আযান অধ্যায় ২ (৬২৭-৬৭৭)

হাদিস ৬২৭
মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে দিন আল্লাহর রহমতের ছায়া ব্যতীত অন্য কোন ছায়া থাকবে না, সেদিন সাত ব্যাক্তিকে আল্লাহ তা’লা তাঁর নিজের (আরশের) ছায়ায় আশ্রয় দিবেন। ১ ন্যায়পরায়ণ শাসক, ২ সে যুবক যার জীবন গড়ে উঠেছে তার রবের ইবাদাতের মধ্যে, ৩ সে ব্যাক্তি যার কলব মসজিদের সাথে লেগে রয়েছে, ৪ সে দু’ব্যাক্তি যারা পরস্পরকে ভালোবাসে আল্লাহর ওয়াস্তে, একত্র হয় আল্লাহর জন্য এবং পৃথকও হয় আল্লাহর জন্য, ৫ সে ব্যাক্তি যাকে কোন উচ্চ বংশীয় রূপসী নারী আহ্বান জানায়, কিন্তু সে এ বলে তা প্রত্যাখ্যান করে যে, ‘আমি আল্লাহকে ভয় করি’, ৬ সে ব্যাক্তি যে এমন গোপনে দান করে যে, তার ডান হাত যা খরচ করে বাম হাত তা জাননা , ৭ সে ব্যাক্তি যে নির্জনে আল্লাহর জিকির করে, ফলে তার দু’চোখ দিয়ে অশ্রু প্রবাহিত হয়।

হাদিস ৬২৮
কুতাইবা (রহঃ) হুমাইদ (রহঃ)থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আনাস (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করা হল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি আংটি ব্যবহার করতেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। একরাতে তিনি ইশার সালাত (নামায/নামাজ) অর্ধরাত পর্যন্ত বিলম্বে আদায় করলেন। সালাত (নামায/নামাজ) শেষ করে আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বললেন, লোকেরা সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে ঘুমিয়ে গেছে। কিন্তু তোমরা যতক্ষণ সালাত (নামায/নামাজ)-এর জন্য অপেক্ষা করেছ, ততক্ষণ সালাত (নামায/নামাজ) রত ছিলে বলে গণ্য করা হয়েছে। আনাস (রাঃ) বলেন। এ সময় আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আংটির চমক দেখতে পাচ্ছিলাম।

হাদিস ৬২৯
আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) সুত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ যে ব্যাক্তি সকাল বা বিকালে যতবার মসজিদে যায়, আল্লাহ তা’লা তার জন্য ততবার মেহমানদারীর আয়োজন করেন।

হাদিস ৬৩০
আবদুল আযীয ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু মালিক ইবনু বুহাইনা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যাক্তির পাশ দিয়ে গেলেন। (অন্য সুত্রে ইমাম বুখারী (রহঃ) বলেন, আব্দুর রাহমান (রহঃ) হাফস ইবনু আসিম (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি মালিক ইবনু বুহাইনা নামক আযদ গোত্রীয় এক ব্যাক্তিকে বলতে শুনেছি যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যাক্তিকে দু’রাকাআত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে দেখলেন। তখন ইকামত হয়ে গেছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাত (নামায/নামাজ) শেষ করলেন, লোকেরা সে লোকটিকে ঘিরে ফেলল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, ফজরের সালাত (নামায/নামাজ) কি চার রাকাআত? ফজরের সালাত (নামায/নামাজ) কি চার রাকাআত? গুনদার ও মুয়াজ (রহঃ) শু’বা (রহঃ) থেকে হাদিসটি বর্ণিত বলে উল্লেখ করেছেন। (এ বর্ণনাটই সঠিক) তবে হাম্মাদ (রহঃ) ও সা’দ (রহঃ) এর মধ্যে সে হাফস (রহঃ) থেকে হাদীসটি বর্ননা করতে গিয়ে মালিক ইবনু বুহাইনা (রহঃ) থেকে বর্ণিত বলে উল্লেখ করেছেন।

হাদিস ৬৩১
উমর ইবনু হাফস ইবনু গিয়াস (রহঃ) আসওয়াদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আয়িশা (রাঃ) এর কাছে নিলাম এবং সালাত (নামায/নামাজ)-এর পাবন্দী ও উহার তা’যীম সম্বন্ধে আলোচনা করছিলাম। আয়িশা (রাঃ) বললেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন অন্তিম রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়লেন, তখন সালাত (নামায/নামাজ)-এর সময় হলে আযান দেওয়া হল। তখন তিনি বললেন, আবূ বকরকে লোকদের নিয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে বল। তাঁকে বলা হল যে, আবূ বকর (রাঃ) অত্যন্ত কোমল হৃদয়ের লোক। তিনি যখন আপনার স্থানে দাঁড়াবেন তখন লোকদের নিয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করা তাঁর পক্ষে সম্ভব হবে না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবারো সে কথা বললেন এবং তারা আবারো তা-ই বললেন। তৃতীয়বারও তিনি সে কথা বললেন। তিনি আরো বললেনঃ তোমরা ইউসুফ (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সাথী মহিলাদের মত। আবূ বকরকেই বল, যেন লোকদের নিয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে নেয়। আবূ বকর (রাঃ) এগিয়ে গিয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় শুরু করলেন। এদিকে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেকে একটু হালকাবোধ করলেন। দু’জন লোকের কাঁধে ভর দিয়ে বেরিয়ে এলেন। আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমার চোখে এখনও স্পষ্ট ভাসছে। অসুস্থতার কারণে তাঁর দু’পা মাটির উপর দিয়ে হেঁচড়ে যাচ্ছিল। তখন আবূ বকর (রাঃ) পেছনে সরে আসতে চাইলেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে স্বস্থানে থাকার জন্য ইঙ্গিত করলেন। তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে একটু সামনে আনা হল, তিনি আবূ বকর (রাঃ) এর পাশে বসলেন। আ’মাশকে জিজ্ঞাসা করা হলঃ তাহলে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইমামতি করছিলেন। আবূ বকর (রাঃ) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুসরণে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করছিলেন এবং লোকেরা আবূ বকর (রাঃ) এর সালাত (নামায/নামাজ)-এর অনুকরন করছিল। আ’মাশ (রাঃ) মাথার ইশারায় বললেন, হ্যাঁ। আবূ দাউদ (রহঃ) শু’বা (রহঃ) সূত্রে আ’মাশ (রাঃ) থেকে হাদীসের কতকাংশ উল্লেখ করেছেন। আবূ মু’আবিয়া (রহঃ) অতিরিক্ত বলেছেন, তিনি আবূ বকর (রাঃ) এর বাঁ দিকে বসেছিলেন এবং আবূ বকর (রাঃ) দাঁড়িয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেছিলেন।

