শিব-পার্বতীর বিয়ের হোমাগ্নি এখনো প্রজ্বলিত এই মন্দিরে !!! - সেরা-সংগ্রহ.কম
X

Friday, September 16, 2016

শিব-পার্বতীর বিয়ের হোমাগ্নি এখনো প্রজ্বলিত এই মন্দিরে !!!




উত্তরাখণ্ডের রুদ্রপ্রয়াগের কাছে এক ছোট জনপদ। তার একমাত্র দ্রষ্টব্য বিষয় বলতে একটি মন্দির। ত্রিযুগীনারায়ণ মন্দির নামের সেই দেবস্থান আপাতদৃষ্টিতে ওই অঞ্চলের অন্যান্য মন্দিরের চাইতে আলাদা নয়। কার্যত এই মন্দির ভগবান বিষ্ণুর।
[ads-post]
কিন্তু একে ঘিরে আবর্তিত হয় এমন এক ধারণা, যাকে বিশ্বাস করে আজও অসংখ্য সদ্যবিবাহিত দম্পতি এখানো আসেন সুখী দাম্পত্যের আশীর্বাদ চাইতে। আসেন পোড় খাওয়া দম্পতিরাও। কারণ, গণবিশ্বাস অনুসারে এই মন্দিরে প্রার্থনা করলে দাম্পত্য অশান্তিও দূর হয়। এই গণবিশ্বাসের মূলে কাজ করছে একটি বিশেষ কিংবদন্তি। লক্ষ লক্ষ মানুষ বিশ্বাস করেন, এই মন্দিরেই নাকি বিবাহ হয়েছিল শিব ও পার্বতীর। 

শিবের সঙ্গে হিমালয়-দুহিতা পার্বতীর বিবাহ বেশ কিছু পুরাণেই মহাসমারোহে উল্লিখিত রয়েছে। দোজবরে বয়স্ক পাত্রের সঙ্গে কন্যার বিবাহে অসম্মত গিরিরাজ ও মেনকা, পার্বতীর ধনুকভাঙা পণ, তার পরে ভূত-প্রেত বরযাত্রী নিয়ে ভাঙড়ভোলা শিবের বররূপে আগমনের কাহিনি কেবল বাংলার লোকমানসে নয়, ছেয়ে রয়েছে অসংখ্য পুরাণে। সেই কাহিনিকেই ধরে রেখেছে ত্রিযুগীনারায়ণ নামের জনপদ। 


কথিত রয়েছে, শিবের বিবাহ-সংবাদ পেয়ে বিষ্ণু পরম আনন্দিত হন এবং বিবাহ বাসরে উপস্থিত থাকতে চান। বিষ্ণুর উদাহরণে প্রাণীত হন প্রজাপিতা ব্রহ্মাও। তিনি এই বিবাহে পৌরোহিত্য করতে উদ্যোগী হন। বিষ্ণুর আগ্রহে ত্রিযুগীনারায়ণেই এই দৈব বিবাহ সংঘটিত হবে। ত্রিযুগীনারায়ণ মন্দিরে প্রজ্জ্বলিত রয়েছে এক অগ্নিকুণ্ড। মনে করা হয়, হরপার্বতীর বিবাহের হোমকুণ্ড ছিল এটি। এবং আর আগুন সেই সময় থেকেই জ্বলছে। এবং তা অনন্তকাল জ্বলবে। এই অগ্নিকুণ্ডের ভস্মকে পবিত্র হিসেবে জ্ঞান করেন মানুষ। কুণ্ডে কাঠ আহুতি দিয়ে তার ভস্ম সংগ্রহ এখানকার এক চেনা প্রথা।  

ত্রিযুগীনারায়ণ মন্দিরে কয়েকটি জালাধার রয়েছে। লোকবিশ্বাস, এই কুণ্ডগুলিতে ব্রহ্মা-বিষ্ণু-মহেশ্বর স্নান করেছিলেন। তাঁদের নামানুসারেই এই কুণ্ডগুলির নাম— রুদ্রকুণ্ড, বিষ্ণুকুণ্ড ও ব্রহ্মাকুণ্ড। বিবাহস্থলে ব্রহ্মা যেখানে পুরোহিত হিসেবে অধিষ্ঠান করেছিলেন, সেখানে একটি শিলাখণ্ড ব্রহ্মাশিলা হিসেবে পূজিত হয়। 

Testing

Top Commentators @ sera-songroho.com

Our Partners