জ্ঞানের প্রাচীন উৎস বেদ - সেরা-সংগ্রহ.কম
X

Wednesday, November 23, 2016

জ্ঞানের প্রাচীন উৎস বেদ


বেদের আস্তিকতা সহজ সরল নির্ভেজাল একেশ্বরবাদে বিশ্বাস। প্রভু একক, অদ্বিতীয় এবং সর্বশক্তিমান। দৃশ্যমান সকল শক্তির পেছনে রয়েছে তাঁরই মহাশক্তি। 

সকল আলোর নেপথ্যে রয়েছে তাঁরই মহাজ্যোতি। অঙ্গের নড়াচড়ায় মানবদেহে আত্মার উপস্থিতি যেমন স্বীকৃত হয়, তেমনি স্রষ্টার সৃষ্টির সুপরিকল্পিত গতিশীলতার দিকে তাকালেই মহাশক্তিমান প্রভুকে আমরা উপলব্ধি করতে পারি। -স্বামী সত্যপ্রকাশ সরস্বতী

স্বামী সত্যপ্রকাশ সরস্বতীর ভূমিকা সম্বলিত পন্ডিত সত্যকাম বিদ্যালঙ্কার এর ইংরেজি অনুবাদ The Holy Vedas থেকে কিছু বাণীর সরল বাংলা মর্মার্থ হচ্ছে বেদ কণিকা...

১. সদাসর্বত্র বিরাজমান তন্দ্রা-নিদ্রাহীন সদা সজাগ প্রতিনিয়ত করুণা বর্ষণকারী সর্বশক্তিমান হে প্রভু! আমরা শুধু তোমারই মহিমা স্মরণ করি, তোমারই জয়গান গাই। প্রভু হে! আমাদের সর্বোত্তম আত্মিক পথে আলোকিত পথে পরিচালনা কর। আমরা যেন সবসময় সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকে অনুধাবন করতে পারি। [ঋগ্বেদ : ৩.৬২.১০]

২. সত্যজ্ঞানী তিনিই, যিনি জানেন প্রভু এক এবং অদ্বিতীয়। তিনি সর্বশক্তিমান এবং সর্ববিষয়ে একক ক্ষমতার অধিকারী। প্রাণ এবং নিষ্প্রাণের সবকিছুই তাঁর নখদর্পণে। সকল ক্ষমতার কেন্দ্র তিনি একক অনন্য। [অথর্ববেদ : ১৩.৫.১৪-২১]

৩. স্বর্গীয় জ্যোতি ও আনন্দ উপলব্ধির প্রতীক ‘ওম’ স্থাপিত হোক তোমার হৃদয়ে অনন্তকালের জন্যে। [যজুর্বেদ : ২.১৩]

৪. মহাপ্রভুর দৃষ্টিতে কেউই বড় নয়, কেউই ছোট নয়, সবাই সমান। প্রভুর আশীর্বাদ সবারই জন্যে। [ঋগ্বেদ : ৫.৬০.৫]

৫. হে নেতা! হে পুরোধা! ঈশ্বরের গুণাবলিতে গুণান্বিত হও। [যজুর্বেদ : ১.১৮]

৬. অলস মস্তিষ্ক কুচিন্তার সহজ শিকার। [ঋগ্বেদ : ১০.২২.৮]

৭. মন চলে যায় আকাশে, পাতালে, পাহাড়ে, সাগরে। মনকে নিয়ে আসো নিজেরই অন্তরে, যেন তা থাকে তোমারই নিয়ন্ত্রণে। [ঋগ্বেদ : ১০.৫৮.২]
 [ads-post]
৮. স্রষ্টা প্রেমের অমিয়ধারা প্রবাহিত হোক আমাদের অন্তরে, আমাদের শিরায় শিরায়। তাহলেই আমরা সকল প্রতিকূলতার মুখোমুখি দাঁড়াতে পারবো প্রশান্ত প্রত্যয়ে। [ঋগ্বেদ : ৮.৩২.১২]

৯. হে নেতা! হে পুরোধা! পাহাড়ের মতো দৃঢ় ও অজেয় হও। কর্তব্য পালনে সবসময় অবিচল থাকো। [যজুর্বেদ : ১২.১৭]

১০. যারা সৎপথে কঠোর পরিশ্রম করে এবং পরস্পরকে সহযোগিতা করে তাদেরকেই প্রভু সাহায্য করেন। [ঋগ্বেদ : ৪.২৩.৭]

১১. সৎকর্ম মানুষকে দৃঢ় ও সাহসী করে। দেহ-মনকে রোগ ও পাপ থেকে মুক্ত রাখে। সকল প্রতিকূলতার ওপর বিজয়ী করে। [ঋগ্বেদ : ৫.১৫.৩]

১২. হে মানুষ স্বনির্ভর হও! বাইরের সাহায্যের দাসে পরিণত হয়ো না। [যজুর্বেদ : ৬.১২]