হাদিস ৬৩২
ইব্রাহীম ইবনু মূসা (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন একেবারে কাতর হয়ে গেলেন এবং তাঁর রোগ বেড়ে গেল, তখন তিনি আমার ঘরে সেবা-শুশ্রূষার জন্য তাঁর অন্যান্য স্ত্রীগণের কাছে সম্মতি চাইলেন। তাঁরা সম্মতি দিলেন। সে সময় দু’জন লোকের কাঁধে ভর দিয়ে (সালাত (নামায/নামাজ)-এর জন্য) তিনি বের হলেন, তাঁর দু’পা মাটিতে হেঁচড়িয়ে যাচ্ছিলো। তিনি ছিলেন আব্বাসা (রাঃ) ও অপর এক সাহাবীর মাঝখানে। (বর্ননাকারী) উবায়দুল্লাহ (রহঃ) বলেন, আয়িশা (রাঃ) এর বর্ণিত এ ঘটনা ইবনু আব্বাস (রাঃ) এর নিকট ব্যক্ত করি। তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি জানো, তিনি কে ছিলেন, যার নাম আয়িশা (রাঃ) বলেন নি? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, তিনি ছিলেন আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ)।

হাদিস ৬৩৩
আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) নাফি’ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইবনু উমর (রাঃ) একবার প্রচন্ড শীত ও বাতাসের রাতে সালাত (নামায/নামাজ)-এর আযান দিলেন। তারপর ঘোষণা দিলেন, প্রত্যেকে নিজ নিজ আবাসে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে নাও, এরপর তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রচণ্ড শীত ও বৃষ্টির রাত হলে মুয়াজ্জ্বীনকে এ কথা বলার নির্দেশ দিতেন - প্রত্যেকে নিজ নিজ আবাসে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে নাও।

হাদিস ৬৩৪
ইসমাইল (রহঃ) মাহমুদ ইবনু রাবী’ আল আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইতবান ইবনু মালিক (রাঃ) তাঁর নিজ গোত্রের ইমামতি করতেন। তিনি ছিলেন অন্ধ। একদিন তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বললেন। ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! কখনো কখনো ঘোর অন্ধকার ও বর্ষণ প্রবাহ হয়ে পড়ে। অথচ আমি একজন অন্ধ ব্যাক্তি। ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আপনি আমার ঘরে কোন একস্থানে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করুণ, যে স্থানটিকে আমার সালাত (নামায/নামাজ)-এর স্থান হিসেবে নির্ধারন করবো। তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ঘরে এলেন এবং বললেনঃ আমার সালাত (নামায/নামাজ) আদায়ের জন্য কোন জায়গাটি তুমি ভালো মনে কর? তিনি ইশারা করে ঘরের জায়গা দেখিয়ে দিলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে সালার আদায় করলেন।

হাদিস ৬৩৫
আবদুল্লাহ ইবনু আবদুল ওয়াহহাব (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু হারিস (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক বৃষ্টির দিনে ইবনু আব্বাস (রাঃ) আমাদের উদ্দেশ্যে খুৎবা দিচ্ছিলেন। মুয়াজ্জ্বীন যখন ‘হাইয়া আলাস সালাহ’ পর্যন্ত পৌছলো, তখন তিনি তাঁকে বললেন, ঘোষণা করে দাও যে, সালাত (নামায/নামাজ) যার যার আবাসে। এ শুনে লোকেরা একে অন্যের দিকে তাকাতে লাগল – যেন তারা বিষয়টিকে অপছন্দ করল। তিনি তাদের লক্ষ করে বললেন, মনে হয় তোমরা বিষয়টি অপছন্দ করছ। তবে, আমার চেয়ে যিনি উত্তম ছিলেন অর্থাৎ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনই এরূপ করেছেন। একথা সত্য যে জুম্মার সালাত (নামায/নামাজ) ওয়াজিব। তবে তোমাদের অসুবিধায় ফেলা আমি পছন্দ করি না। হাম্মাদ (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকেও অনুরূপ বর্ণিত আছে। তবে এ সূত্রে এরূপ উল্লেখ আছে, আমি তোমাদের গুনাহর অভিযোগে ফেলতে পছন্দ করি না যে, তোমরা হাঁটু পর্যন্ত কাদা মাড়িয়ে আসবে।

হাদিস ৬৩৬
মুসলিম ইবনু ইব্রাহীম (রহঃ) আবূ সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবূ সায়ীদ খুদরী (রাঃ) কে (শবে-কদর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা) করলাম, তিনি বললেন, একখন্ড মেঘ এসে এমন ভাবে বর্ষণ শুরু করল যে, যার ফলে (মসজিদে নববীর) ছাদ দিয়ে পানি পড়া শুরু হল। কেননা, (তখন মসজিদের) ছাদ ছিল খেজুরের ডালের তৈরী। এমন সময় সালাত (নামায/নামাজ)-এর ইকামত দেওয়া হল, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে পানি ও কাদার উপর সিজদা করতে দেখলাম, এমন কি আমি তাঁর কপালেও কাদার চিহ্ন দেখতে পেলাম।

হাদিস ৬৩৭
আদম (রহঃ) আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আনাস (রাঃ) কে বলতে শুনেছি, এক আনসারী (সাহাবী) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বললেন আমি আপনার সাথে মসজিদে এসে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে অক্ষম। তিনি ছিলেন মোটা। তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য কিছু খাবার তৈরি করলেন এবং তাঁকে বাড়িতে দাওয়াত করে নিয়ে গেলেন। তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এর জন্য এর জন্য একটি চাটাই পেতে দিলেন এবং চাটাইয়ের একপ্রান্তে কিছু পানি ছিটিয়ে দিলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে চাটাইয়ের উপর দু’ রাকা’আত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। জারুদ গোত্রীয় একব্যাক্তি আনাস (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করল, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি চাশতের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন নাকি? তিনি বললেন, সে দিন ব্যতীত আর কোন দিন তাঁকে তা আদায় করতে দেখিনি।

