হিন্দুরা গরুর মাংস খায় না কেন ? শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা ... - সেরা-সংগ্রহ.কম
X

Wednesday, July 20, 2016

হিন্দুরা গরুর মাংস খায় না কেন ? শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা ...

হিন্দুরা গো মাংস খায় না যে কারণে 




প্রথমেই বলে রাখি হিন্দুদের কিছু মৌলিক সূক্ষ সুললিত গুণ রয়েছে ।যেমন : দয়া, মায়া, সুচিতা, কৃতজ্ঞতা, ভালবাসা, সর্বজীবে দয়া ইত্যাদি।

হিন্দুরা গরুর মাংস খায় না কেন এ নিয়ে অহিন্দুদের মাথাব্যথার অন্ত নেই। কোনো হিন্দু এই প্রশ্নের সম্মুখীন হয় নাই এমন মানুষ একটিও নেই বাংলাদেশে। এখানে গরুর কারণ না খাওয়ার কারণ তুলে ধরছি।

সামাজিক কারণ: সৃষ্টির পর থেকে মানুষ বেঁচে থাকার জন্য খাদ্যের উপর নির্ভর করে অাসছে। একসময় কৃষিযুগের সূচনা হয়। বৈদিক যুগে হালচাষের জন্য গরু ব্যবহৃত হয়ে অাসছে। বলদ গরু কৃষি কাজে পিতাকে সাহায্য করছে। গাই গরু দুধ দিয়ে মাতাকে সাহায্য করছে। অর্থাৎ বেঁচে থাকার উপকরণ গুলো অামরা গরু হতে পেয়েছিলাম বা পাচ্ছি।  এবার অাপনিই বলুন, যারা অামাদের মুখে অন্ন তুলে দিচ্ছে তাদেরকে হত্যা করা কতটা সামাজিক?

ধর্মীয় কারণ: এবার অাসি ধর্মীয় কারণে।  হিন্দুদের প্রধান ধর্মগ্রন্থ হল বেদ। বলা হয়ে থাকে বেদের বানী অলঙ্ঘনীয়।  বেদে বলা অাছে

Ghrtam duhaanaamaditim janaayaagne maa himsiheeh

Yajurveda 13.49

Do not kill cows and bulls who always deserve to be protected. Aare gohaa nrhaa vadho vo astu

Rigveda 7.56.17

ঋগবেদে গোহত্যা কে মানুষ হত্যার সমকক্ষ বলা হয়েছে ও এর সাথে জড়িতদের শাস্তি দিতে বলা হয়েছে ।

Sooyavasaad bhagavatee hi bhooyaa atho vayam bhagvantah syaama Addhi trnamaghnye vishwadaaneem piba shuddhamudakamaacharantee 

Rigveda 1.164.40 or Atharv 7.73.11 or
Atharv 9.10.২০ 

The Aghnya cows – which are not to be killed under any circumstances– may keep themselves healthy by use of pure water and green grass, so that we may be endowed with virtues, knowledge and wealth.

বেদে আঘ্ন্যা . অহি , ও অদিতি হচ্ছে গরুর সমপদ। আঘ্ন্যা মানে যাকে হত্যা করা উচিত নয় । অহি মানে যার গলা কাটা / জবাই করা উচিত নয় । অদিতি মানে যাকে টুকরো টুকরো করা উচিত নয় ।

(Source: Yaska the commentator on
Nighantu )

৪ . Suprapaanam Bhavatvaghnyaayaah

Rigveda 5.83.8 আঘ্ন্যা গরুর জন্য সুপেয় জলের উন্নত ব্যবস্থা থাকা উচিত ।

৫. Yah paurusheyena kravishaa samankte yo ashwena pashunaa yaatudhaanah Yo aghnyaayaa bharati ksheeramagne teshaam sheershaani harasaapi vrishcha

Rigveda 10.87.16

Those who feed on human, horse or animal flesh and those who destroy milk-giving Aghnya cows should be severely punished.

এখানে মানুষ,ঘোড়া ও গোমাংস আহারকারিদের
শাস্তির কথা বলা আছে ।

Vimucchyadhvamaghnyaa devayaanaa aganma Yajurveda 12.73 The Aghnya cows and bulls bring you prosperity. Maa gaamanaagaamaditim vadhishta

Rigveda 8.101.15

Do not kill the cow. Cow is innocent and aditi – that ought not to be cut into pieces . Antakaaya goghaatam

Yajurveda 30.18

Destroy those who kill cows . Yadi no gaam hansi yadyashwam yadi poorusham Tam tvaa seesena vidhyaamo yatha no so aveeraha

Atharvaveda 1.16.4

If someone destroys our cows, horses or people, kill him with a bullet of lead. Vatsam jaatamivaaghnyaa

Atharvaveda 3.30.1

Love each other as the Aghnya – non- killable cow – loves its calf.

