বাংলাদেশের দর্শনীয় স্থান সমূহঃ ইনানী সমুদ্র সৈকত - সেরা-সংগ্রহ.কম
X

Thursday, February 2, 2017

বাংলাদেশের দর্শনীয় স্থান সমূহঃ ইনানী সমুদ্র সৈকত

ইনানী সমুদ্র সৈকত



কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত থেকে প্রায় বিশ কিলোমিটার দূরে রয়েছে আরেক আকর্ষণীয় সমুদ্রসৈকত। হিমছড়ি ছাড়িয়ে এই সৈকতের নাম ইনানী। এখানে রয়েছে বিস্তীর্ণ পাথুরে সৈকত। সমুদ্র থেকে ভেসে এসে এখানকার বেলাভূমিতে জমা হয়েছে প্রচুর প্রবাল পাথর। এ সমুদ্রসৈকতটির সাথে মিল খুঁজে পাওয়া যায় সেন্টমার্টিন সমুদ্রসৈকতের। ইনানী সৈকতে দাঁড়িয়ে যে কেউ ভুল ভেবে বসতে পারে সেন্টমার্টিন ভেবে। চমৎকার ছিমছাম, নিরিবিল। প্রবালের উপর দাড়িয়ে সাগর দেখার মঝাই আলাদা। সাগরের ঢেউ গুলো প্রবালের গায়ে আঘাত লেগে পায়ের কাছে আছড়ে পর। স্বচ্ছ জলের তলায় দেখা যায় বালুর স্তর। ভাগ্য ভাল হলে পেয়ে যেতে পারেন হরেক রকম মাছের ছুটোছুটি। এখানে বিস্তৃনর্ বালুকা বেলায় ছুটে বেড়ায় হাজারো লাল কাকড়ার দল।

ইনানী বিচ যেমন সুন্দর আর আকর্ষনীয় ঠিক তেমনই রোমাঞ্চকর কক্সবাজার হতে যাত্রা পথটি। একদিকে মেরিন ড্রাইভিং আরেকদিকে সাগর আর পাহাড়, ঝর্ণার নৈর্সগিক দৃশ্য। বোরিং তো প্রশ্নই আসে না। ভাগ্য ভাল থাকলে নায়ক নায়িকাদের পথিমধ্যে স্যুটিং আপনার আনন্দকে দ্বিগুন করে দেবে। যারা হৈ হুল্লুর পছন্দ করেন, বন্ধুদের নিয়ে উল্লাস করতে ভালবাসেন তাদের জন্য খোলা ছাদের জিপ উত্তম বাহন ইনানী যাবার জন্য। ক্ষিপ্র গতিতে যখন জিপ ছুটে চলে খোলা জিপের উপর দাড়িয়ে দুপাশে তাকালে মনে হবে যেন স্বপ্নে দেশে ভেসে যাচ্ছেন। এটি হতে পারে আপনার জীবনের সেরা অভিজ্ঞতা। পথে লাল রংয়ের স্কুল ড্রেস পরা ছেলেমেয়েদের দেখবেন। আর দুপাশে থাকবে সাগর পারের গাছপালা। এরপর বেশ উচু একটা ব্রীজপার হয়ে শুরু হবে হীমছড়ির রাস্তা। রাস্তার একপাশে থাকবে উচু পাহাড় আরেক পাশে সাগর। নানা রকম পাখির কলতান শুনতে শুনতে আপনি রোমাঞ্চিত হবেন। এই রাস্তাটি সেনা বাহিনীর তৈরি করা। যাবার পথে পার হতে হবে সেনাবাহীর একটি ক্যাম্প। পাহাড়ে নানা রকম ঝোপঝারের সাথে সাথে সমুদ্র সৈতক পাড়ে দেখা যায় সুদুর ঝাউ গাছের সারি। মাঝে মাঝে নারিকেল গাছের এক পায়ে দাড়িয়ে থাকা সৌন্দর্যের ভিন্ন এক মাত্রা যোগ করে। জায়গায় জায়গায় দেখবেন পাহাড়ী ছোট ছোট ঝড়না। শুকনা মৌসুমে হয়তো সবটাতে পানি দেখবেন না। পথে গাড়ী থামিয়ে ঝড়নার পারে ঘুরে আসতে পারেন। রাস্তার ওপর পাশে সাগর। মাঝে মাঝে দেখবেন জেলে নৌকা বালির উপর সারি করে রাখা আছে। ইনানী যেতে হবে অবশ্যই জোয়ার ভাটার হিসেব করে। কেননা জোয়ারের সময় গেলে সৈকতের এসব প্রবাল পাথর দেখা যাবে না। তাই যেতে হবে কিন্তু ভাটার সময়। খুব সকাল সকাল যাওয়াই ভাল। তাতে সুযোগ হাত ছাড়া হবার সম্ভবনা কম থাকবে এবং দুপুরের ভীতর ফিরে আসতে পারবেন।
 [ads-post]
গন্তব্যে পৌছার পর আপনার মুখ থেকে একটা শব্দ বের হবে-"ওয়াও"। এ বীচ টা কক্সবাজার মেইন বীচ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। সাগর পাড়ে বালির উপর বিস্তীর্ণ জুড়ে ছড়িয়ে আছে শত শত বছরের পুরাতন পাথর। সাগরের ঢেউ আছড়ে পড়ছে পাথরের উপর। আর আপনি যদি পাশে থাকেন ধরে নিতে হবে আপনার সমুদ্র স্নানের জন্য সাগর আগেই অর্ধেক প্রস্তুত করে নিয়েছে আপনাকে। গোসল না করে ফিরে আসতে মন চাইবেনা।

যেভাবে যেতে হবে

ইনানী এবং হিমছড়ি কিন্তু একই ভ্রমণে ঘুরে আসা যায়। সময় আর খরচ তাতে বেঁচে যাবে অনেক। সকালে গিয়ে বিকেলের মধ্যেই বেড়িয়ে আসা যাবে দুটি জায়গা থেকে। কক্সবাজার কলাতলী সৈকত লোকাল জিপে গেলে যাওয়া-আসার ভাড়া লাগবে ১৮০-২০০ টাকা। আর রিজার্ভ জিপ নিলে লাগবে ১৮০০-২৫০০ টাকা। একটি জিপে ১০-১৫ জন অনায়াসেই ঘুরে আসা যায়।

Post Top Ad


Download

click to begin

6.0MB .pdf