হাদিস ৬৩৮
মূসা’দ্দাদ (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন রাতের খাবার উপস্থিত করা হয়, আর সে সময় সালাত (নামায/নামাজ)-এর ইকামত হয়ে যায়, তখন প্রথমে খাবার খেয়ে নাও।

হাদিস ৬৩৯
ইয়াহইয়া ইবনু বুকাইর (রহঃ) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বিকেলের খাবার পরিবেশন করা হলে মাগরিবের সালাত (নামায/নামাজ)-এর আগে তা খেয়ে নিবে। খাওয়া রেখে সালাত (নামায/নামাজ) তাড়াহুড়া করবে না।

হাদিস ৬৪০
উবায়দুল্লাহ ইবনু ইসমাইল (রহঃ) ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন তোমাদের কারো সামনে রাতের খাবার উপস্থিত করা হয়, অপর দিকে সালাত (নামায/নামাজ)-এর ইকামত হয়ে যায়, তখন আগে খাবার খেয়ে নিবে। খাওয়া রেখে সালাত (নামায/নামাজ) তাড়াহুড়া করবে না। (নাফি’ (রহঃ) বলেন) ইবনু উমর (রাঃ) এর জন্য খাবার পরিবেশন করা হত, সে সময় সালাত (নামায/নামাজ)-এর ইকামত দেয়া হত, তিনি খাবার শেষ না করে সালাত (নামায/নামাজ) আসতেন না। অথচ তিনি ইমামের কিরাআত শুনতে পেতেন। যুহাইর (রহঃ) ও ওয়াহব ইবনু উসমান (রহঃ) মূসা ইবনু ওকবা (রহঃ) সূত্রে ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন খাবার খেতে থাক, তখন সালাত (নামায/নামাজ)-এর ইকামত হয়ে গেলেও খাওয়া শেষ না করে তাড়াহুড়া করবে না। আবূ আবদুল্লাহ (ইমাম বুখারী (রহঃ) বলেন, আমাকে ইব্রাহীম ইবনু মুনযির (রহঃ) এ হাদিসটি ওয়াহাব ইবনু উসমান (রহঃ) থেকে বর্ননা করেছেন এবং ওয়াহাব হলেন মদিনাবাসী।

হাদিস ৬৪১
আব্দুল আযীয ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) আমর ইবনু উমাইয়্যা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি দেখলাম রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (বকরির) সামনের রানের গোশত কেটে খাচ্ছেন, এমন সময় তাঁকে সালাত (নামায/নামাজ)-এর জন্য ডাকা হল। তিনি তখনই ছুরি রেখে দিয়ে উঠে গেলেন ও সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন, কিন্তু এজন্য নতুন উযূ (ওজু/অজু/অযু) করেন নি।

হাদিস ৬৪২
আদম (রহঃ) আসওয়াদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আয়িশা (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করলাম, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে থাকা অবস্থায় কি করতেন? তিনি বললেন, ঘরের কাজ-কর্মে ব্যস্ত থাকতেন। অর্থাৎ পরিজনের সহায়তা করতেন। আর সালাত (নামায/নামাজ)-এর সময় এতে সালাত (নামায/নামাজ) চলে যেতেন।

হাদিস ৬৪৩
মূসা ইবনু ইসমাইল (রহঃ) কিলাবাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার মালিক ইবনু হুয়াইরিস (রাঃ) আমাদের এ মসজিদে এলেন। তিনি বললেন, আমি অবশ্যই তোমাদের নিয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করবো, বস্তুত আমার উদ্দেশ্য সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করা নয় বরং নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে আমি যেভাবে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে দেখেছি, তা তোমাদের দেখানোই আমাদের উদ্দেশ্য। (আইয়ুব (রহঃ) বলেন) আমি আবূ কিলাবা (রহঃ) কে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি কি ভাবে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন? তিনি বললেন, আমাদের এর শাইখের মত আর শাইখ প্রথম রাকা’আতের সিজদা শেষ করে যখন মাথা উঠাতেন, তখন দাড়াবার আগে একটু বসে নিতেন।

হাদিস ৬৪৪
ইসহাক ইবনু নাসর (রহঃ) আবূ মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসুস্থ হয়ে পড়লেন, ক্রমে তাঁর অসুস্থতা বেড়ে যায়। তখন তিনি বললেন, আবূ বকরকে লোকদের নিয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে বল। আয়িশা (রাঃ) বললেন তিনি তো কোমল হৃদয়ের লোক। যখন আপনার স্থানে দাঁড়াবেন, তখন তিনি লোকদের নিয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে পারবেন না। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবারো বললেন, আবূ বকরকে বল, সে যেন লোকদের নিয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে। আয়িশা (রাঃ) আবার সে কথা বললেন। তখন তিনি আবার বললেন, আবূ বকরকে বল, সে যেন লোকদের নিয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে। তোমরা ইউসুফের (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাথী রমণীদেরই মত। তারপর একজন সংবাদ দাতা আবূ বকর (রাঃ) এর নিকট সংবাদ নিয়ে আসলেন এবং তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবদ্দশায়ই লোকদের নিয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন।

হাদিস ৬৪৫
আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) উম্মুল মু’মিনীন আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্তিম রোগে আক্রান্ত অবস্থায় বললেন, আবূ বকর (রাঃ) কে বল, সে যেন লোকদের নিয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে। আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, আবূ বকর (রাঃ) যখন আপনার স্থানে দাঁড়াবেন, তখন তাঁর কান্নার দরুন লোকেরা তাঁর কিছুই শুনতে পাবেনা। কাজেই উমর (রাঃ) কে লোকদের নিয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায়ের নির্দেশ দিন। আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমি হাফসা (রাঃ) কে বললাম, তুমিও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বল যে, আবূ বকর (রাঃ) আপনার স্থানে দাঁড়ালে কান্নার দরুন লোকেরা তাঁর কিছুই শুনতে পাবেনা। তাই উমর (রাঃ) কে লোকদের নিয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায়ের নির্দেশ দিন। হাফসা (রাঃ)ও তাই করলেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, থাম, তোমরা তোমরা ইউসুফের (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাথী রমণীদেরই ন্যায়। আবূ বকর (রাঃ) কে লোকদের নিয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে বল। হাফসা (রাঃ) তখন আয়িশা (রাঃ) কে বললেন, আমি তোমার কাছ থেকে কখনও কল্যাণকর কিছু পাইনি।