স্বাস্থ্যগত কারণঃ

আমেরিকান ইনস্টিটিউটফর ক্যান্সার রিসার্চ এবং বিশ্ব ক্যান্সার গবেষণা ফান্ডের মতে, লাল মাংস মলাশয় এবং মল নালির ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে
দেয়।

অতিরিক্ত লাল মাংস গ্রহণ করলে খাদ্যনালি, ফুসফুসে অগ্ন্যাশয়, পাকস্থলী ও স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই প্রতিষ্ঠান দুটি সপ্তাহে ৩০০ গ্রামের (মাঝারি
আকৃতির চার-পাঁচ টুকরোর) বেশি লাল মাংস গ্রহণ প্রয়োজন নেই বলে অভিমত দেয়।

* প্রচুর পরিমাণে সম্পৃক্ত চর্বি থাকায় লাল মাংস হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

* সম্পৃক্ত চর্বিযুক্ত খাবার ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি করে। তাই যারা ইনসুলিন নিয়ে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখেন তাদের জন্য লাল মাংস ক্ষতিকর হতে পারে।

* অতিরিক্ত লাল মাংস খেলে রক্তনালির পুরুত্ব বেড়ে যায়, ফলে একিউট করোনারি সিনড্রোম এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে।

* এক গবেষণায় দেখা যায়, যারা সপ্তাহে এক দিন লাল মাংস খেয়ে থাকে তাদের চেয়ে যারা প্রতিদিন লাল মাংস খায় তাদের হৃদরোগে মৃত্যুর ঝুঁকি শতকরা ৬০ ভাগ বেশি।

* লাল মাংস টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায় এবং প্রস্রাবে অ্যালবুমিন প্রোটিনের উপস্থিতি বাড়ায়।

* লাল মাংস রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ ও শরীরের ওজন বাড়ায় এবং স্থূলতা জন্ম দেয়।

* নিয়মিত লাল মাংস খেলে উচ্চ রক্তচাপ এবং বাত রোগ বাড়ে।

* আমেরিকান ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশনের মতে, নিরামিষ ভোজন মলাশয়ের ক্যান্সার, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, কিডনির রোগ, উচ্চ রক্তচাপ এবং স্থূলতা উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে দেয়।

নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত একটি প্রবন্ধে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার তাৎক্ষণিকভাবে নিকট স্মৃতি হ্রাস এবং কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয়। যদিও নতুন এই গবেষণার কাজটি ইঁদুর এবং কিছু মানুষের ওপর চালানো হয়েছিল। তা সত্ত্বেও ড. মুরে এ সম্পর্কে বলেন, তিনি এখনো গবেষণাকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর মতে, ফলাফল খুব সম্ভবত একই রকম হবে।
তিনি ব্যাপারটিকে এভাবে ব্যাখ্যা করেন_অতিরিক্ত চর্বি শরীরে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি করে; অর্থাৎ এ
ক্ষেত্রে মানবশরীর গ্লুকোজ ব্যবহার করতে অসমর্থ, যা মস্তিষ্কের ক্ষমতা হ্রাস করে। তা ছাড়া অতিরিক্ত চর্বি
দেহের বিপাক ক্রিয়ার সামর্থ্যকে কমিয়ে দেয়। ফলে কর্মক্ষমতা হ্রাস পায়।

উল্লেখ্য, লাল মাংস বা রেড মিট অার কিছু না গরুর মাংস।

মানবিক কারণঃ

 পৃথিবীর সবচেয়ে সহনশীল মানুষ হিন্দুরাই। একটা শিশুর জন্মের পর যখন তার মা মারা যায় তখন তাঁর বেঁচে থাকার জন্য একমাত্র উপকরণ হল গরুর দুধ। মা যেমন সন্তানকে দুধ খাওয়ায় ঠিক তেমনি গাভীও তার মানব সন্তানকে দুধ খাওয়ায়। তাই পৃথিবীর সবচেয়ে মানবিক ধর্মগোষ্ঠী কোন বিবেকে গরুর মাংস খাবে বলুন? গরুর মাংস খেতে তাই তাদের বিবেকে বাঁধে, কৃতজ্ঞবশত তাই তাঁরা গরুর মাংস খায় না। মূলত ধর্মীয় এবং বৈজ্ঞানিক কারণের চাইতেও শুধু এই কারণটাই মুখ্য ভূমিকা পালন করে অাসছে; অার তা হল মানবিকতা।

পরিবেশগত কারণঃ

বাতাসে যত কার্বন ডাইঅক্সাইড নিঃসরণ হচ্ছে তার ২৩% অাসে মাংস থেকে। ভবিষ্যতে গ্রীন হাউস প্রতিক্রিয়ার ফলে বিশ্বের অনেক দেশ সমুদ্রে তলিয়ে যাবে।  কার্বন ডাই অক্সাইড বাতাসে তাপমাত্রা বাড়িয়ে বৈশ্বিক উষ্ণতা সৃষ্টি করছে।

শুধু গরুর মাংসই নয়, হিন্দুধর্মে ভক্তিযোগ অবলম্বনের জন্য সবধরনের মাংসই খেতে নিষেধ অাছে।