১৩. হে প্রভু! আমাদের সর্বোত্তম সম্পদ দান কর; দান কর কালজয়ী মন, আত্মিক সুষমা, অনন্ত যৌবন, আলোকোজ্জ্বল রূপ আর মধুর বচন। [ঋগ্বেদ : ২.২১.৬]

১৪. হে মানুষ! উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে আন্তরিকতার সাথে পরিশ্রম কর। দারিদ্র্য ও অসুস্থতা তোমার কাছ থেকে পালিয়ে যাবে। [অথর্ববেদ : ৬.৮১.১

১৫. কখনো জুয়া খেলবে না। পরিশ্রমলব্ধ সম্পদ ভোগ কর ও পরিতৃপ্ত থাকো। পরিশ্রমলব্ধ সম্পদই সত্যিকারের সুখ দিতে পারে। [ঋগ্বেদ : ১০.৩৪.১৩]

১৬. জীবনের প্রতিটি স্তরে সব ধরনের ঋণ থেকে মুক্ত থাকো। [অথর্ববেদ : ৬.১১৭.৩]

১৭. হে নেতা! হে পুরোধা! নির্ভীকভাবে সত্যভাষণের নৈতিক শক্তিতে তোমাকে বলীয়ান হতে হবে। [ঋগ্বেদ : ৮.৪৮.১৪]

১৮. স্বনির্মিত সহস্র শৃঙ্খলে মানুষই নিজেকে বন্দি করে রেখেছে। [ঋগ্বেদ : ৫.২.৭]

১৯. হে মানুষ! ওঠো! দাঁড়াও! পতিত হওয়া তোমার স্বভাবজাত নয়। জ্ঞানের আলোকবর্তিকা শুধুমাত্র তোমাকেই দেয়া হয়েছে যা দিয়ে তুমি সকল অন্ধকূপ এড়িয়ে যেতে পারো। [অথর্ববেদ : ৮.১.৬]

২০. কর্কশ স্বরে কথা বলো না, তিক্ত কথা যেন মুখ ফসকে বেরিয়ে না যায়।[যজুর্বেদ : ৫.৮]

২১. হে প্রভু! সামর্থ্য দাও উদ্দীপনাময় সুন্দর ও সাবলীল কথা বলার। [ঋগ্বেদ : ১০.৯৮.৩]

২২. সত্যিকারের ধার্মিক সবসময় মিষ্টভাষী ও অন্যের প্রতি সমমর্মী। [সামবেদ : ২.৫১]

২৩. সমাজকে ভালবাসো। ক্ষুধার্তকে অন্ন দাও। দুর্গতকে সাহায্য কর। সত্য-ন্যায়ের সংগ্রামে সাহসী ভূমিকা রাখার শক্তি অর্জন কর। [ঋগ্বেদ : ৬.৭৫.৯]

২৪. নিঃশর্ত দানের জন্যে রয়েছে চমৎকার পুরস্কার। তারা লাভ করে আশীর্বাদধন্য দীর্ঘজীবন ও অমরত্ব। [ঋগ্বেদ : ১.১২৫.৬]

২৫. এসো প্রভুর সেবক হই! গরিব ও অভাবীদের দান করি। [ঋগ্বেদ : ১.১৫.৮]

২৬. নিজের ভেতরের শত্রুকে বিনাশে সক্ষম এমন উপদেশাবলির প্রতি মনোযোগী হও। [যজুর্বেদ : ৬.১৯]

২৭. ধনুকের তীর নিক্ষেপের ন্যায় হৃদয় থেকে ক্রোধকে দূরে নিক্ষেপ কর। তাহলেই তোমরা পরস্পরের বন্ধু হতে ও শান্তিতে বসবাস করতে পারবে। [অথর্ববেদ : ৬.৪২.১]

২৮. জীবনের প্রতিটি স্তরে অনিয়ন্ত্রিত রাগ-ক্রোধ থেকে দূরে থেকো। [সামবেদ : ৩০৭]

২৯. একজন নিরীহ মানুষের ক্ষতি যে করে, সে মানুষ নয়, সে হায়েনা। তার কাছ থেকে দূরে থাকো। [ঋগ্বেদ : ২.২৩.৭]

৩০. ঈর্ষা থেকে হৃদয়কে মুক্ত কর। সহিংসতা থেকে বিরত থাকো। [সামবেদ : ২৭৪]

৩১. যে ক্ষুধার্ত সঙ্গীকে অভুক্ত রেখে একাই ভূরিভোজ করে এবং যে স্বার্থপর তার সাথে কখনো বন্ধুত্ব করো না। [ঋগ্বেদ : ১০.১১৭.৪]

সূত্র: আলোকিত জীবনের হাজার সূত্র-কোয়ান্টাম কণিকা বই,মহাজাতক

Post Top Ad


Download

click to begin

6.0MB .pdf