হাদিস ৬৪৬
আবূ ইয়ামান (রহঃ) আনাস ইবনু মালিক আনসারী (রাঃ) যিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুসারী, খাদিম ও সাহাবী ছিলেন। তিনি বর্ননা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্তিম রোগে আক্রান্ত অবস্থায় আবূ বকর (রাঃ) সাহাবীগণকে নিয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন। অবশেষে যখন সোমবার এবং লোকেরা সালাত (নামায/নামাজ)-এর জন্য কাতারে দাঁড়ালো, তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুজরা শরীফের পর্দা উঠিয়ে আমাদের দিকে তাকালেন। তিনি দাঁড়িয়ে ছিলেন তাঁর চেহারা যেন কোরআনে ের পৃষ্ঠা (এর ন্যায় ঝলমল করছিল)। তিনি মুচকি হাসলেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখতে পেয়ে আমরা খুশিতে প্রায় আত্মহারা হয়ে গিয়ে ছিলাম এবং আবূ বকর (রাঃ) কাতারে দাঁড়ানোর জন্য পিছন দিকে সরে আসছিলেন। তিনি ভেবেছিলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হয়তো সালাত (নামায/নামাজ) আসবেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে ইশারায় বললেন যে, তোমরা তোমাদের সালাত (নামায/নামাজ) পূর্ণ করে নাও। এরপর তিনি পর্দা ফেলে দিলেন। সে দিনই তিনি ইন্তেকাল করেন।

হাদিস ৬৪৭
আবূ মা’মার (রহঃ) আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (রোগশয্যায় থাকার কারণে) তিনি দিন পর্যন্ত নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাইরে আসেন নি। এ সময় একবার সালাত (নামায/নামাজ)-এর ইকামত দেওয়া হল। আবূ বকর (রাঃ) ইমামতি করার জন্য অগ্রসর হচ্ছিলেন। এমন সময় নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ঘরের পর্দা ধরে উঠালেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চেহারা যখন আমাদের সম্মুখে প্রকাশ পেল, তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাতের ইশারায় আবূ বকর (রাঃ) কে (ইমামতির জন্য) এগিয়ে যেতে বললেন এবং পর্দা ফেলে দেন। তারপর মৃত্যুর পূর্বে তাঁকে আর দেখার সৌভাগ্য হয়নি।

হাদিস ৬৪৮
ইয়াহিয়া ইবনু সুলাইমান (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রোগ যখন খুব বেড়ে গেল, তখন তাঁকে সালাত (নামায/নামাজ)-এর জামা’আত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হল। তিনি বললেন, আবূ বকরকে বল, সে যেন লোকদের নিয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে নেয়। আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, আবূ বকর (রাঃ) অত্যন্ত কোমল মনের লোক। কিরা’আতের সময় কান্নায় ভেঙ্গে পড়বেন। তিনি বললেন, তাকেই সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে বল। আয়িশা (রাঃ) সে কথার পুনরাবৃত্তি করলেন। তিনি আবারো বললেন, তাঁকেও সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে বল। তোমরা ইউসুফ (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সাথী রমণীদের মত। এ হাদীসটি যুহরীর (রহঃ) থেকে বর্ণনা করার ব্যাপারে যুবাইদী যুহরীর ভাতিজা ও ইসহাক ইবনু ইয়াহইয়া কালবী (রহঃ) ইউনুস (রহঃ) এর অনুসরণ করেছেন এবং মা’মার ও উকায়ল (রহঃ) যুহরী (রহঃ) এর মাধ্যমে হামযা (রহঃ) সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদিসটি (মুরসাল হিসাবে) বর্ণনা করেন।

হাদিস ৬৪৯
যাকারিয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, অন্তিম রোগে আক্রান্ত অবস্থায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বকর (রাঃ) কে লোকদের নিয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। তাই তিনি লোকদের নিয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেন। উরওয়া (রাঃ) বর্ননা করেন, ইতিমধ্যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটু সুস্থতা বোধ করলেন এবং সালাত (নামায/নামাজ)-এর জন্য বেরিয়ে আসলেন। তখন আবূ বকর (রাঃ) লোকদের ইমামতি করছিলেন। তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখে পিছিয়ে আসতে চাইলেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে ইশারা করলেন যে, যেভাবে আছ সেভাবেই থাক। তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বকর (রাঃ) এর বরাবর তাঁর পাশে বসে গেলেন। তখন আবূ বকর (রাঃ) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে অনুসরণ করে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করছিলেন আর লোকেরা আবূ বকর (রাঃ) কে অনুসরণ করে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করছিল।

হাদিস ৬৫০
আবূদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) সাহল ইবনু সা’দ সায়িদী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমর ইবনু আওফ গোত্রের এক বিবাদ মীমাংসার জন্য সেখানে যান। ইতিমধ্যে (আসরের) সালাত (নামায/নামাজ)-এর সময় হয়ে গেলে, মুয়াজ্জ্বীন আবূ বকর (রাঃ) এর কাছে এসে বললেন, আপনি কি লোকদের নিয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে নেবেন? তা হলে ইকামত দেই? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আবূ বকর (রাঃ) সালাত (নামায/নামাজ) আরম্ভ করলেন। লোকেরা সালাত (নামায/নামাজ) থাকতে থাকতেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাশরীফ আনলেন এবং তিনি সারিগুলো ভেদ করে প্রথম সারিতে দাঁড়িয়ে গেলেন। ১ তখন সাহাবীগন হাতে তালি দিতে লাগলেন। আবূ বকর (রাঃ) সালাত (নামায/নামাজ) আর কোন দিকে তাকাতেন না। কিন্তু সাহাবীগন বেশী করে হাতে তালি দিতে লাগলেন, তখন তিনি তাকালেন এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখতে পেলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার প্রতি ইশারা করলেন – নিজের জায়গায় থাক। তখন আবূ বকর (রাঃ) দু’হাত উঠিয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নির্দেশের জন্য আল্লাহর প্রশংসা করে পিছিয়ে গেলেন এবং কাতারের বরাবর দাঁড়ালেন। আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সামনে এগিয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। সালাত (নামায/নামাজ) শেষ করে তিনি বললেন, হে আবূ বকর! আমি তোমাকে নির্দেশ দেয়ার পর কি সে তোমাকে বাধা দিয়েছিল? আবূ বকর (রাঃ) বললেন, আবূ কুহাফার পুত্রের জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে দাঁড়িয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করা শোভা পায় না। তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি তোমাদের এত হাতে তালি দিতে দেখলাম। ব্যাপার কি? শোন! সালাত (নামায/নামাজ) কারো কিছু ঘটলে সুবহানাল্লাহ বলবে। সুবহানাল্লাহ বললেই তাঁর প্রতি দৃষ্টি দেওয়া হবে। আর হাতে তালি দেওয়া তো মহিলাদের জন্য।

