যক্ষা কি? যক্ষা হলে কি করবেন? - সেরা-সংগ্রহ.কম
X

Tuesday, June 12, 2018

যক্ষা কি? যক্ষা হলে কি করবেন?

যক্ষা কি?



যক্ষা একটি জিবানু ঘটিত মারাত্মক সংক্রামক রোগ যা "মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকিউলোসিস" নামক জিবানু দিয়ে হয়ে থাকে।

যক্ষা কি ভাবে ছড়ায়?


এটি একটি বায়ু বাহিত রোগ, যা কফে জিবানু যুক্ত যক্ষা রোগীর হাচি, কাশি, থুতুর মাধ্যমে বাতাসে মেশে এবং সুস্থ শরিরে সংক্রমিত হয়।

যক্ষা রোগের লক্ষণ সমূহঃ

1.       এক নাগাড়ে দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে কাশি।
2.       মৃদু জ্বর, ( সন্ধ্যায় জ্বর আসে, রাতে ঘাম দিয়ে ছেড়ে যায়)
3.      কফের সাথে রক্ত আসতে পারে নাও আসতে পারে।
4.       বুকে ব্যথা
5.      শ্বাস প্রশ্বাসে কষ্ট হওয়া
6.       খাবারে অরুচি
7.      ওজন কমে যাওয়া
8.      শরীরের বিভিন্ন গ্রন্থি হঠাৎ ফুলে যাওয়া।


Ø  কখনো কখনো ২নং থেকে ৭ নং এ বর্নিত উপসর্গ গুলো বাদ দিয়ে কেবল মাত্র ১ নং এ বর্নিত উপসর্গ থাকলেও যক্ষা রোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা থাকে।
Ø  ফুসফুস বহির্ভূত যক্ষার ক্ষেত্রে ১,৩,৪ ও ৫ নং উপসর্গ উপস্থিত নাও  থাকতে পারে।
Ø  ফুসফুস বহির্ভূত যক্ষার ক্ষেত্রে ২, ৬, ৭, ৮ নং উপসর্গ সহ আক্রান্ত স্থান ভেদে লক্ষনের ভিন্নতা লক্ষ করা যায়।


যক্ষা রোগ কত প্রকার?


যক্ষা রোগ প্রধানত দুই প্রকার। যথাঃ

১. ফুসফুসের যক্ষা
২. ফুসফুস বহির্ভুত যক্ষা

১. ফুসফুসের যক্ষা আবার দুই প্রকার-

·         কফে জিবানু যুক্ত যক্ষাঃ যখন একজন সম্ভাব্য যক্ষা রোগীর কফ পরিক্ষা করে কফে সরাসরি যক্ষা রোগের জিবানুর ( মাইকোব্যাক্টেরিয়াম টিউবারকিউলোসিস) এর উপস্থিতি দেখা যায় তখন এ ধরনের যক্ষা রোগীদের Sputum Smear Positive TB Patient বা কফে জিবানু যুক্ত যক্ষা রোগী বলা হয়।

এখানে বলে রাখা ভাল যে, কেবল মাত্র এ ধরনের যক্ষা রোগই ছোঁয়াচে হয়ে থাকে।

এ ক্ষেত্রে আক্রান্ত রোগী বিশেষ শতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। যেমনঃ

1.       যেখানে সেখানে কফ, থুতু ফেলা যাবে না। নিদৃষ্ট পাত্রে ফেলে মাটি চাপা দিতে হবে।
2.       হাচি, কাশি দেওয়ার সময় মুখে কাপড় ব্যবহার করুন
3.      পরিবারে পাঁচ বছরের কম বয়সি বাচ্চা থাকলে আপনার স্বাস্থ্য কর্মীকে অবহিত করুন এবং IPT খাওয়ান।
4.       কফে জিবানু যুক্ত যক্ষা রোগীর সংস্পর্শে আছে এমন করো এক সপ্তাহের বেশি কাশি থাকলে, জ্বর থাকলে, ওজন কমতে থাকলে দেরী না করে আপনার নিকটস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন।

·         কফে জিবানু মুক্ত ফুসফুসের যক্ষাঃ যখন উপরোক্ত লক্ষন যুক্ত সম্ভাব্য কোন যক্ষা রোগীর কফ পরিক্ষা করে কফে জিবানুর উপস্থিতি পাওয়া যায় না, কিন্তু বুকের এক্সরে বা রক্ত পরীক্ষা সহ অন্যান্য পরীক্ষা নিরিক্ষার মাধ্যমে চিকিৎসক উক্ত রোগীকে একজন যক্ষা রোগী হিসাবে সনাক্ত করেন তখন তাকে কফে জিবানু মুক্ত ফুসফুসের যক্ষা বলে।

