সাপের বিষক্রিয়ার চিকিৎসা


এক জরিপে দেখা গেছে যে, পৃথিবীর সনাক্তকৃত সাপের মধ্যে শতকরা ৮ ভাগ বিষধর। বাকি ৯২ ভাগ বিষধর নয়। সুতরাং সাপে কামড়ালেই মানুষ বা প্রাণী মারা যাবে তা ঠিক নয়।
সাপের কামড় থেকে সাধারণ প্রতিক্রিয়ায় মানুষ তিনভাবে মারা যেতে পারে।
প্রথমত সাপের কামড় টের পেয়ে বা সাপ দেখে ভয়ে চিৎকার দিয়ে তার হৃদযন্ত্র বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
দ্বিতীয়ত সাপ বিষধর না হলেও এদের দাঁত বা মুখ-গহবরে নানা ধরনের মারাত্মক জীবাণু (যেমন টিটেনাস) থাকে তা থেকে ক্ষতের সৃষ্টি ও টিটেনাসে আক্রান্ত হয়ে রোগীর মৃত্যু অস্বাভাবিক নয়।
তৃতীয়ত বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যা হয়, তাহলো রোগী বিষক্রিয়াতেই মারা যায়।

আমরা জানি, সাপের বিষ প্রধানত স্নায়ুতন্ত্র ও রক্ত সংবহনতন্ত্রকে আক্রমণ করে থাকে। এই বিষের বিশেষ উপাদান হিমোলাইসিন রক্তের লোহিত কণিকাগুলোকে অল্প সময়ের মধ্যে ভেঙ্গে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়। সাপের কামড়ে বিষক্রিয়া সাথে সাথেই শুরু হয়ে যায়। বিষক্রিয়ার কোনো লক্ষণ না দেখা দিলে বুঝতে হবে সাপটি বিষধর নয়। হাত ও পায়ে সাপের কামড় মুখ ও শরীরের অন্য কোন অংশের তুলনায় কম মারাত্মক। শিশু ও বৃদ্ধদের বেলায় এই কামড় বেশি ভয়াবহ।
সাপে কাটা রোগীকে তৎক্ষণাৎ হাসপাতালে পাঠিয়ে আধুনিক ডাক্তারি মতে, চিকিৎসা শুরু করতে হবে। কোন ক্ষেত্রে সেই স্থানান্তরে দেরি হতে পারে। সেক্ষেত্রে হাত-পা গুটিয়ে বসে না থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া বাঞ্ছনীয়।
১.প্রথমে সাপে কাটা রোগীকে অভয় দিতে হবে। বেশিরভাগ সাপই বিষাক্ত নয়। অনেকে বিষদাঁতহীন সাপে কামড়ালেও আতস্কে ও মৃত্যুভয়ে অসংলগ্ন আচারন করে। রোগীকে প্রয়োজনে ডায়াজিপাম বড়ি দেয়া যেতে পারে।
২.সাপ বিষাক্ত বলে ধারানা হলো সাপে কাটার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্ককার কাপর দিয়ে কেবল একটি গিঁট দিতে হবে।কাপর চওড়া হতে হবে।
৩.পায়ে কামড় দিলে উরূতে, হাতে দিলে কানুইয়ের ওপর এভাবে বাঁধতে হবে। বাঁধন খুব আঁটসাঁট বা ঢিলে-কোটিই যাতে না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। গিঁট প্রতি আধঘন্টা পর পর আধ মিনিটের জন্য খুলে রেখে আবার বাঁধতে হবে।
৪.দংশিত স্থান ভেজা পরিস্কার কাপড় বা অ্যান্টেসেপেটিক দিয়ে মুছে দিতে হবে।
৫.হাত-পা নাড়াচারা করলে মাংসপেশী সংকোচনের ফলে দ্রুত বিষক্রিয়া ছড়িয়া পড়ে। {ক্রপ ব্যান্ডজ থাকলে তা ব্যবহার করা করা যেতে পারে।}
৬.ব্যথার জন্য শূধূ প্যারাসিটামল জাতিয় ঔষুধ দেয়া যেতে পারে।
৭.রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।কোন মতেই রোগীকে হাঁটানো যাবে না। কাঁধে, অথবা খাঁটিয়ার বা দোলনায় করে হাসপাতাল নিতে হবে।