অনিদ্রা রোগ থেকে মুক্তির ঘরোয়া উপায় - সেরা-সংগ্রহ.কম

Sunday, December 11, 2016

অনিদ্রা রোগ থেকে মুক্তির ঘরোয়া উপায়





ঘড়ি দেখেই কি রাতের পর রাত পার করে দেন? সারা রাত ঘুমের দেখা না পেয়ে যখন ফজরের আযান শুনে আপনি দীর্ঘশ্বাস ফেলেন, তখন আর বুঝতে বাকি থাকে না যে আপনি অনিদ্রা রোগ-এ ভুগছেন। অনিদ্রা রোগ মানুষের জীবনে অভিশাপ সরূপ। ছাগল বা ভেড়া গুণে, ১০০ থেকে ১ পর্যন্ত উল্টা পড়ে অথবা ধীর স্থির গান শুনেও যখন ঘুমের দেশের রানী ঘুম হয়ে আসতে চায় না, তাদের জন্য আমাদের আজকের ঘরোয়া টিপস।

উষ্ণ জলে স্নান করে দেখেছেন কি?

অনেক ন্যাচুরোপ্যাথিক চিকিৎসকরা মনে করেন যে উষ্ণ গরম পানির সাথে এপসম লবন মিশিয়ে গোসল করলে ঘুম ভাল হয়। এটি আপনার শরীরের বিভিন্ন এনডরফিন নিঃসরণের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয় যা আপনাকে নিশ্চিন্ত রাখে। ফলে আপনার অনিদ্রা রোগ ভাল হওয়ার সম্ভবনা বেড়ে যায়।

আকুপাংচার করতে পারেন

অনিদ্রা রোগ চিকিৎসা করতে আকুপাংচার ব্যবহারের ব্যাপারে বিভিন্ন মতভেদ রয়েছে। অনেকের মতে এটার কার্যকর কোন প্রভাব নেই আবার অনেকের মতে এটি খুবই উপকারী। মহিলাদের জন্য অ্যাবডমিনাল আকুপাংচার উপকারী, তবে কারণের উপর নির্ভর করে তা পরিবর্তন করতে হয়। আকুপাংচার করার আগে অভিজ্ঞ আকুপাংচারিস্টের কাছ থেকে পরামর্শ নিন।
 [ads-post]

অ্যারোমা থেরাপি ভাল কাজ করে

ঘুমের জন্য এটি বহুল প্রচলিত একটি পদ্ধতি অ্যারোমা থেরাপি। কিছু এসেনশিয়াল অয়েল এবং গাছের উপাদানের ভাপ গ্রহণ করলে আপনার শরীরের হরমোনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায় এবং কেমিক্যালের নিঃসরণের পরিমাণ বেড়ে যায়। ফলে আপনার অনিদ্রা রোগ দূর হয়ে যায়।


সুগার জাতীয় খাবার গ্রহন করে দেখতে পারেন

সামান্য পরিমাণ মিষ্টি জাতীয় খাবার গ্রহণ করলে শরীরে ইনসুলিনের মাত্রা ঠিক থাকে এবং সেরোটোনিন নামক একটি হরমোন নিঃসৃত হয় যা আমাদের ঘুমের পরিমাণ ঠিক রাখতে সাহায্য করে। এভাবে সুগার অনিদ্রা রোগ থেকে মুক্তি পেতে সহায়তা করে।

মেলাটোনিন এবং ম্যাগনেসিয়াম

মেলাটোনিন শরীরের ভেতরের সময় সূচী ঠিক রাখতে সাহায্য করে। ফলে যখন ঘুমানোর দরকার তখনি ভেতর থেকে সাড়া পাওয়া যায়। ট্রিপ্টোফ্যান কেমিক্যাল সেরোটোনিন নিঃসরণের হার বাড়িয়ে দেয় যা মেলাটোনিন তৈরি করতে সাহায্য করে। দুধ বা মধুতে থাকা সুগার ট্রিপ্টোফ্যান কেমিক্যাল প্রস্তুত করতে সাহায্য করে। তবে খুবই অল্প পরিমাণে খেতে হবে। ম্যাগনেসিয়ামও ট্রিপ্টোফ্যান কেমিক্যাল তৈরিতে সাহায্য করে কিন্তু এর পদ্ধতি ভিন্ন। ম্যাগনেসিয়াম নার্ভের তাড়না কমিয়ে দেয়। নার্ভ শান্ত থাকে। ফলে শরীর হালকা এবং দুশ্চিন্তা মুক্ত থাকে। আপনার ঘুম ভাল হয়। সবুজ শাকসবজি, বীজ, লেন্টিল, ব্রাউন রাইস, এবং কিছু কিছু মাছে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম পাওয়া যায় যা অনিদ্রা রোগ থেকে মুক্তি দিয়ে থাকে।

আপনার শরীরে কি হরমোনের ভারসাম্যহীনতা রয়েছে?

শরীরের ভেতরে হরমোনের ভারসাম্যতা হারিয়ে গেলে সিরকাডিয়ান রিদম, অন্ত্রের ভাঙ্গন এবং শরীরে অস্থিরতার সৃষ্টি হয়। ইনসোমনিয়া দূর করতে হলে হরমোনের ভারসাম্য থাকা অত্যন্ত জরুরি। সুতরাং নিয়মিত প্রয়োজনীয় ভিটামিন এবং মিনারেল গ্রহণ করতে হবে।

সতর্কতা

বর্তমান যুগে অনিদ্রা অনেক বড় একটি সমস্যা। যদিও আচরণগত পরিবর্তন এনে এ সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব; তবে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে কাজ করা উচিৎ।


স্বাস্থ্য বিষয়ক আরও কিছু পোষ্ট

Post Top Ad

Wikipedia

Search results