মৃত্যুর পরে বিদেহী আত্মারা হানা দেয় যমরাজের এই মন্দিরেই - সেরা-সংগ্রহ.কম
X

Friday, August 12, 2016

মৃত্যুর পরে বিদেহী আত্মারা হানা দেয় যমরাজের এই মন্দিরেই

মন্দিরের ভিতর নাকি একটি শূন্য প্রকোষ্ঠ রয়েছে। সেখানে নাকি স্বয়ং যমরাজের শাসন চলে। এই প্রকোষ্ঠে একবার কেউ প্রবেশ করলে সে আর জীবিতাবস্থায় বেরিয়ে আসে না। ইতিপূর্বে কেউ কেউ নাকি সাহস করে এখানে ঢুকেছিলেন, পরের দিন তাঁদের মৃতদেহ পাওয়া গিয়েছিল‌।

ভয় আর রহস্যে মোড়া এক মন্দির

হিন্দু বিশ্বাস অনুসারে যমরাজ হলেন মৃত্যুর দেবতা। যমই ছিলেন জীবকুলে প্রথম ব্যক্তি যিনি মৃত্যুমুখে পতিত হন। সেই প্রথমতার সুবাদে শিব তাঁকে মৃত্যুর অধীশ্বর পদে অধিষ্ঠিত করেন। কথিত রয়েছে, যমই স্থির করেন মৃত ব্যক্তির আত্মা মৃত্যূত্তর জীবনে কোন লোকে স্থান পাবে— স্বর্গ নাকি নরক। সেই হিসেবে মৃত্যু‌র পর প্রত্যেককেই একবার না একবার যমরাজের সামনে উপনীত হতে হয়। কিন্তু সেই মোলাকাৎ কি সংঘটিত হয় এই পৃথিবীলোকেই? হিমাচল প্রদেশের চম্বার এই মন্দিরে তেমনটাই ঘটে বলে মনে করেন স্থানীয় মানুষজন। 

ভারমোর এলাকার এই প্রাচীন ‌মন্দিরটি ভারতের মাটিতে যমরাজের একমাত্র মন্দির। মন্দিরের নাম ধর্মেশ্বর মহাদেব মন্দির। মন্দিরের আশেপাশের মানুষজনের বিশ্বাস, মৃত্যুর পর এই মন্দিরেই নাকি মৃত ব্যক্তির আত্মার সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় যমরাজের। এখানে বসেই তাদের বিচার করেন যমরাজ। কারণ স্থানীয় মানুষজন মনে করেন, স্বয়ং যম এই মন্দিরেই বাস করেন। একা যম নন, এই মন্দিরের একটি আলাদা ঘরে বসে থাকেন চিত্রগুপ্তও। তাঁর কাজ হল, জীবদ্দশায় মানুষের পাপপুণ্যের হিসাব রাখা। মন্দিরটি নাকি পাহারা দেয় দুটি চার চোখওয়ালা কুকুর, যারা আদপে যমরাজেরই পোষ্য।

মন্দিরটিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে নানা কাহিনি। বলা হয়, মন্দিরের ভিতর নাকি একটি শূন্য প্রকোষ্ঠ রয়েছে। সেখানে নাকি স্বয়ং যমরাজের শাসন চলে। এই প্রকোষ্ঠে একবার কেউ প্রবেশ করলে সে আর জীবিতাবস্থায় বেরিয়ে আসে না। ইতিপূর্বে কেউ কেউ নাকি সাহস করে এখানে ঢুকেছিলেন, পরের দিন তাঁদের মৃতদেহ পাওয়া গিয়েছিল‌।

এইসব কাহিনি যে বিজ্ঞানসম্মত নয়, তা বলাই বাহুল্য। ভক্তের বিশ্বাস আর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা এক্ষেত্রে এক জায়গায় মেলে না। কিন্তু বিশ্বাস আর অবিশ্বাসের দ্বন্দ্বে যমরাজের এই মন্দির বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে ভক্তদের কাছে। প্রাচীন এই মন্দির তার আধ্যাত্মিক মাহাত্ম্য এবং গঠনগত সৌন্দর্যের কারণে পর্যটকদের কাছেও বিশেষ প্রিয় হয়ে উঠেছে।