তিনবার বলতেন।

হাদিস ০৯৫
‘আবদা ইব্ন ‘আবদুল্লাহ্ (র) ……… আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সাঃ) যখন কোন কথা বলতেন তখন তা তিনবার বলতেন যাতে তা বুঝে নেওয়া যায়। আর যখন কোন কওমের নিকট এসে সালাম করতেন, তাদের প্রতি তিনবার সালাম করতেন।

হাদিস ০৯৬
মুসাদ্দাদ (র) ……… আবদুল্লাহ্ ইব্ন ‘আমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাদের এক সফরে রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) পেছনে রয়ে গেলেন। এরপর তিনি আমাদের নিকট এমন সময় পৌঁছলেন যখন আমাদের সালাতুল আসরের প্রস্তুতিতে দেরী হয়ে গিয়েছিল। আমরা ওযূ করতে গিয়ে আমাদের পা মোটামুটিভাবে পানি দিয়ে ভিজিয়ে নিচ্ছিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) উচ্চস্বরে ঘোষণা দিলেনঃ ‘পায়ের গোড়ালী শুকনো থাকার জন্য জাহান্নামের শাস্তি রয়েছে।’ তিনি একথা দু’বার কিংবা তিনবার বললেন।

হাদিস ০৯৭
মুহাম্মদ ইব্ন সালাম (র) ……… আবূ বুরদা (র), তাঁর পিতা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেনঃ তিন ধরনের লোকের জন্য দুটি সওয়াব রয়েছেঃ (১) আহলে কিতাব—যে ব্যক্তি তার নবীর ওপর ঈমান এনেছে এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপরও ঈমান এনেছে। (২) যে ক্রীতদাস আল্লাহর হক আদায় করে এবং তার মালিকের হকও (আাদয় করে)। (৩) যার একটি বাঁদী ছিল, যার সাথে সে মিলিত হত। তারপর তাকে সে সুন্দরভাবে আদব-কায়দা শিক্ষা দিয়েছে এবং ভালভাবে দীনী ইলম শিক্ষা দিয়েছে, এরপর তাকে আযাদ করে বিয়ে করেছে; তার জন্য দুটি সওয়াব রয়েছে। এরপর বর্ণনাকরী আমের (র) (তাঁর ছাত্রকে) বলেন, তোমাকে কোন কিছুর বিনিময় ছাড়াই হাদীসটি শিক্ষা দিলাম, অথচ এর চাইতে ছোট হাদীসের জন্যও লোক (দূর-দূরান্ত থেকে) সওয়ার হয়ে মদীনায় আসত।

হাদিস ০৯৮
সুলায়মান ইব্ন হারব (র) …….. ইব্ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী (সাঃ)কে সাক্ষ্য রেখে বলছি, অথবা পরবর্তী বর্ণনাকারী ‘আতা (র) বলেন, আমি ইব্ন আব্বাসকে সাক্ষী রেখে বলছি যে, নবী করীম (সাঃ) (ঈদের দিন পুরুষের কাতার থেকে) বের হলেন আর তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিলাল (রা)। রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) মনে করলেন যে, দূরে থাকার কারনে তাঁর ওয়ায মহিলাদের কাছে পৌঁছে নি। তাই তিনি (পুনরায়) তাঁদের নসীহত করলেন এবং দান-খয়রাত করার উপদেশ দিলেন। তখন মহিলারা কানের দুল ও হাতের আংটি দিয়ে দিতে লাগলেন। আর বিলাল (রা) সেগুলি তাঁর কাপড়ের আচঁলে নিতে লাগলেন। ইসমা‘ঈল (র) ‘আতা (র) সূত্রে বলেন যে, ইব্ন আব্বাস (রা) বলেনঃ আমি নবী (সাঃ)কে সাক্ষী রেখে বলছি।

হাদিস ০৯৯
আবদুল ‘আযীয ইব্ন আবদুল্লাহ্ (র) ……… আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ একবার রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ)কে জিজ্ঞাসা করা হলঃ ইয়া রাসূলুল্লাহ্! কিয়ামতের দিন আপনার সাফা‘আত লাভে কে সবচাইতে বেশি ভগ্যবান হবে? রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বললেন, আবূ হুরায়রা! আমি ধারণা করেছিলাম, এ বিষয়ে তোমার আগে আমাকে আর কেউ প্রশ্ন করবে না। কারন আমি দেখেছি হাদীসের প্রতি তোমার বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। কিয়ামতের দিন আমার সাফ‘আত লাভে সবচাইতে ভাগ্যবান হবে সেই ব্যক্তি যে খালিস দিলে লা ইলাহা ইল্লাহ্ (পূর্ণ কালেমা তাইয়েবা) বলে।