হাদিস ৬৫১
সুলাইমান ইবনু হারব (রহঃ) মালিক ইবনু হুওয়ায়রিস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা একদল যুবক একবার নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে হাযির হলাম এবং প্রায় বিশ দিন আমরা সেখানে থাকলাম। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন অত্যন্ত দয়ালু। তাই তিনি আমাদের বললেনঃ তোমরা যখন নিজ দেশে ফিরে গিয়ে লোকদের দ্বীন শিক্ষা দিবে, তখন তাদের এ সময়ে অমুক সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে বলবে। এবং ওই সময়ে অমুক সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে বলবে। তারপর যখন সালাত (নামায/নামাজ)-এর সময় হয় তখন তোমাদের একজন আযান দিবে এবং তোমাদের মধ্যে বয়োজ্যেষ্ঠ ইমামতি করবে।

হাদিস ৬৫২
মু’আয ইবনু আসা’দ (রহঃ) ইতবান ইবনু মালিক আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (আমার ঘরে প্রবেশের) অনুমতি চাইলেন। আমি তাঁকে অনুমতি দিলাম। তিনি বল্লেনঃ তোমার ঘরের কোন জায়গাটি আমার সালাত (নামায/নামাজ) আদায়ের জন্য তুমি পছন্দ কর? আমি আমার পছন্দ মত একটি স্থান ইশারা করে দেখালাম। তিনি সেখানে সালাত (নামায/নামাজ)-এর জন্য দাঁড়ালেন, আমরা তাঁর পিছনে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ালাম। এরপর তিনি সালাম ফিরালেন এবং আমরা সালাম ফিরালাম।

হাদিস ৬৫৩
আহমদ ইবনু ইউনুস (রহঃ) উবায়দুল্লাহ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু উতবা (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আয়িশা (রাঃ) এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে বললাম, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর (অন্তিম কালের) অসুস্থতা সম্পর্কে কি আপনি আমাকে কিছু শোনাবেন? তিনি বললেন, অবশ্যই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মারাত্মক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন, লোকেরা কি সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে ফেলেছে? আমরা বললাম, না, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! তারা আপনার অপেক্ষায় আছেন। তিনি বললেন, আমার জন্য গসলের পাত্রে পানি দাও। আয়িশা (রাঃ) বলেন আমরা তাই করলাম। তিনি গোসল করলেন। তারপর একটু উঠতে চাইলেন। কিন্তু বেহুঁশ পয়ে পড়লেন। কিছুক্ষন পর একটু হুঁশ ফিরে পেলে আবার তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, লোকেরা কি সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে ফেলেছে? আমরা বললাম, না, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! তারা আপনার অপেক্ষায় আছেন। তিনি বললেন, আমার জন্য গোসলের পাত্রে পানি নিয়ে রাখ। আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমরা তাই করলাম। তিনি গোসল করলেন। আবার উঠতে চাইলেন, কিন্তু বেহুঁশ হয়ে পড়লেন। কিছুক্ষন পর আবার হুঁশ ফিরে পেয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, লোকেরা কি সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে ফেলেছে? আমরা বললাম, না, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! তারা আপনার অপেক্ষায় আছেন। তিনি বললেন, আমার জন্য গোসলের পাত্রে পানি নিয়ে রাখ। তারপর তিনি উঠে বসলেন, এবং গোসল করলেন এবং উঠতে গিয়ে বেহুঁশ হয়ে পড়লেন। কিছুক্ষন পর আবার হুঁশ ফিরে পেলেন এবং জিজ্ঞাসা করলেন, লোকেরা কি সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে ফেলেছে? আমরা বললাম, না, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! তারা আপনার অপেক্ষায় আছেন। ওদিকে সাহাবীগণ ইশার সালাত (নামায/নামাজ)-এর জন্য নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অপেক্ষায় মসজিদে বসে ছিলেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বকরের নিকট এ মর্মে লোক পাঠান যে, তিনি যেন লোকদের হিয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে নেন। সংবাদ বাহক আবূ বকর (রাঃ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনাকে লোকদের নিয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন। আবূ বকর (রাঃ) অত্যন্ত কোমল মনের লোক ছিলেন, তাই তিনি উমর (রাঃ) কে বললেন, হে উমর! আপনি সাহাবীগণকে নিয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে নিন। উমর (রাঃ) বললেন, আপনই এর জন্য বেশি হকদার। তাই আবূ বকর সে কদিন সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। তারপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটু নিজে হালকাবোধ করলেন এবং দু’জন লোকের কাঁধে ভর করে যোহরের সালাত (নামায/নামাজ)-এর জন্য বের হলেন। সে দু’জনের একজন ছিলেন আব্বাস (রাঃ) আবূ বকর (রাঃ) তখন সাহাবীগণকে নিয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করছিলেন। তিনি যখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখতে পেলেন, পিছনে সরে আসতে চাইলেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে পিছিয়ে না আসার জন্য ইশারা করলেন এবং বললেন তোমরা আমাকে তাঁর পাশে বসিয়ে দাও। তারা তাঁকে আবূ বকর (রাঃ) এর পাশে বসিয়ে দিলেন। বর্ননাকারী বলেন, তারপর আবূ বকর (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাত (নামায/নামাজ)-এর ইক্তিদা করে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে লাগলেন। আর সাহাবীগণ আবূ বকর (রাঃ) এর সালাত (নামায/নামাজ)-এর ইক্তিদা করতে লাগলেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন উপবিষ্ট ছিলেন। উবায়দুল্লাহ বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললাম, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অন্তিম কালের অসুস্থতা সম্পর্কে আয়িশা (রাঃ) আমাকে যে হাদীস বর্ননা করেছেন, তা কি আমি আপনার নিকট বর্ননা করব না? তিনি বললেন, করুণ। তাই আমি তাঁকে সে হাদীস শোনালাম। তিনি এ বর্ণনার কোন অংশেই আপত্তি করলেন না, তবে তাঁকে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন যে, আব্বাস (রাঃ) এর সাথে যে অপর সাহাবী ছিলেন, আয়িশা (রাঃ) কি আপনার নিকট তাঁর নাম উল্লেখ করেছেন? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, তিনি হলেন, আলী (রাঃ)।

