বাংলাদেশের দর্শনীয় স্থান সমূহঃ সোনারচর সমুদ্র সৈকত - সেরা-সংগ্রহ.কম
X

Thursday, February 2, 2017

বাংলাদেশের দর্শনীয় স্থান সমূহঃ সোনারচর সমুদ্র সৈকত

সোনারচর সমুদ্র সৈকত


বাংলাদেশে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের পরে আর একটি সৈকতের নাম জানতে চাইলে সবাই এক বাক্যে বলবে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা। কিন্তু দেশের বেশীর ভাগ লোকই জানেন না যে এই জেলাতেই রয়েছে আমাদের দেশের আর একটি দৃষ্টিনন্দন ও নয়ানাভিরাম সমুদ্র সৈকত। নাম সোনারচর সমুদ্র সৈকত।

পটুয়াখালী জেলা সদর থেকে প্রায় দেড় শ’ কিলোমিটার এবং গলাচিপা উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দক্ষিণে সাগরের মাঝ বরাবরে এর অবস্থান। গত কয়েক বছরে পর্যটকদের কাছে সোনার চর বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বিপদসঙ্কুল দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থা উপেক্ষা করে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য অবলোকন করতে অনেকেই যাচ্ছে সোনার চরে। সাগরের উত্তাল ঢেউ। জেলেদের মাছ ধরা। বিশাল বনাঞ্চল ছাড়াও সেখানে দেখার আছে অনেক কিছু। বিশেষ করে প্রায় দশ কিলোমিটার লম্বা বিশাল সমুদ্র সৈকত জুড়ে কোটি কোটি লাল কাঁকড়ার বিচরণ পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। দেখে মনে হবে যেন লাল কাঁকড়ার ভিন্ন এক জগত। গোটা সৈকত লাল গালিচা বিছিয়ে রেখেছে।

পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলা সদর থেকে সড়কপথে ১০ কিলোমিটার দক্ষিণে পানপট্টি লঞ্চঘাট। সেখান থেকে সামনে এগিয়ে গেলেই আগুনমুখা মোহনা। ট্রলার কিংবা লঞ্চযোগে আগুনমুখা মোহনা থেকে ঘণ্টা তিনেক এগুলেই চোখে পড়বে মায়াবী দ্বীপচর তাপসী। তাপসীর বাঁকে পৌঁছাতেই সোনারচরের হাতছানি। তাপসী থেকে ৩০ মিনিটের পথ সামনে এগুলেই সোনারচর। প্রায় ১০ কিমি দীর্ঘ একটি অনন্য সুন্দর চোখ জুড়ানো সমুদ্রসৈকত।

বাইরে থেকে আসা বেশিরভাগ পর্যটকই পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটায় ঘুরে চলে যান। কিন্তু সোনারচর, রূপারচর ও চরহেয়ারসহ সমুদ্র ফুলে জেগে ওঠা সবুজ বনাঞ্চলের সন্ধান জানেন না অনেকেই। সাগরের বুক চিরে জেগে ওঠা প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের দ্বীপ সোনারচর। এ দ্বীপের একই জায়গায় দাঁড়িয়ে অবলোকন করা যায় সূর্যের উদয়াঅস্ত। এর চারদিকেই দিগন্ত-বিস্তৃত সাগরের অথৈ নীল জলরাশি। উথালপাতাল ঢেউ দীর্ঘ সমুদ্র সৈকতে জোয়ারের সময় আছড়ে পড়ে দৃষ্টিনন্দনভাবে। ভোরের সূর্য কোমল আলো ছড়ায় সোনারচরের চিক চিক বালুকণায়। অস্তগামী সূর্যের লালিমা তেমনি মায়া ঢালে নিভৃতের আঁধারে। অপরূপ সৌন্দর্যের আধার সোনারচর বর্ণিল শোভায় ঘেরা। দূর থেকে মনে হয় কোনো শিল্পীর হাতে আঁকা নিপুণ ছবি। প্রকৃতি যেন অকৃপণ হাতে উজাড় করে সৃষ্টি করেছেন এ দ্বীপটিকে।

নয়নাভিরাম সৌন্দর্যের এক আধার এই সোনারচর সমুদ্র সৈকত। শেষ বিকালের রোদের আলো যখন সোনারচরের বেলেভূমিতে পড়ে, তখন পুরো দ্বীপটাকেই মনে হবে যেন কাঁচা সোনার প্রলেপ দেয়া একটি সোনালি থালা। সাগরে যখন জোয়ারের পানি উথলে ওঠে, তখন অন্য এক সৌন্দর্য বিকশিত হয় সোনারচরে। তটরেখায় আছড়ে পড়ে ছোট-বড় ঢেউ। গলে পড়ে ঝুরঝুরে বালি। লোনাপানিতে ঘন সবুজ অরণ্যের নিবিড় ছাউনি।
 [ads-post]
ইতিহাস

সোনারচরে সোনা নেই ঠিকই কিন্তু আছে সোনার অঙ্গের বালি। সূর্যের প্রখর রোদ যখন বালির উপর পরে দূর থেকে তা দেখতে সোনার মতই। এভাবে ৩০ এর দশকে জেগে ওঠা অপার সম্ভাবনা সৌন্দর্যের দ্বীপটির নাম পাল্টে গিয়ে হয় সোনারচর।

যেভাবে যেতে হবে

ঢাকা থেকে সুবিধাজনক লঞ্চ উপায়ে কিংবা বাসে করে পটুয়াখালী। লঞ্চই উত্তম পন্থা। পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা সদর থেকে সড়কপথে ১০ কিলোমিটার দক্ষিণে পানপট্টি লঞ্চঘাট। সেখান থেকে ইঞ্জিনচালিত ট্রলারযোগে আগুনমুখা মোহনা পেরিয়ে দক্ষিণে যাত্রা। ডিগ্রি নদীর বুক চিরে একটু বাঁয়ে যেতেই আরেকটি নদী—বুড়া গৌরাঙ্গ। সামনে গিয়ে বাঁক ঘুরতেই দাঁড়ছিড়া নদী। দু’পাশে সারি সারি ঘন ম্যানগ্রোভ বাগান। নদীর বুকজুড়ে গাংশালিকের অবাধ বিচরণ। সামুদ্রিক হাওয়ার মৃদুমন্দ ছোঁয়া। সব মিলিয়ে এক অন্যরকম ভালোলাগার অনুভূতি। ট্রলার কিংবা লঞ্চযোগে আগুনমুখা মোহনা থেকে ঘণ্টা তিনেক এগুলেই চোখে পড়বে মায়াবী দ্বীপচর তাপসী। তাপসীর বাঁকে পৌঁছাতেই সোনারচরের হাতছানি। তাপসী থেকে ৩০ মিনিটের পথ সামনে এগুলেই সোনারচর।

কোথায় থাকবেন

থাকতে হবে পটুয়াখালী শহরে কিংবা গলাচিপায়। এখানে বেশ কয়েকটি হোটেল রয়েছে।

ফটো গ্যালারিঃ