আনন্দমঠ - চতুর্থ খন্ড - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় - দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ ( Annandamath - 4:2 ) - সেরা-সংগ্রহ.কম
X

Wednesday, July 6, 2016

আনন্দমঠ - চতুর্থ খন্ড - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় - দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ ( Annandamath - 4:2 )

আনন্দমঠ - চতুর্থ খন্ড

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ



যখন শান্তি আপন আশ্রম ত্যাগ করিয়া গভীর রাত্রে নগরাভিমুখে যাত্রা করে, তখন জীবানন্দ আশ্রমে উপস্থিত ছিলেন। শান্তি জীবানন্দকে বলিল, “আমি নগরে চলিলাম। মহেন্দ্রর স্ত্রীকে লইয়া আসিব। তুমি মহেন্দ্রকে বলিয়া রাখ যে, উহার স্ত্রী আছে |”
জীবানন্দ ভবানন্দের কাছে কল্যাণীর জীবনরক্ষার বৃত্তান্ত সকল অবগত হইয়াছিলেন– এবং তাঁহার বর্তমান বাসস্থানও সর্বস্থান–বিচারিণী শান্তির কাছে শুনিয়াছিলেন। ক্রমে ক্রমে সকল মহেন্দ্রকে শুনাইতে লাগিলেন।
মহেন্দ্র প্রথমে বিশ্বাস করিলেন না। শেষে আনন্দে অভিভূত হইয়া মুগ্ধপ্রায় হইলেন।
সেই রজনী প্রভাতে শান্তির সাহায্যে মহেন্দ্রের সঙ্গে কল্যাণীর সাক্ষাৎ হইল। নিস্তব্ধ কাননমধ্যে, ঘনবিন্যস্ত শালতরুশ্রেণীর অন্ধকার ছায়ামধ্যে, পশু-পক্ষী ভগ্ননিদ্র হইবার পূর্বে, তাহাদিগের পরস্পরের দর্শনলাভ হইল। সাক্ষী কেবল সেই নীলগগনবিহারী ম্লানকিরণ আকাশের নক্ষত্রচয়, আর সেই নিষ্কম্প অনন্ত শালতরুশ্রেণী। দূরে কোন শিলাসংঘর্ষণনাদিনী, মধুরকল্লোলিনী, সংকীর্ণা নদীর তর তর শব্দ, কোথাও প্রাচীসমুদিত ঊষামুকুটজ্যোতি: সন্দর্শনে আহ্লাদিত এক কোকিলের রব।