হাদিস ৬৫৪
আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) উম্মুল মু’মিনীন আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা অসুস্থতার কারণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ গৃহে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেন এবং বসে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেছিলেন, একদল সাহাবী তাঁর পিছনে দাঁড়িয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে লাগলেন। তিনি তাদের প্রতি ইশারা করলেন যে, বসে যাও। সালাত (নামায/নামাজ) শেষ করার পর তিনি বললেন, ইমাম নির্ধারণ করা হয় তাঁর ইক্তিদা করার জন্য। কাজেই সে যখন রুকু করে তোমরা ও তখন রুকু করবে, এবং সে যখন রুকু থেকে মাথা উঠায় তখন তোমরাও মাথা উঠাবে, আর সে যখন বসে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে, তখন তোমরা সকলেই বসে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করবে।

হাদিস ৬৫৫
আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোড়ায় সাওয়ার হন এরপর তিনি তা থেকে পড়ে যান, এতে তাঁর ডান পাশে একটু আঘাত লাগে। তিনি কোন এক ওয়াক্তের সালাত (নামায/নামাজ) বসে আদায় করেছিলেন, আমরাও তাঁর পেছনে বসে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলাম। সালাত (নামায/নামাজ) শেষ করার পর তিনি বললেন, ইমাম নির্ধারণই করা হয় তাঁর ইক্তিদা করার জন্য। কাজেই ইমাম যখন দাঁড়িয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে তখন তোমরাও দাঁড়িয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করবে, সে যখন রুকু করে তখন তোমরাও রুকু করবে, সে যখন উঠে, তখন তোমরাও উঠবে, আরা সে যখন ‘সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলে তোমরাও তখন ‘রব্বানা ওয়ালাকাল হামদ’ বলবে। আর সে যখন বসে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করবে, তখন তোমরা সবাই বসে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করবে। আবূ আবদুল্লাহ ইমাম বুখারী (রহঃ) বলেন, হুমাইদী (রহঃ) বলেছেন যে, যখন ইমাম বসে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেন, তখন তোমরাও বসে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নির্দেশ ছিল পূর্বে অসুস্থকালীন। এরপর তিনি বসে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেন এবং সাহাবীগণ তাঁর পেছনে দাঁড়িয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করছিলেন, কিন্তু তিনি তাদের বসতে নির্দেশ দেননি। আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আমলের মধ্যে সর্বশেষ আমলই গ্রহণীয়।

হাদিস ৬৫৬
মূসা দ্দার (রহঃ) বারা’আ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি মিথ্যাবাদী নন (১) তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলার পর যতক্ষণ পর্যন্ত সিজদায় না যেতেন, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের কেউ পিঠ বাঁকা করতেন না। তিনি সিজদায় যাওয়ার পর আমরা সিজদায় যেতাম। ১ ‘তিনি মিথ্যাবাদী নন’ একথা বলে হযরত বারা’আ (রাঃ) এর সত্যবাদীতার প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছেন।

হাদিস ৬৫৭
আব নু’আইম (রহঃ) সুফিয়ান (রহঃ) সূত্রে আবূ ইসহাক (রহঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

হাদিস ৬৫৮
হাজ্জাজ ইবনু মিনহাল (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমাদের কেউ যখন ইমামের আগে মাথা উঠিয়ে ফেলে, তহন সে কি ভয় করে না যে, আল্লাহ তা’লা তাঁর মাথা গাধার মাথায় পরিণত করে দিবেন, তাঁর আকৃতি গাধার আকৃতি করে দেবেন।

হাদিস ৬৫৯
ইব্রাহীম ইবনু মুনযির (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মদিনায় আগমনের পূর্বে মুহাজিরগণের প্রথম দল যখন কুবা এলাকার কোন এক স্থানে এলেন, তখন আবূ হুযাইফা (রাঃ) এর আযাদকৃত গোলাম সালিম (রাঃ) তাঁদের ইমামতি করতেন। তাঁদের মধ্যে তিনি কোরআন সম্পর্কে অধিক অভিজ্ঞ ছিলেন।

হাদিস ৬৬০
মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা শোন ও আনুগত্য প্রকাশ কর, যদিও তোমাদের উপর এমন কোন হাবশীকে আমীর নিযুক্ত করা হয় – যার মাথা কিসমিসের মতো।

হাদিস ৬৬১
ফাযল ইবনু সাহল (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তারা তোমাদের ইমামতি করে। যদি তারা সঠিকভাবে আদায় করে তা হলে তার সাওয়াব তোমরা পাবে। আর যদি তারা ত্রুটি করে, তাহলে তোমাদের জন্য সাওয়াব রয়েছে, আর ত্রুটি তাদের (ইমামের) উপরই বর্তাবে।

হাদিস ৬৬২
মুহাম্মদ ইবনু আবান (রহঃ) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ যার (রাঃ) কে বলেন, শোন এবং আনুগত্য কর, যদিও কোন হাবশী আমীর হয়- যার মাথা কিসমিসের মতো।

