Recent


শুক্রবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

ঈশ্বর - মেহেদী সম্রাট



প্যারিদাস লেনের ৬৫৪ নম্বর বাড়িটাই গন্তব্য তপনের। সেই বাড়িতে নাকি ঈশ্বর থাকেন ! তপন এমনিতেই আস্তিক মানুষ নন। তবুও প্যারিদাস লেনের ঐ বাড়িতে ঈশ্বর থাকছে শুনেই তপনের যত আগ্রহ। নাস্তিক তপন ঈশ্বরের সাথে দেখা করার এরকম একটা চান্স অবশ্য পূর্বে থেকেই খুঁজছিলো । তপনের বহুদিনের ইচ্ছা ঈশ্বরের সঙ্গে কথা বলার এবং তার ঈশ্বর হয়ে ওঠার কাহিনি শোনার। সেই সাথে মনে মনে তপন এমন কিছু অকাট্য যুক্তি তৈরি করে, যা শুনলে ঈশ্বর নিজেও নাস্তিক হতে বাধ্য।
[ads-post]
তপন হেঁটেই চলেছে। বোষ এভিনিউয়ের শেষদিকে এসে পড়েছে প্রায়। বোষ এভিনিউয়ের শেষ বাঁকটা পেরিয়ে ডান দিকের যে লেনটা ওটাই প্যারিদাস লেন। এখানকার শেষ প্রান্তের বাড়িটাই ৬৫৪ নম্বর। কাছাকাছি এসে একটা ঝুপড়ি দোকানে বসলো তপন। হুঁকোটা সঙ্গেই ছিলো। দোকান থেকে ছ'পয়সার তামাক কিনে অর্ধেকটা সাজিয়ে নিলো। এরপর হুঁকোয় অগ্নিসংযোগ করে ধুমছে ফুঁকতে শুরু করলো। বাকি অর্ধেক পকেটে পুরে নিলো, ঈশ্বরের জন্য। যদিও তপন জানেনা ঈশ্বরের হুঁকো টানার অভ্যাস আছে কিনা। যাই হোক, অবশেষে প্যারিদাস লেনের ৬৫৪ নম্বর বাড়ির সামনে এসে দাঁড়ালো তপন। বাড়িটার খুব জৌলুস না থাকলেও, এক্কেবারে জরাজীর্ণও নয়। সীমানা প্রাচীর খানিকটা ধ্বসে গিয়েছে আর বহির্দেয়ালে জমেছে কতক শ্যাওলা  -এই ই তো..!

তপন হনহন করে বাড়ির অভ্যন্তরে প্রবেশ করলো। ঢুকে পড়লো সোজা অন্দরমহলে, কেউই আটকালো না। তবে কি ঈশ্বর একাই থাকেন এবাড়িতে..!! তপন হন্যে হয়ে খুঁজতে লাগলো ঈশ্বর কে। অবশেষে দোতলার দক্ষিণে একটা ঘরে কাউকে খুঁজে পেলো তপন। ইনিই কি তবে ঈশ্বর..!! কাড়ি কাড়ি বইয়ের স্তুপের মাঝে ডুবে আছেন তিনি। আর কোনদিকেই যেন ভ্রুক্ষেপ নাই তার। তপন নিজেকে সামলে নিয়ে প্রশ্নটা তড়িৎ ছুড়ে দিলো, 'এখানে কি ঈশ্বর থাকেন..??'

বইয়ের স্তুপের আড়াল থেকে মাথা তুলে তিনি উত্তর দিলেন, 'জ্বি আমিই ঈশ্বরচন্দ্র'।