একটি অকৃজ্ঞ ও লোভী ইঁদুর এবং মহাতপা মুনীর কাহিনী - সেরা-সংগ্রহ.কম
X

Saturday, August 20, 2016

একটি অকৃজ্ঞ ও লোভী ইঁদুর এবং মহাতপা মুনীর কাহিনী





গৌতম মুনির আশ্রমে মহাতপা নামে এক মুনি বাস করতেন। তিনি ছিলেন পরম যোগী। ঋষি মহাতপা যখন ভগবানের মহিমা কীর্তন করতেন সেসময় একটি ইঁদুর এসে চুপটি করে ঋষির সামনে বসে অত্যন্ত ভক্তি সহকারে সেই মহিমা শ্রবণ করত।ইঁদুরের মত একটি জীবের মধ্যেও এত ভক্তি দেখে ঋষি মহাতপার সেই ইদুরের প্রতি অত্যন্ত করুণা হল।তিনি ভাবলেন, এই ছোট্ট জীব ইঁদুরের সবসময় বৃহৎ জীবদের ভয়ে থাকতে হয়।যেকোনো সময় কোনো বৃহৎ জীবের হাতে তার প্রাণ যেতে পারে।তিনি ঠিক করলেন এই ইঁদুরটির
এরকম জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটাবেন যাতে সে ভয় না পেয়ে সসম্ভ্রমে মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারে।

 ঋষি মহাতপার এমনই অলৌকিক শক্তি ছিল যে তিনি যাকে যা বলতেন সেটিই সত্যি হতো।তাই ইঁদুরটির দুঃখ দূর করার জন্য ঋষি মহাতপা ভগবানের কাছে ইঁদুরটিকে সিংহে রূপান্তরিত করার জন্য প্রার্থনা করলেন। আর তক্ষুনি সেই ছোট্ট ইঁদুরটি এক বিরাট সিংহে রূপান্তরিত হল।


যেহেতু এখন সে সিংহ হয়েছে তাই সে নির্ভয়ে স্বাধীনভাবে গর্জন করতে করতে জঙ্গলে ঘুরে বেড়াতে লাগলো। অন্য জন্তুরা তাকে অবনত হয়ে সম্মান নিবেদন করতো এবং তার নামে 'জয় পশুরাজ কি -জয়' বলে জয়ধ্বনি দিত।বনের অন্যান্য পশুরা আসল ব্যাপারটি কিছুই জানতো না।প্রকৃত সত্যটি জানতেন শুধু ঋষি মহাতপা। কৃত্রিম সিংহটিও এই ব্যাপারে সচেতন ছিল যে তার প্রকৃত বংশপরিচয় জানেন শুধু ঋষি মহাতপা। তার মনে ভয় ছিল যে কোনদিন যদি কেউ তার আসল পরিচয় জেনে ফেলে যে সে সিংহ নয়,সে একটি ইঁদুর, তাহলে সেদিন থেকে কেউ আর তাকে ভয় পাবে না,সম্মান করবে না।তার এই মানসিক সমস্যা দূর করে নিশ্চিত হবার জন্য কৃত্রিম সিংহটি একদিন ভাবল,যদি ঋষি মহাতপাকে হত্যা করা যায়
তাহলেই আর কেউ কিছু জানতে পারবে না।

পরদিন সিংহ তার পরিকল্পনা অনুযায়ী ঋষি মহাতপাকে হত্যা করতে এলো। কিন্তু ঋষি তাঁর যৌগিক ক্ষমতাবলে সিংহের অভিপ্রায় জানতে পারলেন। মূর্খ সিংটি আসলে তার ক্ষমতা টিকে থাকার লোভে অন্ধ হয়ে একথা বুঝতে পারে নি যে, যে তাকে ইঁদুর থেকে সিংহে পরিণত করেছিল, সে পুনরায় তাকে ইঁদুর করে দিতে পারে।আর হলোও তাই।ঋষি মহাতপা সিংহের বদমতলব বুঝতে পেরে তাকে আবার ইঁদুরে পরিণত করে দিলেন।

হিতোপদেশঃ 


প্রথমত,ঋষি মহাতপার দিক দিয়ে দেখতে গেলে ইঁদুরের প্রতি তাঁর করুণা যথার্থ করুণা ছিল না।প্রকৃত করুণা হল সেটাই যার ফলে যেকোনো জীবই ভগবানের সান্নিধ্য লাভের যোগ্য হয়ে ওঠে। এই গল্পের মাধ্যমে আমরা দেখতে পাচ্ছি ইঁদুরটি ভক্তিভরে প্রতিদিন ভগবানের মহিমা শ্রবণ করত।কিন্তু ইঁদুরটিকে আরও বেশি করে ভগবানের মহিমা কীর্তন না শুনিয়ে বা ভগবানের প্রসাদ সেবন না করিয়ে(যার ফলস্বরূপ হয়তো ইঁদুরটি পরবর্তী জন্মে অধ্যাত্ম সাধনশীল মানবজন্ম লাভ করতে পারতো) তিনি তাকে সিংহে পরিণত করলেন। এটা এখানে বিধির উপর বিধানগিরির অপরাধ হয়ে গেল। ভগবানই আমাদের একমাত্র স্রষ্টা, তিনি জানেন,জীবের কর্মফল অনুযায়ী কাকে কোন জীবন দান করলে তার মঙ্গল হবে।প্রকৃত ভক্ত তাই যোগীর ন্যায় অলৌকিক শক্তি কামনা করেন না,যার ফলে অহংকার উৎপন্ন হয়ে ভক্তিজীবনকে নষ্ট করে।অতএব পার্থিব করুণা প্রকৃত করুণা নয়।এর দ্বারা পরিশেষে কারোরই কল্যাণ হয় না। পারমার্থিক করুণাই প্রকৃত করুণা।

দ্বিতীয়ত, সিংহ বা ইঁদুরটির দিক দিয়ে দেখতে গেলে আমরা এই শিক্ষা লাভ করি যে আমরা এই জগতের কোনো শক্তি বা বিষয়ই যে আমার নয় এই কথা ভুলে গিয়ে লোভে বা অহমিকায় অন্ধ হয়ে যদি আমরা স্রষ্টার বিরুদ্ধাচরণ করি,তাহলে যা কিছু আমরা অর্জন করি না কেন তা সবই হারিয়ে ইঁদুরটির(পুনর্মুষিক ভবঃ) মতোই আমাদের অবস্থা হবে। তাই সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষাটি হল,সকল সময়ে ভগবানের শরণাগত থাকা।

গল্পটি পড়ে আপনার অনুভূতির কথা বা কি শিখতে পারলেন তা কমেন্টে জানাবেন।

শেয়ার করে সকলকে জানার সুযোগ করে দিন।


Post Top Ad


Download

click to begin

6.0MB .pdf