হাদিস ৬৬৩
সুলাইমান ইবনু হারব (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমি আমার খালা মায়মুনা (রাঃ) এর ঘরে রাত যাপন করলাম। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইশার সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে আসলেন এবং চার রাকাআত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে শুয়ে পড়লেন। কিছুক্ষণ পর উঠে সালাত (নামায/নামাজ) দাঁড়ালেন। তখন আমিও তাঁর বামপাশে দাঁড়ালাম। তিনি আমাকে তাঁর ডানপাশে নিয়ে নিলেন এবং পাঁচ রাকাআত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। এরপর আরো দু’রাকাত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে নিদ্রায় গেলেন। এমনকি আমি তাঁর নাক ডাকার আওয়াজ শুনলাম। তারপর তিনি (উঠে ফজরের) সালাত (নামায/নামাজ)-এর জন্য বেরিয়ে গেলেন।

হাদিস ৬৬৪
আহমদ (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার খালা মায়মুনা (রাঃ) এর ঘরে ঘুমালাম। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে রাতে তাঁর কেছে ছিলেন। তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উযূ (ওজু/অজু/অযু) করলেন। তারপর সালাত (নামায/নামাজ) দাঁড়ালেন। আমিও তাঁর বামপাশে দাঁড়ালাম। তিনি আমাকে ধরে তাঁর ডানপাশে নিয়ে আসলেন। আর তিনি তের রাকআত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। তারপর তিনি ঘুমিয়ে পড়লেন, এমনকি তাঁর নাক ডাকতে শুরু করল। এবং তিনি যখন ঘুমাতেন তাঁর নাক ডাকত। তারপর তাঁর কাছে মুয়াজ্জ্বীন এলেন, তিনি বেরিয়ে গিয়ে ফজরের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন এবং নতুন উযূ (ওজু/অজু/অযু) করেননি। আমর (রাঃ) বলেন, এ হাদিস আমি বুকাইর (রাঃ) কে শোনালে তিনি বলেন, কুরাইব (রহঃ) ও এ হাদীস আমার কাছে বর্ণনা করেছেন।

হাদিস ৬৬৫
মূসা’দ্দাদ (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার আমি আমার খালার (মায়মুনা) (রাঃ) এর কাছে রাত যাপন করলাম। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের সালাত (নামায/নামাজ) দাঁড়ালেন। আমিও তাঁর সঙ্গে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে দাঁড়ালাম। আমি তাঁর বামপাশে দাঁড়িয়ে ছিলাম, তিনি আমার মাথা ধরে তাঁর ডানপাশে দাঁড় করালেন।

হাদিস ৬৬৬
মুসলিম (রহঃ) জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, মু’আয ইবনু জাবাল (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করার পর ফিরে গিয়ে আপন গোত্রের ইমামতি করতেন। এই হাদিস মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রাঃ) সূত্রে জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, মুয়ায ইবনু জাবাল (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করার পর ফিরে গিয়ে নিজ গোত্রের ইমামতি করতেন। একদিন তিনি ইশার সালাত (নামায/নামাজ) সুরা বাকারা পাঠ করেন, এতে এক ব্যাক্তি জামা’আত থেকে বেরিয়ে যায়। এ জন্য মু’আয (রাঃ) তার সমালোচনা করেন, এ খবর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট পৌছালে তিনি তিনবার ‘ফুতান’ অথবা ‘ফাতিনান’ (বিশৃংখলা সৃষ্টিকারী) শব্দটি বললেন। এবং তিনি তাকে আওসাতে মুফাসসালের দুটি সুরা পাঠের নির্দেশ দেন। আমর (রাঃ) বলেন, কোন দুটি সুরার কথা বলেছিলেন, তা আমার মনে নেই।

হাদিস ৬৬৭
আহমদ ইবনু ইউনুস (রহঃ) আবূ মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক সাহাবী এসে বললেন ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আল্লাহর শপথ! আমি অমুকের কারণে ফজরের সালাত (নামায/নামাজ) অনুপস্থিত থাকি। তিনি জামা’আতে সালাত (নামায/নামাজ)কে খুব দীর্ঘ করেন। আবূ মাসউদ (রাঃ) বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে নসীহত করতে গিয়ে সেদিনের ন্যায় এত বেশি রাগান্বিত আর কোন দিন দেখিনি। তিনি বলেন, তোমাদের মাঝে বিতৃষ্ণা সৃষ্টিকারী রয়েছে। তোমাদের মধ্যে যে কেউ অন্য লোক নিয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে, সে যেন সংক্ষেপ করে। কেননা, তাঁদের মধ্যে দুর্বল, বৃদ্ধ ও হাজতমন্দ লোকও থাকে।

হাদিস ৬৬৮
আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন লোকদের নিয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে, তখন সে যেন সংক্ষেপ করে। কেননা তাঁদের মাঝে দুর্বল, অসুস্থ ও বৃদ্ধ রয়েছে। আর যদি কেউ একাকী সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে তখন ইচ্ছামত দীর্ঘ করতে পারে।

হাদিস ৬৬৯
মুহাম্মদ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) আবূ মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক সাহাবী এসে বলল ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! অমুক ব্যাক্তির জন্য আমি ফজরের সালাত (নামায/নামাজ) অনুপস্থিত থাকি। কেননা তিনি আমাদের সালাত (নামায/নামাজ) খুব দীর্ঘ করেন। এ শুনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাগান্বিত হলেন। আবূ মাসউদ (রাঃ) বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে নসীহত করতে গিয়ে সেদিনের ন্যায় এত বেশি রাগান্বিত আর কোন দিন দেখিনি। তারপর তিনি বলেনঃ হে লোকেরা! তোমাদের মাঝে বিতৃষ্ণা সৃষ্টিকারী রয়েছে। তোমাদের মধ্যে যে কেউ লোকদের ইমামতি করে, সে যেন সংক্ষেপ করে। কেননা, তাঁদের মধ্যে দুর্বল, বৃদ্ধ ও হাজতমন্দ লোকও থাকে।