এ ধরনের যক্ষা ছোয়াচে নয়। রোগীর সংস্পর্শে যারা থাকেন তাদের কোন বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের প্রয়োজন নেই। নিয়ম মেনে ছয় মাস ঔষধ সেবনে এ ধরনের যক্ষা রোগী সম্পূর্ণ আরগ্য লাভ করে।

 ২. ফুসফুসের বাইরের যক্ষাঃ

এ ধরনের যক্ষা রোগের সংক্রমন ফুসফুসের বাইরে হয়ে থাকে। সবচেয়ে বেশি দেখা যায়- ঘাড়, গলা, ফুসফুসের আবরনী পর্দা, বগল, কুচকি, হাড়, মস্তিস্কের আবরনী পর্দা, স্তন, চামড়া, অন্ডকোষ, চোখ ইত্যাদি। ফুসফুস বহির্ভুত যক্ষার চিকিৎসা পদ্ধতি ও ঔষধ ফুসফুসের যক্ষার মতো হলেও অনেক ক্ষেত্রেই ফুসফুস বহির্ভুত যক্ষার চিকিৎসা দির্ঘায়িত হয়ে থাকে।

যক্ষার প্রধান লক্ষন ২ সপ্তাহের কাশি এ ক্ষেত্রে প্রযোয্য হয় না। আক্রান্ত স্থান ভেদে লক্ষন সমূহ ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। তবে অন্যান্য লক্ষন সমূহ ফুসফুস বহির্ভুত যক্ষার ক্ষেত্রেও একই ভাবে বর্তমান থাকে।

এ ধরনের যক্ষা ছোয়াচে নয়। রোগীর সংস্পর্শে যারা থাকেন তাদের কোন বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের প্রয়োজন নেই। নিয়ম মেনে ছয় মাস ( কোন কোন ক্ষেত্রে আরও বেশি সময়) ঔষধ সেবনে এ ধরনের যক্ষা রোগী সম্পূর্ণ আরগ্য লাভ করে।



ঝুকি পূর্ণ জনগোষ্ঠী কারা?


যক্ষা রোগের সবচেয়ে ঝুকি পূর্ণ শ্রেণীর মধ্যে রয়েছে - বস্তিবাসী, ভাসমান জনগোষ্ঠী, ভিক্ষুক, কলকারখানার শ্রমিক যেমন- পাটকল শ্রমিক, রং শিল্পের সাথে জড়িত শ্রমিক ইত্যাদি, এইসআইভি আক্রান্ত রোগী, পাঁচ বছরের নিচের শিশু, ধুমপায়ী শ্রেনী, মাদকাসক্ত শ্রেনী, কফে জিবানু যুক্ত যক্ষা রোগীর সংস্পর্শে থাকা ব্যক্তি


যক্ষা প্রতিরোধে করনীয়ঃ


·         জনসচেতনতা সৃষ্টি
·         কফে জিবানু যুক্ত রোগী সনাক্তকরণ ও জাতীয় যক্ষা নিয়ন্ত্রন কর্মসূচীর আয়তায় চিকিৎসা প্রদান।
·         কফে জীবানু যুক্ত রোগীদের সুস্থ ব্যক্তিদের থেকে পৃথক করন।
·         কফে জিবানু যুক্ত রোগীর সংস্পর্শে থাকা ব্যক্তিদের এক সপ্তাহের বেশি কাশি সাথে জ্বর সহ অন্যান্য লক্ষন গুলো দেখা দিলেই জাতীয় যক্ষা নিয়ন্ত্রন কর্মসূচীর অধীনে বুকের এক্সরে করাতে হবে।


যক্ষার লক্ষন দেখা দিলে কি করবেন?


বাংলাদেশের সর্বত্রই যক্ষার রোগ নির্নয় এবং চিকিৎসা সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে প্রদান করা হয়ে থাকে। দেশের যে কোন সরকারী স্বাস্থ্য কেন্দ্র, এনজিও অফিস থেকে এই সেবা পাওয়া যায়। তাই উপরোক্ত লক্ষন সমূহ দেখা দিলে আর দেরি না করে নিকটস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্র বা সরকারি হাসপাতালে যোগাযোগ করুন। পরিক্ষায় যক্ষা ধরা পড়লে নিয়ম মেনে ৬ মাস বা ডাক্তারের পরামর্শ মতো চিকিৎসা গ্রহন করুন। মনে রাখবেন, যক্ষা এখন আর কোন মারন ব্যাধি নয়। নিয়মিত চিকিৎসায় যক্ষা সম্পূর্ণ ভালো হয়।


Post Top Ad


Download

click to begin

6.0MB .pdf