হাদিস ১০০
‘আলা’ ইবন ‘আবদুল জব্বার (র)… আবদুল্লাহ্ ইবন দীনার (র)-এর সূত্রে বির্ণিত রিওয়ায়াতে উমর ইবন আবদুল- ‘আযীয (র)- এর উপরোক্ত হাদীসে ‘আলিমগণের বিদায় নেওয়া’ পির্যন্ত বর্ণিত আছে।

হাদিস ১০১
ইসমা‘ঈল ইবন ‘আবূ উওয়ায়স (র)…আবদুল্লাহ্ ইবন ‘আমর ইবনুল ‘আস (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ কে বলতে শুনেছি যে, আল্লাহ তা‘আলা বান্দার অন্তর থেকে ইলম বের করে উঠিয়ে নেবেন না; বরং আলিমদের উঠিয়ে নেওয়ার মাধ্যমেই ইলম উঠিয়ে নেবেন। যখন কোন আলিম বাকী থাকবে না তখন লোকেরা জাহিলদেরই নেতা হিসেবে গ্রহণ করবে। তাদের জিজ্ঞাসা করা হবে, তারা না জেনেই ফতোয়া দিবে। ফলে তারা নিজেরাও গোমরাহ হবে, আর অপরকেও গোমরাহ করবে। ফিরাবরী (র) বলেন, আব্বাস (র)… হিশাম সূত্রেও অনুরূপ বর্ণিত আছে।

হাদিস ১০২
আদম (র)… আবূ সা‘ঈদ খুদরী (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ মহিলারা একবার নবী করীম কে বলল, পুরূষেরা আপনার কাছে আমাদের চাইতে প্রাধান্য বিস্তার করে আছে। তাই আপনি নিজে আমাদের জন্য একটি দিন ধার্য করে দিন। তিনি তাদের বিশেষ একটি দিনের ওয়াদা করলেন; সে দিন তিনি তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন এবং তাদের ওয়ায-নসীহত করলেন ও নির্দেশ দিলেন। তিনি তাদের যা যা বলেছিলেন, তার মধ্যে একথাও ছিল যে, তোমাদের মধ্যে যে স্ত্রীলোক তিনটি সন্তান আগেই পাঠাবে, তারা তার জন্য জাহান্নামের পর্দাস্বরূপ হয়ে থাকবে। তখন এক স্ত্রীলোক বলল, আর দু’টি পাঠালে? তিনি বললেনঃ দু’টি পাঠালেও।

হাদিস ১০৩
মুহাম্মদ ইবন বাশশার (র)… আবূ সা‘ঈদ (রা) সূত্রে নবী থেকে অনুরুপ বর্ণনা করেছেন। আবদূর রহমান আল-আসবাহানী (র)… আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ এমন তিন সন্তান, যারা সাবালক হয়নি।

হাদিস ১০৪
সা‘ঈদ ইবন আবূ মারয়াম (র)…ইবন আবূ মুলায়কা (রা) বলেন, নবী করীম এর সহধর্মিণী ‘আয়িশা (রা) কোন কথা শুনে বুঝতে না পারলে বার বার জিজ্ঞাসা করতেন। একবার নবী করীম বললেন, “(কিয়ামতের দিন) যার হিসাব নেওয়া হবে তাকে আযাব দেওয়া হবে।” ‘আয়িশা (রা) বলেনঃ আমি জিজ্ঞাসা করলাম, আল্লাহ তা‘আলা কি ইরশাদ করেননি, (তার হিসার-নিকাশ সহজেই নেওয়া হবে) (৮৪:৮)। তখন তিনি বললেনঃ তা কেবল হিসাব পেশ করা। কিন্তু যার হিসাব পুঙ্খানুপুঙ্খরুপে নেওয়া হবে সে ধবংস হবে।