হাদিস ৬৭০
আদম ইবনু আবূ ইয়াস (রহঃ) জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক সাহাবী দু’টি পানি বহনকারী উট নিয়ে আসছিলেন। রাতের অন্ধকার তখন ঘনীভূত হয়ে এসেছে। এ সময় তিনি মু’আয (রাঃ) কে সালাত (নামায/নামাজ) আদায়রত পান, তিনি তার উট দুটি বসিয়ে দিয়ে মু’আয (রাঃ) এর দিকে (সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে) এগিয়ে এলেন, মু’আয (রাঃ) সুরা বাকারা বাঁ সুরা নিসা পড়তে শুরু করেন। এতে সাহাবী (জামা’আত ছেড়ে) চলে যান। পরে তিনি জানতে পারেন যে, মু’আয (রাঃ) এর জন্য তার সমালোচনা করেছেন। তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে মু’আয (রাঃ) এর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। এতে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে মু’আয! তুমি কি লোকদের ফিতনায় ফেলতে চাও? বা তিনি বলেছিলেন তুমি কি ফিতনা সৃষ্টিকারী? তিনি একথা তিনবার বলেন। তারপর তিনি বললেন, তুমি ‘সাব্বিহিস্মি রাব্বিকা, ওয়াশশামসি ওয়াদুহা হা’ এবং ওয়াল্লাইলি ইজা ইয়াগশা (সুরা) দ্বারা সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেনা কেন? কারন তোমার পিছনে দুর্বল, বৃদ্ধ ও হাজতমন্দ লোক সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে। (শু’বা (রহঃ) বলেন) আমার ধারণা শেষোক্ত বাক্যটি হাদিসের অংশ। সায়ীদ ইবনু মাসরুক, মিসওয়ার এবং শাইবানী (রহঃ) – ও অনুরূপ রেওয়ায়াত করেছেন। আমর, উবাঈদুল্লাহ ইবনু মিকসাম আবূ যুবাইর (রহঃ) জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, মু’আয (রাঃ) ইশার সালাত (নামায/নামাজ) সুরা বাকারা পাঠ করেছিলেন। আ’মাশ (রহঃ) ও মুহারিব (রহঃ) সূত্রে অনুরূপ রিওয়ায়েত করেন।

হাদিস ৬৭১
আবূ মা’মার (রহঃ) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত (নামায/নামাজ) সংক্ষেপে এবং পুর্ণভাবে আদায় করতেন।

হাদিস ৬৭২
ইব্রাহীম ইবনু মূসা (রহঃ) আবূ কাতাদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি অনেক সময় দীর্ঘ করে সালাত (নামায/নামাজ) আদায়ের ইচ্ছা নিয়ে দাঁড়াই। পরে শিশুরু কান্নাকাটি শুনে সালাত (নামায/নামাজ) সংক্ষেপ করি। কারন আমি পছন্দ করি না যে, শিশুরু মাকে কষ্টে ফেলি। বিশর ইবনু বাকর, বাকিয়্যা ও ইবনু মোবারক আওযারী (রহঃ) থেকে হাদীস বর্ণনায় ওয়ালীদ ইবনু মুসলিম (রহঃ) এর অনুসরণ করেছেন।

হাদিস ৬৭৩
খালিদ ইবনু মাখলাদ (রহঃ) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চেয়ে সংক্ষিপ্ত এবং পুর্ণাঙ্গ সালাত (নামায/নামাজ) কোন ইমামের পেছনে কখনো পড়িনি। আর তা ে জন্য যে, তিনি শিশুরু কান্না শুনতে পেতেন এবং তার মায়ের ফিতনায় পড়ার আশঙ্কায় সংক্ষেপ করতেন।

হাদিস ৬৭৪
আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি দীর্ঘ করার ইচ্ছা নিয়ে সালাত (নামায/নামাজ) শুরু করি। কিন্তু পরে শিশুরু কান্না শুনে আমার সালাত (নামায/নামাজ) সংক্ষেপ করে ফেলি। কেননা, শিশু কাঁধলে মায়ের মন যে অত্যন্ত বিচলিত হয়ে পড়ে তা আমি জানি।

হাদিস ৬৭৫
মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি দীর্ঘ করার ইচ্ছা নিয়ে সালাত (নামায/নামাজ) শুরু করি এবং শিশুরু কান্না শুনে আমার সালাত (নামায/নামাজ) সংক্ষেপ করে ফেলি। কেননা, শিশু কাঁধলে মায়ের মন যে অত্যন্ত বিচলিত হয়ে পড়ে তা আমি জানি। মূসা (রহঃ) আনাস (রাঃ) সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেন।

হাদিস ৬৭৬
সুলাইমান ইবনু হারব ও আবূ নু’মান (রহঃ) জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মু’আয (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে নিজ গোত্রে ফিরে গিয়ে তাঁদের ইমামতি করতেন।

হাদিস ৬৭৭
মূসা’দ্দাদ (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্তিম রোগে আক্রান্ত থাকা কালে একবার বিলাল (রাঃ) তাঁর নিকট এসে সালাত (নামায/নামাজ)-এর (সময় হয়েছে বলে) সংবাদ দিলেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আবূ বকরকে বল, যেন লোকদের নিয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে। (আয়িশা (রাঃ) বললেন), আমি বললাম, আবূ বকর (রাঃ) কোমল হৃদয়ের লোক, তিনি আপনার স্থানে দাঁড়ালে কেঁদে ফেলবেন এবং কিরাআত পড়তে পারবেন না। তিনি আবার বললেনঃ আবূ বকরকে বল, সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে। আমি আবারও সে কথা বললাম। তখন তৃতীয় বা চতুর্থবারে তিনি বললেন, তোমরা তো ইউসুফের (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাথী রমণীদেরই মত। আবূ বকরকে বল, সে যেন লোকদের নিয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে। আবূ বকর (রাঃ) লোকদের নিয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে লাগলেন। ইতিমধ্যে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’জনের কাঁধে ভর করে বের হলেন। (আয়িশা (রাঃ) বললেন) আমি যেন এখনও সে দৃশ্য দেখতে পাই। তিনি দু’পা মুবারাক মাটির উপর দিয়ে হেঁচড়িয়ে যান। আবূ বকর (রাঃ) তাঁকে দেখতে পেয়ে পেছনে সরে আসতে লাগলেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইশারায় তাঁকে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে বললেন, (তবুও) আবূ বকর (রাঃ) পেছনে সরে আসলেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পাশে বসলেন, আবূ বকর (রাঃ) তাকবীর শোনাতে লাগলেন। মুহাযির (রহঃ) আমাশ (রহঃ) থেকে হাদীস বর্ণনায় আবদুল্লাহ ইবনু দাউদ (রহঃ) এর অনুসরণ করেছেন।