হাদিস ১০৫
আবদুল্লাহ ইবন ইউসুফ (র) আবূ শুরায়হ (রা) থেকে বর্ণিত যে, তিনি ‘আমর ইবন সা‘ঈদ (মদীনার গভর্নর)-কে বললেন, যখন তিনি মক্কায় সেনাবাহিনী প্রেরণ করছিলেন—‘ হে আমীর! আমাকে অনুমতি দিন, আমি আপনাকে এমন একটি হাদীদ শুনাব, যা মক্কা বিজয়ের পরের দিন রাসূলুল্লাহ্ বলেছিলেন। আমার দু’ কান তা শুনেছে, আমার অন্তর তা স্মরণ রেখেছে, আর আমার দু’ চোখ তা দেখেছে। তিনি আল্লাহর প্রশ্নংসা ও মহিমা বর্ণনা করে বললেনঃ মক্কাকে আল্লাহ তা‘আলা হারাম করেছেন, কোন মানুষ তাকে হারাম করেনি। তাই যে লোক আল্লাহর উপর এবং আখিরাতের উপর ঈমান রাখে তার জন্য সেখানে রক্তপাত করা এবং সেখানকার কোন গাছপালা কাটা হালাল নয়। কেউ যদি রাসূলুল্লাহর (সেখানকার) লড়াইকে দলীল হিসেবে পেশ করে তবে তোমরা বলে দিও যে, আল্লাহ তা‘আলা তাঁর রাসূলকে এর অনুমতি দিয়েছিলেন; কিন্তু তোমাদের অনুমতি দেন নি। আমাকেও সে দিনের কিছু সময়ের জন্য অনুমতি দিয়েছিলেন। তারপর আগের মতো আজ আবার এর নিষেধাজ্ঞা ফিরে এসেছে। উপস্থিত ব্যক্তিরা যেন অনুপস্থিত ব্যক্তিদের কাছে (এ বাণী) পৌঁছে দেয়।” তারপর আবূ শুরায়হ (রা)- কে জিজ্ঞাসা করা হল, ‘আপনার এ হাদীদ শুনে ‘আমর কি বলল?’ (আবূ শুরায়হ (রা) উত্তর দিলেন) সে বললঃ ‘হে আবূ শুরায়হ্! (এ বিষয়ে) আমি তোমার চাইতে ভাল জানি। মক্কা কোন বিদ্রোহীকে, কোন খুনের পলাতক আসামীকে এবং কোন সন্ত্রাসীকে আশ্রয় দেয় না।’

হাদিস ১০৬
আবদুল্লাহ ইবন আবদুল ওয়াহহাব (র)… আবূ বাকরা (রা) নবী এর কথা উল্লেখ করে বলেন যে, তিনি বলেছেনঃ তোমাদের জান, তোমাদের মাল – বর্ণনাকারী মুহাম্মদ (র) বলেন, ‘আমার মনে হয়, তিনি বলেছিলেনঃ এবং তোমাদের মানসম্মান (অন্য মুসলমানের জন্য) এ শহরে এ দিনের মতই মর্যাদা সম্পন্ন। শোন, (আমার এ বাণী যেন) তোমাদের মধ্যে উপস্থিত ব্যক্তি অনুপস্থিত ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেয়। বর্ণনাকারী মুহাম্মদ (র) বলেন, রাসূলুল্লাহ সত্য বলেছেন, তা-ই (তাবলীগ) হয়েছে। তারপর রাসূলুল্লাহ দু’বার করে বলেন, হে লোক সকল! ‘আমি কি পৌঁছে দিয়েছি?’

হাদিস ১০৭
আলী ইবনুল জা‘দ (র)… ‘আলী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী বলেছেনঃ তোমরা আমার উপর মিথ্যারোপ করো না। কারণ আমার উপর যে মিথ্যারোপ করবে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।

হাদিস ১০৮
আবুল ওয়ালীদ (র)… আবদুল্লাহ ইবনু’য-যুবায়র (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি আমার পিতা যুবায়রকে বললামঃ আমি তো আপনাকে অমুক অমুকের ন্যায় রাসূলুল্লাহ –এর হাদীস বর্ননা করতে শুনি না। তিনি বললেনঃ ‘জেনে রাখ, আমি তাঁর থেকে দূরে থাকিনি, কিন্তু (হাদীস বর্ণনা করি না এজন্য যে,) আমি বলতে শুনেছি, যে আমার উপর মিথ্যারোপ করবে সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।’

হাদিস ১০৯
আবূ মা‘মার (র)… আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ এ কথাটি তোমাদেরকে বহু হাদীস বর্ণনা করতে আমাকে বাধা দেয় যে, নবী বলেছেনঃ যে ইচ্ছাকৃতভাবে আমার উপর মিথ্যারোপ করে সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।

হাদিস ১১০
মাক্কী ইবন ইবরাহীম (র)… সালমা ইবনে আকওয়া (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি নবী করীম – কে বলতে শুনেছি, যে ব্যাক্তি আমার উপর এমন কথা আরোপ করে যা আমি বলিনি, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।’